৭ স্পটে কোরবানির পশুরহাট চায় চসিক সিএমপির আপত্তি

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির অস্থায়ী পশুরহাট বসানো নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি)টানাপোড়েন চলছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সিএমপির পক্ষ থেকে নগরীর তিনটি পৃথক স্থানে অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানানো হয়েছে।

সিএমপি বলছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এ তিনটি স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। ফলে এসব পশুরহাটে লোক সমাগম হলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু সিএমপির আপত্তি দেয়া তিন স্থানসহ নগরীর সাতটি স্পটে অস্থায়ী পশুরহাট বসাতে চায় চসিক। যদিও এখন পর্যন্ত চারটি হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেবা সংস্থাটি। অস্থায়ী পশুরহাট বসানো নিয়ে দুই সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করেছে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। সেখানেও তিনটি হাটের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে সিএমপি।

সূত্র জানায়, ২৫ জুন সিএমপির নগর বিশেষ শাখা থেকে চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সুনির্দিষ্ট তিনটি স্থানে কোরবানির পশুরহাট না বসানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোরবানির পশুরহাট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানও এতে উল্লেখ করা হয়। এবার চসিকের যে সাতটি স্থানে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর জন্য ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এগুলো হল- সল্টগোলা রেলক্রসিং, স্টিলমিল, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ, কমল মহাজন হাট ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে টিকে গ্রুপের মাঠ এবং বড়পোল বন্দর মাঠ। গত বছর ছয়টি হাট বসলেও এবার বড়পোল বন্দর মাঠ স্থানটি নতুন।

করোনার রেড জোন বন্দর পতেঙ্গা এলাকার যে তিনটি হাট নিয়ে সিএমপি আপত্তি দিয়েছে, সেগুলো হচ্ছে স্টিল মিল, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং বড়পোলে বন্দর কর্তৃপক্ষের খালি জায়গাটি। ইতিমধ্যে আপত্তি দেয়া তিনটি বাদে চারটি হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চসিক। আগামী ৮ জুলাই দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স খোলার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিএমপির নগর বিশেষ শাখার উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ খান বলেন, এ তিন জায়গায় পশুরহাট বসালে কী কী প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যার সৃষ্টি হয় তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে এ ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে। সেখানেও আপত্তি জানানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্টিল মিল বাজারটি মূল সড়কের ওপরে ও পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাজার বসার কথা থাকলে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মূল সড়কে চলে আসে। তাছাড়া স্টিল মিল ও কাটগড় এলাকায় বর্তমানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। উন্নয়ন কাজের কারণে সড়কের অর্ধেক অংশ টিন দিয়ে ঘেরাও দেয়া হয়েছে। বাকি অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। যদি এখানে পশুরহাট বসানো হয় তাহলে যানবাহন চলাচলের কোনো রাস্তা সচল থাকবে না। এতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হবে এমনটা উল্লেখ করা হয় সিএমপির চিঠিতে। একইভাবে বড়পোল এলাকায় যে মাঠ রয়েছে তাতে কোরবানির পশুরহাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মাঠের এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজ করা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের স্থাপনা। ওই মাঠে পশু রাখার জন্য যা জায়গা আছে তা পর্যাপ্ত নয়। গাড়িতে করে পশু এনে নামানোর জায়গাও নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা যুগান্তরকে বলেন, এবার নতুন একটি বাড়িয়ে নগরীতে সাতটি অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে সিএমপির আপত্তির কারণে ওই তিনটি বাদে আপাতত চারটি স্থানে পশুরহাট বসানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। নগরীর স্টিল মিল বাজারের যে হাটটি আপত্তি দেয়া হয়েছে সেটির স্থান পরিবর্তন করে বসানোর চিন্তাভাবনা চলছে। আরও বলেন, এবার পশুরহাটে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতা-বিক্রেতাকে প্রবেশ করতে হবে। এ ব্যাপারে ইজারাদারদের শর্ত দেয়া হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত