একান্ত সাক্ষাৎকারে ব্যাংকের এমডি

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবি ব্যাংক

  হামিদ বিশ্বাস ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থিক দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের এবি ব্যাংক। আদায় বাড়ায় কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আমানত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ বিতরণে সক্ষমতার পাশাপাশি ব্যাংকটির আয়ও বেড়েছে। এতে লোকসান কাটিয়ে ব্যাংকটি এখন লাভের মুখ দেখছে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশও দিতে পারছে। দীর্ঘদিন লভ্যাংশ দিতে না পারার কারণে ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে খাদের কিনারে অর্থাৎ জেড ক্যাটাগরিতে চলে গিয়েছিল। এবার লভ্যাংশ ঘোষণা করায় ব্যাংকটির বি ক্যাটাগরিতে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে আর্থিক অবস্থা উন্নতির গল্প শোনালেন এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আফজাল।

তিনি বলেন, এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই খেলাপি ঋণ আদায়ে। সবার আগে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করি। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করি। এমনকি অনেক প্রভাবশালী ঋণখেলাপির সম্পদ নিলামে তুলতে বাধ্য হই। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কাছে এমন বার্তা যাওয়ার পর বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ আদায়। পাল্টাতে থাকে ব্যাংকটির আর্থিক সূচকের চেহারা। এর সঙ্গে অন্যান্য সূচকেরও উন্নতি হতে থাকে।

ব্যাংকের সার্বিক উন্নতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তারিক আফজাল বলেন, এক বছরে এবি ব্যাংক যে সফলতা অর্জন করেছে, তা এই সময়ে অর্জন করা খুব কঠিন। বলতে গেলে এটা নজিরবিহীন। লোকসানে থাকায় দুই বছর লভ্যাংশ দিতে পারিনি। ফলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকটি ‘জেড’ ক্যাটাগরির মানে চলে যায়। এবার লোকসান কাটিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরির পথে আছি। লভ্যাংশ বিতরণ করা হলেই ক্যটাগরির উন্নতি হবে।

এই সাফল্যের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দক্ষ নেতৃত্ব ও কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ঢেলে সাজানোর ফলে কাজের গতি বেড়ে যায়। যে কারণে এ সাফল্য এসেছে।

তিনি বলেন, পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমী) আলীকে চেয়ারম্যান করা হয়। তিনি অনেক বিদেশি ব্যাংকেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে ব্যাংকিং সেবা ভালো করার জাদুটি তার জানা আছে। সব মিলিয়ে যোগ্য লোককে যোগ্য স্থানে বসানোর উদ্যোগ নেন তিনি। এতে কাজে গতি আসে। ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারিক আফজাল বলেন, এবি ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক সহযোগিতা ছিল। সর্বোপরি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব এবং একের পর এক অভিযানে ঋণ আদায় বেড়েছে। এতে তারল্য সংকট কেটেছে, ফিরেছে মানুষের আস্থা।


এবি ব্যাংক ২০১৯ সালে লক্ষণীয় ব্যবসায়িক উন্নতি করেছে জানিয়ে এমডি বলেন, ২০১৮ সালের শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০১৯ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশে। গত বছর ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় শত ভাগেরও বেশি।

তারিক আফজাল বলেন, ২০১৯ সালে সাময়িক বিরূপ পরিস্থিতিতেও আমানতকারীরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখেছেন। যে কারণে ২০১৯ শেষে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আমানত বাড়ায় ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ঋণ আমানত হার যথাযথভাবে পরিপালন করতে পেরেছে। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও অন্য আর্থিক সূচকগুলোতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানদণ্ড বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের হিসাববিবরণী পর্যালোচনায় নিয়ে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, যা ব্যাংকের মূলধন ভিত্তিকে মজবুত করতে সহায়তা করবে। এবি ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষায় বদ্ধপরিকর। সামাজিক দায়বদ্ধতার দিক থেকেও ব্যাংকটি পিছিয়ে নেই, সব সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে। সরকার ঘোষিত আর্থিক নীতির ধারাবাহিকতায় ব্যাংক তার কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করেছে। এই করোনা দুর্যোগেও ব্যাংকের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচরীরা গ্রাহকদের নিয়মিত সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, অর্থ পাচার, ঋণ অনিয়ম, পর্ষদে অস্থিরতাসহ নানা কারণে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এবি ব্যাংকের প্রায় সব সূচক নিুমুখী ছিল। বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছিল ব্যাংকটি। একের পর এক লোকসানে উল্লিখিত দুই বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দিতে পারেনি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত