কুমিল্লায় প্রকাশ্যে হত্যা

হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েই লাপাত্তা কাউন্সিলর

যুবলীগ নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  কুমিল্লা ব্যুরো ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা নগরের দক্ষিণ চাঙ্গিনী এলাকায় ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে (৫৫) প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল ঘাতক কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে গ্রেফতার এড়িয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন সরকারদলীয় প্রভাবশালী এ কাউন্সিলর। এদিকে হত্যার ঘটনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আলমগীরকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় এ মামলা করেন।

পূর্বশত্রুতার জের ধরে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে শত শত মানুষের সামনে আক্তার হোসেনকে তার চাচাতো ভাইয়েরা রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, আলমগীর হোসেন কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল কাউন্সিলর ও তার পরিবার। এসব বিষয়ে নানাভাবে প্রতিবাদ করায় হত্যাকাণ্ডের টার্গেটে পরিণত হন ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন। নিহত ব্যবসায়ীর আরেক চাচাতো ভাই মহিম উদ্দিন জানান, কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনসহ তার ভাইদের রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এলাকায় বাড়িসহ কোনো স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের দিতে হয় চাঁদা, আবার তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেই বাধ্যতামূলক উচ্চমূল্যে সব পণ্য ক্রয় করতে হয়। এছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়েও রয়েছে তাদের চাঁদাবাজিসহ কমিশন বাণিজ্য। এসব অপকর্মের বিরোধিতা করে মহিমসহ এলাকার বেশ কিছু যুবক অসংখ্য মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকারও হয়েছেন।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য কুমিল্লা নগরের সংরাইশ ও শহরতলীর বালুতুপা এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে পাওয়া যায়নি। আলমগীরের তিন ভাই আমির হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে এ মামলার ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং ক্লু উদ্ধারসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত