কোরবানির পশু

চট্টগ্রামের চাহিদা এবারও মিটবে স্থানীয়ভাবেই

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর চাহিদা স্থানীয়ভাবে মিটবে। বিভিন্ন খামার ও বাসা-বাড়িতে কোরবানিযোগ্য ৬ লাখ ৮৯ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। এ বছর কোরবানি পশুর চাহিদা ৭ লাখ ৩১ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। অল্প কিছু ঘাটতি থাকলেও তা অন্য জায়গা থেকে আসা গবাদি পশুর মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাবে। তবে পশুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে খামারিরা সংশয়ে রয়েছেন। এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে মানুষ উপার্জনহীন হয়ে পড়ায় কোরবানিদাতার সংখ্যা কমতে পারে। এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কম হতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেয়াজুল হক যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর সংকট হবে না। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। সামান্য ঘাটতি থাকলেও তা যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পশুতে পূরণ হয়ে যাবে। পশু নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ায় কয়েক বছর ধরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই চট্টগ্রামের কোরবানি পশুর চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চট্টগ্রামে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৯টি পশু কোরবানি দেয়া হয়। এর বিপরীতে স্থানীয়ভাবে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু উৎপাদিত হয়। প্রতি বছরই স্থানীয়ভাবে পশু পালনের সংখ্যা বাড়ছে। পাঁচ বছরে দ্বিগুণ উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে ৩ লাখ ২০ হাজার গবাদি পশু উৎপাদন হয়। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১১৯, ২০১৭ সালে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৩, ২০১৮ সালে ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৪টি গবাদি পশু উৎপাদন হয়। ২০১৯ সালে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি গবাদি পশু উৎপাদিত হয়েছে। এটি ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সূত্র জানায়, এ বছর চট্টগ্রামে ৭ লাখ ৩১ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হতে পারে। স্থানীয়ভাবে মজুদ আছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু। এর মধ্যে গরু ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭২টি, মহিষ ৫৭ হাজার ১৩১টি, ছাগল ও ভেড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ২১০টি।

কয়েক বছর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে খামারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পশু পালন বেড়েছে। তবে করোনার কারণে এবার তারা আগের মতো দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মালিক মো. ওমর যুগান্তরকে বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আগের বছরের সংখ্যাসহ কিছু নিয়ামকের ভিত্তিতে কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করেছে। তবে এবার করোনার কারণে কোরবানিদাতার সংখ্যা ২০-২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। করোনায় অনেকের আয় কমেছে। আবার আগে যারা ৪-৫টি গরু কোরবানি দিতেন এবার তারা হয়তো ২-৩টি দেবেন। এ অবস্থায় স্থানীয় উৎপাদিত পশু দিয়ে চাহিদা মিটে যাবে বলে মনে হচ্ছে। তবে খামারিরা প্রত্যাশিত দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য সারা বছর অনেক টাকা ব্যয়ে খামারিরা পশু তৈরি করেন। উপযুক্ত দাম না পেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি এমএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে কেনাকাটা করেন তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত