চট্টগ্রামে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা

আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ায় দিন কাটছে কষ্টে

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসান (৫০) দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের কুলির কাজ করতেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত তার আয় হতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে রেল স্টেশনে কুলির কাজ নেই বললেই চলে। মানুষের আসা-যাওয়া কমে গেছে। যাত্রী নেমে গেছে আগের চেয়ে অর্ধেকেরও কম। যে সব যাত্রী আসা-যাওয়া করছেন তারা কুলিদের কাছে ভিড়তে দেন না। ফলে কামরুলের মতো মানুষরা রোজগার হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। শুধু রেল স্টেশনের কামরুলই নয়, নগরীতে নিম্ন আয়ের দিন এনে দিন খাওয়া হাজারও মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

করোনার প্রভাবে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় খাতুনগঞ্জেও দিনমজুর ও কুলিদের কাজকর্ম কমে গেছে বহুলাংশে। এছাড়া চট্টগ্রামে বেশিরভাগ খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ রয়েছে। এসব হোটেল-রেস্টুরেন্টে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। রিকশা, অটোরিকশা ও গণপরিবহনগুলো চলাচল করলেও সেখানেও যাত্রী কম। আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই। নেই ঠাসাঠাসি। বেকার হয়ে পড়া পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। স্বল্প আয়ের এসব মানুষের ভিড় দেখা মিলছে বাস টার্মিনাল, বাস স্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনে। কম ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে ট্রাকে ওঠার জন্য ভিড় করছেন।

জানা গেছে, করোনার প্রভাবে জনজীবন স্থবির হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর গণপরিবহন শ্রমিক, রিকশা ও অটোরিকশাচালক, গৃহকর্মী, হকারসহ নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। নগরীর জনবহুল ও যানজটের সেই চিরচেনা রূপ এখন নেই। বেশিরভাগ এলাকায় সুনসান নীরবতা। নগরীর নিউ মার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, বহদ্দার হাটে নেই লোকে গিজগিজ করা সেই অবস্থা। মুদি দোকান, ওষুধের দোকান ছাড়া তেমন কোনো দোকানই খোলা নেই। খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ খুললেও সেখানে খরিদ্দার নেই। ফলে এসব দোকানে নিয়েজিত শ্রমিক-কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের লোকজন বেকার অবস্থায় রয়েছেন।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ৫ বছর ধরে কুলির কাজ করা কামরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ৩ মাস ধরে রেল চলাচল বন্ধ ছিল। তাই তাদের কাজও বন্ধ ছিল। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সাহায্য নিয়ে কোনোমতে দিন পার করেছেন। এখন রেল চলাচল করছে। কিন্তু যাত্রী নেই বললেই চলে। কিছু যাত্রী থাকলেও তারা কাছে ভিড়তে দেন না। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতে পারছেন না তিনি। পরিবারের ভরণ-পোষণ নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন তিনি। মিনিবাসচালক সোহাগ বলেন, সারা দিন বাস চালিয়ে যে আয় হতো তাতে খরচ সেরে দিনে আরও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা থাকত। এখন করোনা আতঙ্কের কারণে কমসংখ্যক মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। প্রয়োজনে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তারা সংক্রমণের ভয়ে বাসে উঠছেন না। ফলে গণপরিবহনের যাত্রী কমেছে।

লালদিঘি পাড়ের নিউ সাধু মিষ্টি ভাণ্ডার নামে একটি হোটেলের পরিচালক ব্যবসায়ী দ্বৈপায়ন পাল যুগান্তরকে বলেন, তিন শিফটে তাদের ছোট্ট হোটেলটিতে চাকরি করতেন কারিগর, বয়-ম্যানেজারসহ ৫০ শ্রমিক-কর্মচারী। ৩ মাস বন্ধ থাকার পর রেস্টুরেন্ট খুললেও এখন বেচাকেনা নেই বললেই চলে। কাস্টমার না থাকায় রেস্টুরেন্ট খুলেও লাভ হচ্ছে না। যে আয় হচ্ছে তাতে প্রতিষ্ঠানের ভাড়াও শোধ করা যাচ্ছে না। রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের সবাই বেকার হয়ে গেছেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত