উত্তরায় সড়ক দখল করে বাজার

  সিরাজুল ইসলাম ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুরে মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন আহম্মদ সড়ক দখল করে বাজার বসানো হয়েছে। সড়কের প্রবেশদ্বারে দুই পাশে রয়েছে দুই শতাধিক দোকান।

মাঝখানে ভ্যান বসিয়ে বিক্রি করা হয় নানা ধরনের পণ্য। এতে এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দোকানগুলোর কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামালের গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে প্রায়ই গাড়িচালক ও পথচারীদের সঙ্গে দোকানদারদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। ঘটছে হামলার ঘটনাও। সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন দিনের ব্যবধানে উত্তরা পূর্ব থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সড়কটিতে বসানো প্রতি দোকান থেকে দিনে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র। এতে মাসে চাঁদা ওঠে ৫ লক্ষাধিক টাকা। ১৫-১৬ বছর ধরে এখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজার থেকে এভাবেই চাঁদাবাজি হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি লাইনম্যান হিসেবে দোকানগুলো থেকে এক বছর ধরে চাঁদা তুলছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি লাইনম্যান হিসেবে চাঁদা তুলত। জাকিরের আগে স্থানীয় কুতুব মিয়ার লোকজন এবং এর আগে মাহবুবের লোকজন চাঁদা তুলত। ওইসব দোকানে রয়েছে অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ। বিদ্যুৎ বিলের নামেও লাইনম্যান জাকির মোটা অংকের চাঁদা ওঠায়। কিন্তু সেই বিল জমা দেয়া হয় না। তাই ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ডেসকোকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সড়ক বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে বসানো এসব দোকানপাট থেকে যে চাঁদা উঠছে তার ভাগ যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং পুলিশের পকেটেও।

বিষয়টি নিয়ে ২ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন উত্তরখানের তালুকদার রুমি। দোকানদারদের হাতে মারা খাওয়ার ঘটনায় ২৯ জুন প্রমি এগ্রো ফুড লিমিটেডের গাড়িচালক আবদুল মান্নান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ১ জুলাই স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে অপর একটি মামলা করেছেন। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি অবৈধ বাজার বা বৈদ্যুতিক সংযোগের বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

প্রমি এগ্রো ফুড লিমিটেডের গাড়িচালক আবদুল মান্নান বলেন, ২৭ জুন নরসিংদীতে কোম্পানির মালামাল আনলোড করে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুতুবউদ্দিন আহম্মদ সড়কে আসি। তখন ওই সড়কে একাধিক ভ্যানগাড়িতে আম বিক্রি করা হচ্ছিল। ভ্যানের কারণে গাড়ি নিয়ে এগোতে পারছিলাম না। ভ্যানগাড়িগুলো সরাতে বললে আম বিক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমরা টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছি। দোকান সরাতে পারব না। আপনি অন্য রাস্তা দিয়ে যান।’ এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থায়ী কয়েক দোকানদার আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার গাড়িতে থাকা কোম্পানির ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ টাকা, ব্যক্তিগত চার হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। তাদের হামলায় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক ও পরে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আমি থানায় মামলা করি। কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অপর মামলার বাদী স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, কুতুবউদ্দিন সড়কের মাথা থেকে রেল ক্রসিং পর্যন্ত দুই শতাধিক দোকান থেকে প্রতিদিন জাকির নামে এক ব্যক্তি চাঁদা ওঠায়। সর্বনিু ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। আমার দোকান থেকে জাকির ১২০ টাকা করে নেয়। স্থানীয় বিকাশ দোকানদার সুমন, ফল দোকানদার শরীফ, আতিক সাত্তার এবং ফয়েজসহ আরও কয়েক দোকানদার একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন।

আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ থেকে উত্তরখান হয়ে তেরমুখ পর্যন্ত সড়কটি ঢাকা সড়ক বিভাগ দেখভাল করছে। সড়কটি মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৗশলী শামীম আল মামুন বলেন, যে জায়গায় বাজার বসেছে সেটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের। পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্ছেদ অভিযান চালালে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। সরকারি রাস্তা দখল করে যারা ব্যবসা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডেসকো উত্তরা (পূর্ব) জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান আকন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। এখন জানলাম। খোঁজ নিয়ে দেখব। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ হলে তা বিচ্ছিন্ন করা হবে।

জানতে চাইলে লাইনম্যান জাকির হোসেন বলেন, আগে অনেক ইনকাম ছিল। করোনাভাইরাস আসার পর ইনকাম কমে গেছে। এখন প্রতিদিন যা তুলি সেখান থেকে আমি নিজে ৪-৬শ’ টাকা রেখে দিই। বাকি টাকা প্রশাসনের লোকদের দিই। সবাই মিলেমিশে চলছি।

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পূর্ব থানার এসআই তদন্ত কর্মকর্তা বদরুল মিল্লাত বলেন, ২৯ জুন এবং ১ জুলাই যে দুটি মামলা হয়েছে তার তদন্তভার আমাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৩০ জুন রাত থেকে আমার জ্বর। করোনা নেগেটিভ এলেও শরীর খুব অসুস্থ। তাই তদন্তে মনোযোগ দিতে পারিনি। সুস্থ হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত