ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ছাড় দেবে না এবি ব্যাংক

-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল

  হামিদ বিশ্বাস ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক ‘আরব বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড (এবি ব্যাংক)’। গত দুই বছরে ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে ১১৪টি মামলা দায়ের করেছে ব্যাংকটি। এসব মামলার বেশির ভাগই করা হয় চেক ডিজঅনার এবং অর্থঋণ আদালতে। রয়েছে বন্ধকি সম্পতি নিলামে তোলার ঘটনাও।

জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আফজাল যুগান্তরকে বলেন, হাতেগোনা কিছু ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি আছেন। যারা ব্যাংকের খারাপ অবস্থার জন্য দায়ী। তারা পারিবারিক জীবনে সব ধরনের ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকেন কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তা আর ফেরত দেন না। এদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের শেষে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০১৯ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ কমেছে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় শত ভাগেরও বেশি। ২০১৯ সালে সাময়িক বিরূপ পরিস্থিতিতেও আমানতকারীরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখেছেন। যে কারণে ২০১৯ শেষে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পর ব্যাংকের আদায় বেড়েছে, কমেছে খেলাপি ঋণ। ফলে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের এ ব্যাংকটি। এবি ব্যাংক জানায়, উচ্চ ঋণখেলাপি এবং লভ্যাংশ দিতে না পারায় দীর্ঘদিন শেয়ারবাজারের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ছিল ব্যাংকটি। এখন ‘বি’ ক্যাটাগরির পথে রয়েছে এবি ব্যাংক।

ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবি ব্যাংকের খেলাপি প্রতিষ্ঠান প্যারাডাইজ কেবলস। কোম্পানিটি থেকে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। অপর খেলাপি প্রতিষ্ঠান প্যারাডাইজ স্পিনিং মিলস। এখানে পাওনা প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। উভয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডির দায়িত্বে আছেন যথাক্রমে মোশাররফ হোসেন এবং মুজিবুর রহমান। দীর্ঘদিন টাকা না দেয়ায় গত ২১ জুন উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে এবি ব্যাংক। এরপর ২৫ জুন প্রতিষ্ঠান দুটির বন্ধকি সম্পত্তিও নিলামে তুলে ব্যাংকটি। একই ঘটনা ঘটেছে মেজেসটিকা হোল্ডিংস লিমিটেড এবং ধলেশ্বারি লিমিটেডের কর্ণধার লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যদের বেলায়। ২০১৯ সালের জুন এবং ২০২০ সালের জুনে মেজেসটিকা হোল্ডিংস লিমিটেড ও ধলেশ্বারি লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টে-১৮৮১ আইনের ক্ষমতা বলে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করে এবি ব্যাংক। ২০১৯ সালের জুনের মামলার ওয়ারেন্ট বাস্তবায়ন হয় ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি। পুলিশের সহায়তায় তাদের বাসভবনে গ্রেফতার অভিযান চালানো হলেও তারা পালিয়ে যায়। ব্যাংকটি বলছে, টাকা ফেরত না দেয়ায় ব্যাংক তাদের বন্ধকি সম্পত্তি নিলাম তোলার সব আইনি প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। বর্তমানে তারা জামিনে থাকলেও ব্যাংকের পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি সব প্রক্রিয়া চলমান। একইভাবে ২০১৯ সালে আমান ফিড লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে ৫টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে এবি ব্যাংক। এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।

২০১৮ সালে এরশাদ ব্রাদার্স কর্পোরেশনের মালিক এরশাদ আলির বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে ব্যাংকটি। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সে মোতাবেক ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই পুলিশের সহায়তায় তার বাসভবনে গ্রেফতার অভিযান চালানো হয় কিন্তু তিনি পালিয়ে যান। বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি। এছাড়াও এবি ব্যাংক ঋণের টাকা উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চালু রেখেছে আশিয়ান এডুকেশন লিমিটেড ও আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত