বাকেরগঞ্জের কবাই ইউনিয়ন

দুস্থ নারীদের চাল নিয়ে নয়ছয়

১৮ মাস চাল পান না ২৪ নারী * ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নানা অভিযোগ

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে দুস্থ নারীদের বরাদ্দের চাল নিয়ে নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। ভিজিডির উপকারভোগী নারীদের চাল আত্মসাৎ ও অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দ অর্থও লুটপাট করা হয়েছে। আবার ভিজিডির কার্ড পেতে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়ার পরও অনেকে কার্ড ও চাল পাননি। ভিজিডির তালিকায় নারী ও তার স্বামীর নাম থাকলেও ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য কারও মাধ্যমে সুবিধা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৮ মাস ভিজিডির উপকারভোগী নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করে অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দ অর্থও লুটপাট করা হচ্ছে।

জানা গেছে, তালিকার ১৮৮ নম্বরে আমেনা বেগম, ১৮৯ নম্বরে আকলিমাসহ আমেনা বেগম, আসমা বেগমের নাম রয়েছে। নিজের নাম, স্বামী ও বাবার নাম ঠিক থাকলেও অনেক নারীর ঠিকানা পরিবর্তন করে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের শিয়ালঘুনির বাসিন্দা শেফালী বেগম ইট ভাঙার শ্রমিক। তার স্বামী অসুস্থ মৌজে আলী গামছা বিক্রি করেন। এরপরও দুস্থদের ভিজিডি কার্ড থেকে শেফালী বঞ্চিত। তার কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছের লোক চান মিয়া কার্ড করিয়ে দেয়ার জন্য তিন হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ১৮ মাস পরও তিনি কার্ড পাননি। একইভাবে মাছুয়াখালীর ইউসুফ হাওলাদারের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, শুনেছি আমার নামও তালিকায় রয়েছে। কিন্তু একটি চালও আমার বাড়িতে আসেনি। ইউনিয়নের সোনাকাণ্ডের হেমায়েত খানের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার নাম তালিকায় রয়েছে। কিন্তু ১৮ মাস কোনো চাল পাই না। তিনি বলেন, ভিজিডি কার্ড পেতে ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহসিন ফয়সাল বিপ্লবকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখনও কার্ড পাইনি। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদারকে বলেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান বলেছেন: আমি তো টাকা নিইনি। আমি কার্ড কীভাবে দেব। ইউপি সদস্য বিপ্লবকে বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দ ২৫০০ টাকা করে দেয়ার ক্ষেত্রেও মোবাইল ফোন নম্বর পাল্টে দিয়ে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। তালিকার ৬৮৯ নম্বর সিরিয়ালের বাকেরগঞ্জের শিয়ালঘুনী গ্রামের হারুন অর রশিদের স্ত্রী হালিমা বেগমের নাম থাকলেও মোবাইল ফোন নম্বর ঠিক নেই। সেখানে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে ঝালকাঠি জেলার নলসিটি উপজেলার ভবানীপুরের মিলন চন্দ্র দাসের। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌমিতা নাজনিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সে অনুযায়ী ৬ জুন তদন্তেও গিয়েছিলাম। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে চার নারী অভিযোগ করেছেন। ছয় হাজার টাকার বিনিময়ে কার্ড বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি।

এ বিষয়ে কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক তালুকদার বাদল বলেন, কারও চাল না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আর আমার জানাও নেই। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। এখন যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে সেটা ষড়যন্ত্রমূলক। কারণ, নির্বাচনের আর বেশি বাকি নেই। তাই কেউ আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২৫০০ টাকা বিতরণে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। দুর্নীতি হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত