সাক্ষাৎকার

ঢাকাবাসীর সেবা নিশ্চিতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি

  মতিন আব্দুল্লাহ ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তর : ঢাকাকে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের রাজধানী শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা জানতে চাই-

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : আপনি জানেন যে, নির্বাচনের সময় আমি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করেছি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গড়ে তোলা। আপনি খেয়াল করবেন যে, আমি যখন দায়িত্ব নিলাম, তখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী। এ অবস্থার মধ্যেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছি এবং কাজ করে চলেছি। আমাদের পরিকল্পনা তো মহামারীর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তার পরও আমরা কিছু কার্যক্রম অগ্রাধিকার হিসেবে বাছাই করেছি। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে ভাগ করে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রমকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা মশকনিধন কার্যক্রমকে ঢেলে সাজাতে পেরেছি। মশক নিধনে লার্ভিসাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে আটজন করে কর্মউ কাজ করছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছি।

এছাড়া জলাশয় পরিষ্কার এবং খালগুলো পরিষ্কার করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত করা হবে। এজন্য জলাশয়ে তেলাপিয়া মাছ ও হাঁস চাষ করছি। এসব জলাশয়ে মাসে একবার জাল টানা হবে। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার মতো খোলা নর্দমা রয়েছে। সেসব পরিষ্কারের ব্যাপারে আলাদা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার পরও নির্মাণাধীন বাসা মশার প্রজনন উৎসে পরিণত হয়েছে। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেসব বাসাবাড়িতে সেবা নিশ্চিতে কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর জন্য তাদের পেমেন্ট করতে হবে। জরিমানা না করে নগরবাসীর ১০ ভাগের একভাগ টাকা পরিশোধ করতে হবে। নগরবাসী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

যুগান্তর : রাজধানীর খালগুলো সচল করে টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করতে আপনার ভাবনা কী?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম হাতে নিয়ে আমরা বুঝেছি ঢাকায় অনেক খাল বা জলাশয় রয়েছে। সেসব পরিষ্কার এবং পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে। এমআইএসটিকে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধারের পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা কাজও শুরু করেছে। কামরাঙ্গীরচর নিয়েও কাজ শুরু করেছি। আদি বুড়িগঙ্গার প্রবাহ ঠিক করে হাজারীবাগ খালের সঙ্গে সংযোগ করে নদীর সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারলে এটা পানি নিষ্কাশনে বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রথম পর্যায়ে ডিএসসিসির ১০টি জোন এলাকার একটি খাল বা জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে, দখলমুক্ত করে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করব। তার সঙ্গে সঙ্গে এসব খাল বা জলাশয়ে নান্দনিকতা করা হবে। তবে এটা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন কাজ। কেননা, এসব খালের মালিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। যদিও ডিএসসিসি এলাকার খাল বা জলাশয়গুলোর মালিক ডিএসসিসির হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব। এখানে ওয়াসা শুধু পয়ঃনিষ্কাশন করবে। আর পানি নিষ্কাশনসহ খাল রক্ষণাবেক্ষণ করবে ডিএসসিসি। আর ওয়াসার পাশাপাশি গণপূর্তেরও অনেক জলাশয় বা খাল রয়েছে রাজধানীতে। সে সবেরও সঠিক মনিটরিং করতে হবে।

যুগান্তর : প্রশাসনিক সংস্কারের ব্যাপারে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : ডিএসসিসির প্রশাসনিক সংস্কারে হাত দিয়েছি। ইতোমধ্যে শীর্ষ দুই দুর্নীতিবাজসহ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শুধু অবহেলা বা গাফিলতি পেলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর শুধু অপসারণ নয়, বিভাগীয় মামলা এবং ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। এমনও ঘটনা ঘটেছে সংস্থার টাকার পে-অর্ডার ভাঙিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছে। এসবই হাতেনাতে ধরা হয়েছে।

যুগান্তর : ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১৯ এর ৬৪/২ বিধিমালা সংশোধনের দাবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং তারা এ আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন- এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : আইনগতভাবেই মেয়রকে এ ক্ষমতা দেয়া আছে। সারা পৃথিবীতেই এমন বিধিবিধান রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় বা যেটা স্বীকৃত সেটা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা সংস্থার স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে নিজ স্বার্থে কাজ করছে, তাদের জন্য ব্যবস্থা নিতে এ আইনে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। হায়ার অ্যান্ড ফায়ার ছাড়া সংস্থা চালানো যায় না। প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। ঢাকাবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসিক সংস্কার একান্তভাবে জরুরি।

যুগান্তর : কাঠামো অনুযায়ী ডিএসসিসির জনবল স্বল্পতা রয়েছে। এ শূন্যতা পূরণে শিগগিরই কোনো উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা আছে কি?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : ঢাকা উত্তরের চেয়ে এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী বেশি। তাদের ডিএনসিসির চেয়ে চারগুণ বেশি টাকা বেতন দিতে হয়। কিন্তু, তারা ঠিকমতো কাজ করে না। তার পরও আমরা নতুন কিছু নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা শিক্ষিত, দক্ষ লোকবল নিয়োগ করব। এ বিষয়গুলো আমরা খুবই কঠোরভাবে দেখছি।

যুগান্তর : ডিএসসিসি বর্তমানে ঋণগ্রস্ত। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে আপনি কী তৎপরতা চালাচ্ছেন?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা অনেক টাকা ঋণ পেয়েছি। এ আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে নিরলসভাবে কাজ করছি। ডিএসসিসির ট্রেডলাইসেন্স দুই লাখ ১৫ হাজার। কিন্তু বাস্তবে মুদি দোকানই রয়েছে তিন লাখ। এটা তো অন্তত পাঁচ লাখ হওয়া উচিত। এছাড়া হোল্ডিংট্যাক্সসহ অন্যান্য জায়গায় অনেক চুরি রয়েছে। আমরা সেসব বন্ধ করে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছি। রাজস্ব আহরণে বড় একটি ফাঁকি রয়েছে। কর বাড়ানোর কোনো কারণ নেই। আইনে ২৬টি খাতে আয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা রাজস্ব আদায় করছি ৮ থেকে ১০টি খাত থেকে। রাজস্ব আহরণ তিনগুণের বেশি হবে বলে আশা করছি।

যুগান্তর : পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদাম অপসারণের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল বা প্লাস্টিক কারখানা সরানোর একটি নির্দেশনা সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর রয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাদের সঙ্গে আমার বসার কথা রয়েছে। দীর্ঘ পরিকল্পনায় আমরা পুরান ঢাকাকে নিরাপদ করার কাজ শুরু করব।

যুগান্তর : রাজধানীর সড়কের নৈরাজ্য ফেরাতে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবেন কি না?

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস : প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যানজটমুক্ত সচল ঢাকা গড়ে তুলতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন সেটি খুবই প্রশংসিত উদ্যোগ ছিল। এখন আমাকে ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কোরবানির পর থেকে ওই কমিটির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত