নাজিমউদ্দিন রোডে জলাবদ্ধতা

ড্রেনগুলো আবর্জনার ভাগাড়

  মতিন আব্দুল্লাহ ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেনেজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশন ড্রেনের কোনো কোনো জায়গা ভেঙেচুরে রাস্তার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। আর উন্মুক্ত ড্রেনগুলো এলাকাবাসী আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ড্রেনেজ লাইন সংস্কার জরুরি হয়ে পড়লেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। দুই বছরের মধ্যে ড্রেনেজ লাইনগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী ডিএসসিসির প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছে।

রাজধানীর ভবদহ খ্যাত নাজিমউদ্দিন রোডের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি ছিল দীর্ঘদিনের। আগে মাঝারি বা ভারি বর্ষণে তিন থেকে চার দিন পানি জমে থাকত। এলাকাবাসীর দাবি ও গণমাধ্যমের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নাজিমউদ্দিন রোডের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ড্রেনেজ লাইন নির্মাণ করেন। চাঁনখারপুল থেকে চকবাজার হয়ে সোয়ারীঘাট হয়ে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত এ ড্রেনেজ লাইন। মানসম্মত কাজ না হওয়ায় পাঁচ কোটি টাকাই জলে যাচ্ছে। ভারি বর্ষণে এবারের বর্ষায় এলাকাটিতে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলে চিহ্নিত করেছে ঢাকা ওয়াসা। সরেজমিন দেখা গেছে, নাজিমউদ্দিন রোডের ৪ ও ৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের সামনের সড়ক ভেঙে ড্রেন ভরাট হয়েছে। ৫/১ আল নূর ফার্নিচারের সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে। আর ৩১ নম্বর হোল্ডিংয়ের সামনের ড্রেন সড়কের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, সেখানে ড্রেন ছিল বলে মনেই হয় না। এছাড়া চাঁনখারপুল মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে সোয়ারীঘাট পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে- পুরো ড্রেনটিকে আশপাশের বাসিন্দারা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। চকবাজার অংশের ড্রেনের উপর দোকানদাররা বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে নাজিমউদ্দিন রোডের মুদি দোকানদার মো. জামান যুগান্তরকে বলেন, দুর্বল করে ড্রেনগুলো তৈরি করায় ভারি যানবাহন চলাচলের সময় সেগুলো ভেঙে যাচ্ছে। সরু সড়কে বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকে। যানজটকালে গাড়ির চাকা ড্রেনের উপর উঠিয়ে দেয় চালকরা। এভাবে ড্রেনগুলো ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেনগুলো খুবই দুর্বল করে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে গাড়ির চাকার সামান্য চাপেই ভেঙে যায়। আর ড্রেনের নিচের অংশ পাকা না করায় ইঁদুরে মাটি খুঁড়ে গর্ত করছে। ড্রেনের নিচের অংশ পাকা করে দিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

এলাকাবাসীর অনেকে জানান, ড্রেন নির্মাণে ডিএসসিসি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ড্রেন উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতিবাজ চক্রের পকেটই ভরেছে বেশি। এ কারণে অল্পদিনের ব্যবধানে অকেজো হয়ে পড়ছে এসব ড্রেন। বিদ্যমান ড্রেনগুলো সংস্কার করে পানি নিষ্কাশন সচল না করলে এবারের বর্ষায় এলাকাবাসীকে চরম খেসারত দিতে হবে। ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতনদের কাছে তাদের দাবি, শিগগিরই ড্রেনগুলোর সংস্কার করা হোক।

ড্রেনে আবর্জনা ফেলার বিষয়ে স্থানীয় দোকানদার বলেন, তারা দোকানের প্রতিদিনের আবর্জনা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত লোকদের দেন। তবে সড়কে ভাসমান দোকানদার বা পথচারীদের ফেলানো ময়লা অনেক দিন পরিষ্কার না করায় ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অনেক বাসিন্দা জানান, সারা বছরেও ডিএসসিসিকে ড্রেনগুলো তারা পরিষ্কার করতে দেখেননি। ডিএসসিসির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণ করে পাঁচটি সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক, ড্রেনেজ উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। নাজিমউদ্দিন রোডের বাসিন্দারা নতুন মেয়রের কাছে এলাকার ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান চান।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নাজিমউদ্দিন রোডের ড্রেনেজ উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাকের যুগান্তরকে বলেন, চাঁনখারপুল থেকে সোয়ারীঘাট হয়ে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের ড্রেনেজ লাইন উন্নয়নের জন্য পাঁচ কোটি টাকা যথেষ্ট ছিল না। কেননা ওই রোডে ১০ চাকা বা ১২ চাকার গাড়ি চলে। ওই ধরনের ফিটনেস সম্পন্ন ড্রেনেজ লাইন তৈরি করতে আরও বেশি বাজেটের প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও বলেন, এ ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের ফলে ওই এলাকায় এখন কোনো জলাবদ্ধতা নেই। ড্রেনেজ লাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে কোথাও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হলে সেটা আমরা সংস্কার করব। এটা ডিএসসিসির রুটিন কাজের অংশ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত