হোসেনপুরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প

কাজ শেষ না হতেই উঠে গেছে রাস্তার কার্পেটিং

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হোসেনপুর উপজেলায় এলজিইডির ৭৮ লাখ টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নজিরবিহীন নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হতে না হতেই ২১ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে কার্পেটিং, ভেঙে পড়েছে রাস্তার বিভিন্ন অংশ। এমন দায়সারা গোছের কাজে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

যথাযথ কাজের দাবিতে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন। নিম্নমানের কাজ পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশিষ্ট কাজ ও বিল পরিশোধ বন্ধ রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে কাজের মান যাচাই ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিইডির পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচির আওতায় হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের সিদলা মোড় থেকে সুরাটি বাজার পর্যন্ত রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ (৫৭০-৪৫০০ মিটার) কর্মসূচির অধীন ৭৮ লাখ টাকার কাজ শেষের দিকে রয়েছে। নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামে স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক উন্নয়ন কাজটি করছে। এ কাজে টেরিফাই, প্ল্যানকোড ও কার্পেটিং কাজ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু টেরিফাই করতে গিয়ে সড়কের পুরনো নষ্ট মালামাল না সরিয়ে নিম্নমানের ইট-সুরকি ও মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উপযুক্তমানের ও পরিমাণে বিটুমিন, কেরোসিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করারও অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে স্থানে স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। এটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়ে ওঠে। এদিকে তিন সপ্তাহে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করে ৪৫ লাখ টাকার মতো উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাকি কাজ ও বিল প্রদান বন্ধ রেখে কার্পেটিংয়ের কাজের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছেন হোসেনপুরের উপজেলা প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ হোসেন জয় দাবি করেন, কার্যাদেশ মোতাবেক তিনি শতভাগ কাজ করেছেন। একটি মহল এ কাজ থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এমন অভিযোগ সাজিয়েছে।

সিদলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন বলেন, কাজে অনিয়ম না পেলে উপজেলা প্রকৌশলী চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করতেন না। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এজেডএম রকিবুল আহসান বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের অভিযোগ জেনে বাকি কাজ বন্ধ ও বিল বন্ধ রেখে ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

হোসেনপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম জাহিদুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ল্যাবরেটরি টেস্ট এবং জেলা পর্যায়ের উচ্চতর তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত