ক্রাইম জোন বায়েজিদ বোস্তামী

শফি-কুদ্দুস বাহিনীর ফের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম

হুমকিতে ধর্ষিতা পোশাককর্মী পরিবার এলাকা ছাড়া

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরীর ‘ক্রাইম জোন’ খ্যাত বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যা মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আসামিরা নতুন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিশেষ করে দেড় ডজন মামলার আসামি কুদ্দুস এবং এক ডজন মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম ওরফে গ্যারেজ শফির আশ্রয়প্রশ্রয়ে ক্যাডাররা নানা অপকর্ম করছে। শুক্রবার ভোরে ছিনতাই প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ১৩ মামলার আসামি গোলাম রসুল সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৯ জুন এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই ক্যাডার আনোয়ার ও হেলালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বায়েজিদ বোস্তামী শেরশাহ এলাকার নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, অধিকাংশ শিল্পকারখানা থেকে চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও মাসিক হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা হয়। এলাকায় সরকারি জমি ও পাহাড় দখলের পাশাপাশি সচ্ছল বিভিন্ন লোকজনকে হত্যার হুমকি দিয়েও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। শফি-কুদ্দুস বাহিনী এলাকায় আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বায়েজিদ বাংলাবাজার এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, দুই মাস আগে ৫ শতক জমিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করি। কাজ শুরুর পরপরই অস্ত্রধারী ১০-১২ জন যুবক শফি-কুদ্দুসের লোক পরিচয় দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এত টাকা দিতে না পেরে কাজ বন্ধ রেখেছি।

যুবলীগ নেতা বাদল হত্যার ঘটনায় ২০১৬ সালের ২১ জুন কুদ্দুসকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে কুদ্দুস পুনরায় অপকর্ম শুরু করে। চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় কুদ্দুসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বায়েজিদ বোস্তামী থানার তালিকাভুক্ত ১০ নম্বর সন্ত্রাসী কুদ্দুস। শফির বিরুদ্ধে বেশকিছু মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও ঝুলছে বলে জানা গেছে।

২৯ জুন এক পোশাককর্মীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে শফি-কুদ্দুসের প্রধান সহযোগী আনোয়ার ও হেলাল। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় পোশাক শ্রমিকের মা মামলা করায় ধর্ষকের আশ্রয়প্রশ্রয়দাতা ও সন্ত্রাসীরা হুমকি দিচ্ছে। তাদের হুমকিতে পোশাককর্মীর পরিবার এখন এলাকাছাড়া।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার যুগান্তরকে জানান, ‘কুদ্দুস-শফি দু’জনই বায়েজিদ থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তারা এলাকায় থাকলেও সবকটি মামলায় জামিন নিয়ে গা-ঢাকা দিয়ে আছে। সাদ্দামকে ক’দিন আগে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপকর্ম করে কেউ পার পাবে না। সূত্র জানায়, নিজেদের প্রভাববলয় ও চাঁদাবাজির মাঠ ঠিক রাখতে ‘পথের কাঁটা’ নগর যুবলীগ নেতা বাদলকে হত্যা করা হয় ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী কমিটির সভা থেকে বাসায় ফেরার পথে ‘সালাম দিয়ে পেছনে পিস্তল ঠেকিয়ে’ বাদলকে হত্যা করা হয়। ছিঁচকে সন্ত্রাসী সাদ্দামের হাতে বাদলের মতো একজন সাবেক ছাত্রনেতা হত্যার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। কুদ্দুছের উপস্থিতিতে এবং তার নির্দেশেই বাদলকে হত্যা করার কথা আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানায় সাদ্দাম। মামলার এজাহারে এ হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্যারেজ শফির নামও রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, বাদল হত্যা মামলায় সাদ্দাম, কুদ্দুছসহ একাধিক সন্ত্রাসী গ্রেফতার হলে এলাকার পরিস্থিতি কিছু দিন শান্ত ছিল। দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসার খবর এলাকায় জানান দিতে শফি এলকার প্রায় ৫ হাজার মানুষকে মেজবানি খাওয়ায়। পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টিতে শফি-কুদ্দুস ব্যাপক শোডাউন করে। এর পর থেকে বায়েজিদ-শেরশাহ এলাকায় পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে তাদের বাহিনী। বাহিনীতে ২০ থেকে ৩০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত