করোনার ধাক্কা

সীমাহীন দুর্ভোগে দাঁতের রোগীরা

  আলমগীর হোসেন ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিরপুরের বাসিন্দা অনিক। বয়স ২৫। একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। টানা ২৮ দিন আক্কেল দাঁত ওঠার অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছেন। খাওয়ার পরে বাঁ-দিকের নিচের মাড়ির দাঁতের গর্তে খাদ্যকণা ঢুকে পড়ায় ভয়ংকর যন্ত্রণা হচ্ছে মাসখানেক ধরে। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মোতালিবও একই সমস্যায় ভুগছেন। ঘন ঘন লবঙ্গ-লবণ জলেও তার কাজ হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পান খাওয়ায় মুখের ভেতরে দাঁতের পাশে আলসার হওয়ায় রাতে ঘুমাতে পারছেন না রাজধানীর রায়েরবাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটি শেষে দেশে সীমিত আকারে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। সঙ্গে বেশকিছু ডেন্টাল ক্লিনিকও খোলা হয়। কিন্তু দাঁতের চিকিৎসায় চিকিৎসককে রোগীর মুখের কাছে যেতে হয়। ফলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় দন্তচিকিৎসকদের। তবে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের ভয়ে অনেক দন্তচিকিৎসকই ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা খোলা রেখেছেন, তারা দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এতে রোগীদের মন ভরছে না। অনেক ক্ষেত্রে রোগের পরিত্রাণও মিলছে না। ফলে দাঁতের নানা সমস্যায় ভোগা হাজারও রোগীকে এখন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

তামাকজাতীয় পণ্য ব্যবহারের ফলে মুখের আলসার (ক্যান্সারের প্রথম ধাপ), মাড়ি ফুলে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতের নিচে বা মাড়িতে টিউমার হওয়ার ঘটনায় কষ্ট পাওয়া রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে। কথা হয় জিগাতলার বাসিন্দা গৃহিণী সুমাইয়া হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, দাঁতের ব্যথায় এক সপ্তাহ ধরে অস্থির হয়ে আছি। ট্যানারি মোড়ে একজন ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। করোনা আসার পর ওই ডাক্তার আর সেখানে বসেন না, চেম্বার বন্ধ। রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়েছি। সেখানেও ডাক্তার দূর থেকে দেখে ওষুধ লিখেছেন। কিন্তু ব্যথা কমছে না। মনে হয় দাঁতটা ক্ষয় হয়ে গেছে, ফেলতে হবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার ভ্যানগাড়িচালক শামসুল হক। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে দাঁতের চিকিৎসা করেছিলেন ৩ মাস আগে। কয়েক দিন আগে ব্যথা শুরু হলে আবারও গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু করোনার ভয়ে সেখানে আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। তিনি জানালেন, ডাক্তার মুখের ভেতরে দেখতে চায় না। দূর থেকে শুনে ওষুধ লিখে দেন।

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের একই অবস্থা। এসব হাসপাতালে দন্তরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে রোগী দেখায় দন্তচিকিৎসকদের অনেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছেন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দন্তচিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ মো. মোশারফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি করোনার মধ্যেও দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলাম। বর্তমানে আমার করোনা পজিটিভ। কোয়ারেন্টিনে আছি, এ অবস্থায় আমি রোগীদের সংস্পর্শে আসতে পারছি না। চুনারুঘাট হাসপাতালের টিএইচও ডা. মোজাম্মেল হোসেন যুগান্তরকে বলেছেন, করোনার এ দুঃসময়েও আমরা দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। তবে করোনার জীবাণু শরীরে ঢুকে তো গলা ও লালাগ্রন্থিতে বাসা বাঁধে।

মুখে দাঁতের চিকিৎসা করতে গেলে প্রচুর পরিমাণে লালা বেরিয়ে আসবে। যদি রোগীর শরীরে কোভিড-১৯ ঢুকে পড়ে আর তার দাঁতের চিকিৎসা করতে গেলে তো ওই ডাক্তারও সংক্রমিত হবেন।

এদিকে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সদস্যরা মুঠোফোনে দন্তরোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে দাঁত উঠানো, দাঁত লাগানো- এমন সব চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ?বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বুলবুল সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের আপৎকালীন পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ডেন্টাল সোসাইটি দেশের সব জেলা শাখাকে ভুক্তভোগীদের দন্তচিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। ভুক্তভোগী লোকজন মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা পেতে ডেন্টাল সোসাইটির ৫৩ সদস্যের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে পারবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সোসাইটির সদস্যরা মুঠোফোনে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাবেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত