সংসদে জিএম কাদেরের প্রশ্ন

রিজেন্টের মতো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পায় কীভাবে

  সংসদ রিপোর্টার ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্টের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কীভাবে অনুমোদন পায়- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এমন প্রশ্ন তোলেন।

জিএম কাদের বলেন, জেকেজি এবং রিজেন্ট হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টি না করে এবং চিকিৎসাসেবা না দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করছে। এসব কাজের অন্যতম অভিযুক্ত আবার সেই রিজেন্ট হাসপাতাল। এসব প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা করার এবং কোভিড রোগীদের চিকিৎসা করার অনুমোদন পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম প্রশ্ন- এ ধরনের প্রতিষ্ঠান যাদের করোনা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই, চিকিৎসা সুবিধা নেই, তারা কীভাবে পরীক্ষা রিপোর্টের অনুমোদন লাভ করল? দ্বিতীয়ত, অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দায়িত্ব কীভাবে এবং কতটুকু পালন করছে বা করছেন না, সে বিষয় দেখভালের দায়িত্ব অনুমোদন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদফতরের, তারা কী করলেন?

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, যতটুকু জানা যাচ্ছে, জনগণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আটক করেছে, প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে। কাল প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন, তাতে আমরা জানতে পারলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং তারপরই বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু-না-কিছু ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু লোককে ধরা হয়েছে। এখন তাদের হয়তো শাস্তি হবে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের। এ সামান্য একটা বিষয় থেকে কোভিড পরীক্ষা নেগেটিভ নিয়ে আমাদের দেশের মানুষ যখন বিদেশে যাচ্ছে, সেখানে তাদের পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে এবং আমাদের দেশের এ টেস্টকে অনেক দেশ আর গ্রহণ করছে না। তারা এটাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের বিমান অবতরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

জিএম কাদের বলেন, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় লকডাউন কার্যকর সম্ভব হয় না। সে কারণেই এ পদ্ধতিতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়, সেটি আজ পরীক্ষিত সত্য। এ অবস্থায় রোগী শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখা এর বিস্তার বা সংক্রমণ রোধের অনেক সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে বগুড়া ও যশোরে উপনির্বাচন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ উপনির্বাচনে যেহেতু জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে, আমাদের নেতাকর্মীদের যে স্বাভাবিক সহানুভূতি- প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আমরা সেরকমভাবে পালন করতে চাই। নির্বাচন হলে ওটা একটু বিঘ্নিত হতে পারে। আমি নির্বাচন কমিশনে একটি পত্র দিয়েছি এ বিষয়ে। যদি এটাকে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, ওনারা বিবেচনা করবেন।

জিএম কাদের বলেন, একটা কথা বলা হতো সরকারি হাসপাতালে যেও না, ওখানে গেলে মারা যাবে। এটি অবশ্য কিছুদিন আগের কথা; আশা করি, ইতোমধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে রোগীরা ভালো হচ্ছে নিজেদের বুদ্ধি, বিবেচনা, শক্তি ও ভাগ্যের গুণে। আমাদের দেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তি আল্লাহর রহমতে যে অত্যধিক, সেটি হয়তো আবারও প্রমাণিত হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তকরণ পরীক্ষা কোভিড-১৯ টেস্টিংয়ের প্রোসেসিং যে আমাদের দেশে সময়মতো যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি করা হয়নি, এ অভিযোগ সংসদে আলোচিত হয়েছে। অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুবিধাদি যেমন হাসপাতালগুলো অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটর সুবিধা পর্যাপ্ত পরিমাণে সৃষ্টি করা হয়নি, সংসদ সদস্যদের মধ্যে এরকম ক্ষোভ আমরা লক্ষ করেছি।

তিনি বলেন, চীনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরে বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে তিন মাস পর। সেই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে তেমন কিছু লক্ষণীয় কাজ করেনি। পরবর্তী সময়ে ঢিলেঢালাভাবে শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা তৈরি করা হয়েছে বলা যায় না।

জিএম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ কিছুই করেনি, এটি বলা হয়তো সঠিক নয়। তবে বলা যায়, যে সময় স্বাস্থ্য বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজন ছিল তারা সেসময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন। যখন কাজ শুরু করেছেন, তখন কাজের গতি ছিল মন্থর। আগাগোড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনা সুস্পষ্ট ছিল।

মিঠু সিন্ডিকেট নিয়ে বললেন মুজিবুল হক : জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে এবং মিঠু সিন্ডিকেট নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক।

বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, করোনার সময় স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক দুর্নীতি। এ ব্যাপারে সরকারপ্রধান অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে দুদকও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে। যেখানে সারা দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের ওষুধ বা ইকুইপমেন্ট পার্সেস করা হয়। সেই স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক সাধারণত আর্মি থেকে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিয়োগ পেয়ে থাকেন। সর্বশেষ যিনি ছিলেন, তিনি এখান থেকে বদলি হন।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের বদলি হওয়ার পর স্বাস্থ্য সচিবকে লেখা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডিজির চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি বিলেন, ‘শিরোনাম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে ও মিঠুর কথায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে বদলি। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের বদলি।’ কথা মতো কাজ না করলেই কর্মকর্তাদের বদলি করে দেয় মিঠু সিন্ডিকেট। যত বড় পদই হোক না কেন, সেই পদে বদলি ঘটানো মিঠু সিন্ডিকেটের কাছে সময়ের মাত্র।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, প্রকিউরমেন্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কনসার্ন আছে- এই কথা বলে মিঠু সিন্ডিকেট যে লিস্ট দেয়, সেই লিস্ট অনুযায়ী তাদের সরকারি পার্সেস করতে না দেয়ায় তাকে বদলি করা হয়, যা সত্যিই দুঃখজনক।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত