নমুনা জটে সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কা

রাজশাহীতে কিট সংকটে নমুনা পরীক্ষা ব্যাহত

  রাজশাহী ব্যুরো ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিট সংকট তীব্র হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি ল্যাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে করোনার নমুনা পরীক্ষা। প্রতি শিফটে ৯৬টি নমুনা পরীক্ষার জন্য চারটি করে কিটের প্রয়োজন হয়; কিন্তু রাজশাহীর দুটি ল্যাবে প্রতি শিফটের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে দুটি অথবা সর্বোচ্চ তিনটি কিট দিয়ে। সাতদিন ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবটি চলছে হাসপাতালের ল্যাবের কাছ থেকে ধার করা কিট দিয়ে। এতে রাজশাহীতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে নমুনা পরীক্ষার কাজ। অভিযোগ উঠেছে, এক সপ্তাহ ধরে সন্দেহভাজন সাধারণ কোনো ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা হয়নি। এখন শুধু বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন দফতরের পদস্থ কর্মকর্তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি জেলা ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সন্দেহভাজন সদস্যদের নমুনা দ্রুত পরীক্ষার জন্য অনুরোধ করা হলেও কিট সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, নমুনা জট চলতে থাকায় রাজশাহী অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠে কর্মরত সন্দেহভাজন অনেক পুলিশ সদস্য নমুনা পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না। এক সপ্তাহ ধরে কিট সংকটে করোনা নমুনা পরীক্ষার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২৫ জুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাবের কিট ফুরিয়ে যায়। নতুন কিট সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে ওইদিনই বার্তা পাঠানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিট সরবরাহ সম্ভব নয় এবং হাসপাতালের ল্যাবে থাকা কিট নিয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সে মোতাবেক হাসপাতাল ল্যাব থেকে কিট ধার করে কলেজ ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে বিপুল নমুনার চাপ সামলাতে নমুনা পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। যদিও পরীক্ষা শেষে ফলাফল আসতে সাত থেকে ১০ দিন লেগে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর দুটি ল্যাবের একাধিক টেকনোলজিস্ট বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের দুটি ল্যাবে দুই শিফট মিলে চার শিফটে ৩৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতি শিফটে ৯৬টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ৪টি কিটের দরকার পড়ে। কিন্তু কিট সংকটে তারা কখনও তিনটি বা দুটি কিট দিয়েই ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করছেন। এতে পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। যথাযথ মাত্রায় ও সংখ্যায় কিটের ব্যবহার ছাড়া প্রকৃত ফলাফল আসছে কি না, সে ব্যাপারে তারা নিজেরাই কিছুটা সন্দিহান থাকছেন।

তবে কিট সংকটের কথা অস্বীকার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম আতাতুর্ক বলেছেন, রাজশাহীর কোনো ল্যাবেই কিট সংকট নেই। কোনো নমুনা জটও নেই। আগের দিন আসা নমুনা তারা পরের ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করে ফলাফল দিচ্ছেন। তবে কিট সংকটের কথা না বলতে পারলেও নমুনা জটের কথা স্বীকার করেছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক।

অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার দুটি ল্যাবে দৈনিক চার শিফটে মোট ৩৭৬টি করে নমুনা পরীক্ষা হলেও সেখানেও কিট সংকটে পরীক্ষার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আগের দিনে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিদিন বিফ্রিং করা হচ্ছে বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে। সেখানে বলা হচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সংগৃহীত নমুনার ফলাফল। কিন্তু বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজার রহমান তুহিন জানিয়েছেন, বগুড়া জেলায় এখনও ২ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য জানিয়েছেন, করোনার নমুনা দ্রুততর ও নির্বিঘ্ন করতে আরও কিট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কিট সংকট দ্রুত কেটে যাবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত