প্রমত্ত মেঘনায় তীব্র ভাঙন

আতঙ্কে হিজলাবাসী

  সাইদুর রহমান পান্থ ও আবদুল হামিদ, হিজলা থেকে ০৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যার পানি মেঘনা নদীর বরিশাল অংশে ঢুকে পড়েছে। যে কারণে হিজলা উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলাটি। তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও ১৫টি মসজিদ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই হারিয়ে ফেলেছেন মাথা গোজার ঠাঁই। এ অবস্থায় আতঙ্ক বিরাজ করছে হিজলার মেঘনাপারের সাধারণ মানুষের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে হিজলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস নেই। যে কারণে এখানকার মানুষ পানি বৃদ্ধির আগাম সংবাদ পায়নি। তাই প্রস্তুতিমূলক কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারেননি উপজেলার বাসিন্দারা। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে নদীর পাড়। একের পর এক বাড়ি মেঘনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে খোদ উপজেলা পরিষদও। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে উপজেলাটি শরীয়তপুরের ‘নরিয়া উপজেলার’ মতো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিগত বছরগুলোয় মেঘনার মূল মোহনা পুরনো হিজলা লঞ্চঘাট থেকে বাউশিয়া হয়ে দড়িচর-খাজুরিয়া (বামনেরচর) পর্যন্ত বেপরোয়াভাবে ভেঙেছে। একের পর এক গ্রাম, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, বাজার গিলে ফেলেছে মেঘনা। বলতে গেলে হিজলা উপজেলার মানচিত্র বদলে দিয়েছে প্রমত্ত মেঘনা।

২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বাউশিয়া স্থান পরিদর্শন করলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরনো হিজলা লঞ্চঘাট এখন গাছে বাঁধা, একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দণ্ডায়মান মেঘনার পাড়ে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৫ একর জায়গার সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন। প্রস্তাবিত হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ ফেরিঘাট-কোরবানের রাস্তার মাথার স্থাপনা এখন আর নেই। বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার জন্টু হাওলাদার জানান, দক্ষিণ বাউশিয়া, দক্ষিণ পশ্চিম বাউশিয়া, মধ্যবাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ব্রিজ, হাফেজি মাদ্রাসা হুমকির মুখে। এগুলো নিরাপদে সরানোর জন্য চেয়াম্যানের সঙ্গে পরিষদে মতবিনিময় হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ. গাফ্ফার জানান, তিনি নিজে ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। নদী আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বাস করছে। বলতে গেলে পুরো উপজেলাই ঝুঁকির মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন টেকের বাজারটি এখন মেঘনা পাড়ে। হুমকির মুখে খান পরিবার, ফকির বাড়ি, সরদার বাড়ি, মোল্লাবাড়ি, হাওলাদার বাড়ি। ইতোমধ্যে সালাউদ্দিন খানের বাড়িসহ ১০-১২টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা তাদের দিকে মুখ তুলে তাকাচ্ছে না। ঐতিহ্যবাহী ফকিরবাড়ির ঐতিহ্য সুপারির বাগান নদীতে গিলে খাচ্ছে। রুস্তুম ফকির আক্ষেপ করে বলেন, ‘সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান- কেউই আমাদের দিকে তাকাচ্ছেন না।’

পুরনো হিজলা বাজার আগেই নদীগর্ভে বিলীন, ৬ হাজার ভোটারের গ্রাম বাউশিয়া এখন স্মৃতি। সব মেঘনার পেটে। এখন বর্ষা, আবারও ভাঙতে শুরু করেছে।

বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পণ্ডিত শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বাউশিয়া, বাহেরচর গ্রাম তিনটি রাক্ষসী মেঘনার হাত থেকে রক্ষার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে ভাঙ্গন ঠেকানো মোটেও সম্ভব না। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন স্থান পরিদর্শন করে গেছেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল ৪ আসনের (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ইতোমধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হিজলার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পুরনো হিজলা লঞ্চঘাট থেকে বাউশিয়া পর্যন্ত ব্লক ফেলে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যার ডিপিপিও হয়ে গেছে। এখন একনেকের অপেক্ষায় রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে গত বছর ২ কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এবারও ফেলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া নদীভাঙন থেকে শ্রীপুরকে বাঁচাতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করার কাজ চলছে। সেখানে ২ কোটি টাকার ড্রেজিং করানো হয়েছে। পাশাপাশি হিজলার দুলখোলা থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬শ মিটার বেড়িবাঁধের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দেয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে অনেক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত