মাদারীপুরে মানব পাচার চক্রের সদস্য গ্রেফতার
jugantor
মাদারীপুরে মানব পাচার চক্রের সদস্য গ্রেফতার
হবিগঞ্জের মামলায় ফরিদপুরে গ্রেফতার ১

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লিবিয়ায় মানব পাচারে জড়িত থাকায় সুমি বেগম (৩৩) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। বুধবার মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে মানব পাচার চত্রের সক্রিয় সদস্য। এদিকে মানব পচার ও লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় করা মামলায় হবিগঞ্জে মোশারফ হোসেন (৪২) নামের এক আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সে হবিগঞ্জের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : র‌্যাব-৮ এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদীহাট গ্রাম থেকে সুমি বেগমকে গ্রেফতার করে। সে ওই গ্রামের সামাদ ফকিরের স্ত্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। সুমি এলাকায় দালাল চক্রের মূল হোতা কুদ্দুসের (৩৮) সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে বিভিন্ন উপায়ে লিবিয়ায় মানব পাচার করে। সুমি মানব পাচারের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও লোক সংগ্রহের কাজ সম্পাদন করে।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। ওই চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালিতে সমভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নিু মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রথমে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার করে। পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা লিবিয়ার বন্দিশালায় তাদের আটকে রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে বন্দিদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। টাকা পাওয়ার পর তাদের লিবিয়া হতে নৌকায় অবৈধ পন্থায় ইতালিতে গমনের সুযোগ করে দেয়।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) শাহ মামুন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সিআইডি ২৫ জুন মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম সহযোগী মোশারফ হোসেনকে ফরিদপুরের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। বুধবার সে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এতে সে মানব পাচারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ইনপেক্টর মুন্সী আবদুল কুদ্দুস জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের কিছু লোক আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে প্রথমে লিবিয়া এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালিতে লোকজন পাচার করে। বাংলাদেশি চক্রের সঙ্গে নাইজেরীয় চক্রের বিরোধ হলে প্রতিশোধস্বরূপ নাইজেরীয় নাগরিকরা ২৮ মে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে। এর মধ্যে ১১ জন মাদারীপুরের।

মাদারীপুরে মানব পাচার চক্রের সদস্য গ্রেফতার

হবিগঞ্জের মামলায় ফরিদপুরে গ্রেফতার ১
 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লিবিয়ায় মানব পাচারে জড়িত থাকায় সুমি বেগম (৩৩) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। বুধবার মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে মানব পাচার চত্রের সক্রিয় সদস্য। এদিকে মানব পচার ও লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় করা মামলায় হবিগঞ্জে মোশারফ হোসেন (৪২) নামের এক আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সে হবিগঞ্জের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : র‌্যাব-৮ এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদীহাট গ্রাম থেকে সুমি বেগমকে গ্রেফতার করে। সে ওই গ্রামের সামাদ ফকিরের স্ত্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। সুমি এলাকায় দালাল চক্রের মূল হোতা কুদ্দুসের (৩৮) সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে বিভিন্ন উপায়ে লিবিয়ায় মানব পাচার করে। সুমি মানব পাচারের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও লোক সংগ্রহের কাজ সম্পাদন করে।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। ওই চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালিতে সমভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নিু মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রথমে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার করে। পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা লিবিয়ার বন্দিশালায় তাদের আটকে রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে বন্দিদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। টাকা পাওয়ার পর তাদের লিবিয়া হতে নৌকায় অবৈধ পন্থায় ইতালিতে গমনের সুযোগ করে দেয়।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) শাহ মামুন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সিআইডি ২৫ জুন মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম সহযোগী মোশারফ হোসেনকে ফরিদপুরের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। বুধবার সে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এতে সে মানব পাচারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ইনপেক্টর মুন্সী আবদুল কুদ্দুস জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের কিছু লোক আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে প্রথমে লিবিয়া এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালিতে লোকজন পাচার করে। বাংলাদেশি চক্রের সঙ্গে নাইজেরীয় চক্রের বিরোধ হলে প্রতিশোধস্বরূপ নাইজেরীয় নাগরিকরা ২৮ মে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে। এর মধ্যে ১১ জন মাদারীপুরের।