চাকরিচ্যুতির ভয়ে কর্মকর্তারাও
jugantor
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ
চাকরিচ্যুতির ভয়ে কর্মকর্তারাও
সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি শ্রমিকদের

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে অবসরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশের পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হলেও শ্রমিকদের মতো কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে পাটকলগুলোর কর্মকর্তা ও স্টাফরা আশঙ্কা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান। এদিকে, খুলনায় টাকা পরিশোধের ধরন দেখে এক পাটকল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও সারা দেশে পাটকলগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজও একই কর্মসূচি চলবে বলে জানা গেছে। চলছে মিলগেটে সমাবেশ, রাজপথে শ্রমিকদের সন্তানদের মানববন্ধন, পাটকলগুলোর অভ্যন্তরে অবস্থান কর্মসূচি। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ ও নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজশাহীর প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেছেন, আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মানি না। আন্দোলন চলবে। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রমভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শ্রমিক নেতারা। বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করার আহ্বান জানালেও তাতে সায় দেননি আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা।

এদিকে, শ্রমিকদের মতো পাটকলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন পাটকলগুলোর এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ইতোমধ্যে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অনেকে যুগান্তরের কাছে টেলিফোনে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি। একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা যারা বিজেএমসির আওতাধীন আছি তারা সবাই উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে দিন যাপন করছি। করোনাকালে অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মতো আমাদেরও ছাঁটাই করা হলে আমাদের বাঁচার পথ থাকবে না। আমাদের অন্য কোথাও চাকরি নেয়া সম্ভব হবে না। অপর এক কর্মকর্তা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটা কুচক্রী মহল বাংলাদেশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। বেশিরভাগ জুট মিলের মালিক বা ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য মিলগুলো সরকারের হাত থেকে নিয়ে এর বিপুল সম্পদ নয়-ছয় করে ভোগ করা। এতে শুধু বিজেএমসির কর্মীদের অসহায় করবে না, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক কোটি লোকের জীবনকে অনিশ্চয়তায় ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের আশা করছি।’

পাটশিল্প কর্মকর্তা সমিতির মহাসচিব ও সরকার সমর্থিত প্রকৌশলী সংগঠনের নেতা প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের উদ্বেগ অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্মকর্তা-স্টাফদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু শ্রমিকদের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া পাটকলগুলো সচল করতে অবশ্যই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী লাগবে। তাদের বাদ দিলে মিল চালু করা হবে কাদের সহায়তায়? যেখানে পাটকলগুলো সচল রাখতে ৯-১০ হাজার স্টাফ প্রয়োজন, সেখানে আমাদের কর্মকর্তা ও স্টাফ মিলে রয়েছে এক থেকে দেড় হাজার। বরং পাটকল চালু হলে আরও কর্মকর্তা-স্টাফ নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে। কাজে এ বিষয়ে কর্মকর্তা-স্টাফদের উদ্বেগের কিছু নেই।

কর্মসূচির প্রতি সংহতি ঐক্যফ্রন্টের : পাটকল শ্রমিকদের কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে করোনাকালে এ চরম দুঃসময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি দাবিও জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এ জোট। মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান জোটটির নেতারা। বিবৃতিদাতারা হলেন- ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারি।

এক শ্রমিকের মৃত্যু! : খুলনা ব্যুরো জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পাটকল শ্রমিক নেতারা এ ঘোষণা দেন। দুপুরে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পাটকল শ্রমিক নেতারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই মিল বন্ধ করতে দেয়া হবে না। তারা বিজেএমসিকে পুনর্গঠন করে মিল চালু রাখার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। বক্তৃতা করেন প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, সাবেক সভাপতি কাউসার আলী মৃধা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, সেলিম আকন, আবুল কালাম জিয়া, নূরুল হক, বেল্লাল হোসেন, শুকুর আলী প্রমুখ।

প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক খেলায়েত হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে টাকা পরিশোধের ধরন দেখে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের আবুল কালাম (৫৭) মাথা ঘুরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা এসএ রশিদ বলেন, মিল বন্ধের ঘোষণার পর থেকেই শ্রমিক আবুল কালাম টেনশন করছিলেন। এছাড়া তিনি নানাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অভয়নগরে পাটকল শ্রমিকদের সমাবেশ : অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, অভয়নগরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল জেজেআই মিলের শ্রমিকরা বিকালে মিল গেটে অবস্থানসহ সমাবেশ করেছে। জেজেআই শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেজেআই সিবিএর সাধারণ সম্পাদক এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মল্লিক, শ্রমিক নেতা জিয়াউদ্দিন পলাশ, গোলাম আজম মিঠু, আবদুল হামিদ, ফিরোজ খান প্রমুখ।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ

চাকরিচ্যুতির ভয়ে কর্মকর্তারাও

সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি শ্রমিকদের
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে অবসরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশের পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হলেও শ্রমিকদের মতো কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে পাটকলগুলোর কর্মকর্তা ও স্টাফরা আশঙ্কা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান। এদিকে, খুলনায় টাকা পরিশোধের ধরন দেখে এক পাটকল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও সারা দেশে পাটকলগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজও একই কর্মসূচি চলবে বলে জানা গেছে। চলছে মিলগেটে সমাবেশ, রাজপথে শ্রমিকদের সন্তানদের মানববন্ধন, পাটকলগুলোর অভ্যন্তরে অবস্থান কর্মসূচি। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ ও নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজশাহীর প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেছেন, আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মানি না। আন্দোলন চলবে। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রমভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শ্রমিক নেতারা। বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করার আহ্বান জানালেও তাতে সায় দেননি আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা।

এদিকে, শ্রমিকদের মতো পাটকলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন পাটকলগুলোর এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ইতোমধ্যে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অনেকে যুগান্তরের কাছে টেলিফোনে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি। একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা যারা বিজেএমসির আওতাধীন আছি তারা সবাই উৎকণ্ঠার ভেতর দিয়ে দিন যাপন করছি। করোনাকালে অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মতো আমাদেরও ছাঁটাই করা হলে আমাদের বাঁচার পথ থাকবে না। আমাদের অন্য কোথাও চাকরি নেয়া সম্ভব হবে না। অপর এক কর্মকর্তা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটা কুচক্রী মহল বাংলাদেশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। বেশিরভাগ জুট মিলের মালিক বা ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য মিলগুলো সরকারের হাত থেকে নিয়ে এর বিপুল সম্পদ নয়-ছয় করে ভোগ করা। এতে শুধু বিজেএমসির কর্মীদের অসহায় করবে না, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক কোটি লোকের জীবনকে অনিশ্চয়তায় ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের আশা করছি।’

পাটশিল্প কর্মকর্তা সমিতির মহাসচিব ও সরকার সমর্থিত প্রকৌশলী সংগঠনের নেতা প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের উদ্বেগ অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্মকর্তা-স্টাফদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু শ্রমিকদের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া পাটকলগুলো সচল করতে অবশ্যই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী লাগবে। তাদের বাদ দিলে মিল চালু করা হবে কাদের সহায়তায়? যেখানে পাটকলগুলো সচল রাখতে ৯-১০ হাজার স্টাফ প্রয়োজন, সেখানে আমাদের কর্মকর্তা ও স্টাফ মিলে রয়েছে এক থেকে দেড় হাজার। বরং পাটকল চালু হলে আরও কর্মকর্তা-স্টাফ নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে। কাজে এ বিষয়ে কর্মকর্তা-স্টাফদের উদ্বেগের কিছু নেই।

কর্মসূচির প্রতি সংহতি ঐক্যফ্রন্টের : পাটকল শ্রমিকদের কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে করোনাকালে এ চরম দুঃসময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি দাবিও জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এ জোট। মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান জোটটির নেতারা। বিবৃতিদাতারা হলেন- ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারি।

এক শ্রমিকের মৃত্যু! : খুলনা ব্যুরো জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পাটকল শ্রমিক নেতারা এ ঘোষণা দেন। দুপুরে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পাটকল শ্রমিক নেতারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই মিল বন্ধ করতে দেয়া হবে না। তারা বিজেএমসিকে পুনর্গঠন করে মিল চালু রাখার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। বক্তৃতা করেন প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, সাবেক সভাপতি কাউসার আলী মৃধা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, সেলিম আকন, আবুল কালাম জিয়া, নূরুল হক, বেল্লাল হোসেন, শুকুর আলী প্রমুখ।

প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক খেলায়েত হোসেন খান জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে টাকা পরিশোধের ধরন দেখে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের আবুল কালাম (৫৭) মাথা ঘুরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা এসএ রশিদ বলেন, মিল বন্ধের ঘোষণার পর থেকেই শ্রমিক আবুল কালাম টেনশন করছিলেন। এছাড়া তিনি নানাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অভয়নগরে পাটকল শ্রমিকদের সমাবেশ : অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, অভয়নগরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল জেজেআই মিলের শ্রমিকরা বিকালে মিল গেটে অবস্থানসহ সমাবেশ করেছে। জেজেআই শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেজেআই সিবিএর সাধারণ সম্পাদক এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মল্লিক, শ্রমিক নেতা জিয়াউদ্দিন পলাশ, গোলাম আজম মিঠু, আবদুল হামিদ, ফিরোজ খান প্রমুখ।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা