জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মেশিনে ডিম ফুটিয়ে হাঁস-মুরগি পালন

করোনার প্রভাবে বদরগঞ্জে তরুণদের পেশা বদল

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীতে কাজ হারানো তরুণরা পেশা বদল করে ভাগ্যজয়ের স্বপ্ন দেখছে। লাভজনক হওয়ায় জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মেশিনে (ইনকিউবেটর) ডিম ফুটিয়ে হাঁস-মুরগি পালন। স্থানীয়ভাবে ওই মেশিনের কারিগর স্থানীয় তরুণ রাশেদুল হক। আগে মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে নানা পণ্যের ব্যবসা করে জীবন-জীবিকা চালাতেন। কিন্তু করোনার কারণে হাটবাজার ও যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় ওই ব্যবসার পরিসর সীমিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সে এখন ডিম ফোটানোর মেশিন তৈরি করে নিজের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছে। হাতের নাগালে ইনকিউবেটর পাওয়ায় উপজেলার পৌরশহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দ্রুত গড়ে উঠেছে শতাধিক হাঁস-মুরগি পালনের খামার।

সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পৌরশহরের শাহাপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে হাঁস-মুরগি পালনের দুটি খামার। আবুল কাশেম ব্রয়লার মুরগির মাংস ব্যবসায়ী ছিলেন। করোনা ক্রান্তিকালে তার ওই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তাই নিজ বাড়িতে একসঙ্গে ১০ হাজার ডিম ফোটানোর মেশিন বসিয়েছেন। একই এলাকার এনামুল হক আগে থেকেই হাঁস-মুরগি পালন করতেন। হাটবাজারে সে সব বিক্রি করতেন। এ ছাড়া মুরগি ব্যবসায়ীরা তার কাছে সে সব কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু করোনার কারণে হাট-বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দা চলছে। সম্প্রতি তিনিও নিজ বাড়িতে বসিয়েছেন একসঙ্গে ৫ হাজার ডিম ফোটানোর মেশিন। শুধু তাই নয়, উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লালদীঘি এলাকার যুবক হাবিব, রিপন, কালুপাড়া ইউনিয়নের স্বাধীন, দামোদরপুর ইউনিয়নের আসমতপাড়ার মেনহাজুল, রামনাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া এলাকার পীর মামুনসহ উপজেলায় আরও অন্তত ১৫ জন তরুণ শুরু করেছেন এ কাজ। তারা আগে কেউ ঢাকায় চাকরি করতেন। কেউ আবার স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতেন। করোনার প্রভাবে চাকরি চলে যাওয়ায় এবং হাটবাজারে ব্যবসার চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা এখন নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে হাঁস-মুরগির ডিম ফোটানোর কাজ শুরু করেছেন।

আবুল কাশেম বলেন, লকডাউনে আমার আগের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে আমার আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি এ কাজ শুরু করি। এটি অবশ্যই লাভজনক। তবে শ্রম দিতে হবে। যত্নশীল হতে হবে।

এনামুল হক বলেন, আমি ৫ হাজার ডিম ফোটানোর মেশিন বসিয়েছি। হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পাখির ডিম ফোটাচ্ছি। এখানে ফোটানো হাঁসের বাচ্চা দিয়েই আমি আমার হাঁসের খামার করেছি।

জানা গেছে, এ খামারিরা ডিম ফোটানোর মেশিন সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় যুবক রাশেদুল হকের কাছ থেকে। তার বাড়ি পৌর এলাকার শাহাপুরে। রাশেদুলের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা ইনকিউবেটর মেশিনের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এসে ইনকিউবেটর মেশিন তৈরি করে নিয়ে যাচ্ছেন। রাশেদুল হক আকন্দ বলেন, নানা ধরনের মৌসুমি কৃষিজাত ফসলের ব্যবসা করতাম আগে। করোনার জন্য তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া কবুতর পালনের শখ থেকে কবুতরের ডিম সংগ্রহ এবং ডিম ফোটানোর মেশিন বানিয়েছিলেন প্রথম। তারপর কবুতরের ডিমের সঙ্গে যুক্ত হয় হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পাখির ডিম। এখন নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি তার বানানো মেশিনে ডিম ফুটিয়ে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে অনেক তরুণের। সহজে এবং কম খরচে হাঁস, মুরগি বা কোয়েল পাখির বাচ্চা ফুটিয়ে পালন করে খামারিরা অধিক লাভবান হচ্ছে বলেও তিনি জানান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, বদরগঞ্জে সবাই বাচ্চা নিয়ে আসত বাইরে থেকে। আগে হাতেগোনা মাত্র ১০-১২টি খামার ছিল। তা করোনাকালে গত চার মাসে ক্রমাগত বাড়ছে। যেহেতু এখন ইনকিউবেটর মেশিন স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে, তাই খামারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে হাঁসের খামারের সংখ্যা শতাধিক হয়ে গেছে। বলা যায়, খামারে ইতিবাচক বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে বদরগঞ্জে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত