মধুখালীতে বিধবার জমি দখল করে পুকুর খনন

থানায় অভিযোগ দেয়ায় হত্যার হুমকি প্রভাবশালীর

  জাহিদ রিপন, ফরিদপুর ব্যুরো ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের গরিব, অসহায় এক বিধবার জমি জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খনন করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মাজহারুল ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই বিধবা। অভিযোগ দেয়ায় বিধবাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের খোদাবাসপুর গ্রামের মৃত কাজী আকিদুল ইসলামের বিধবা মেয়ে বিলকিছ বেগমের পুরনো মধুখালী মৌজার ১নং খতিয়ানের (বাঁশপুর মৌজার ২০৫নং দাগ) ১৮ শতাংশ জমি জোর করে দখল করে সেখানে পুকুর খনন করেছেন মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন এবং তার সহযোগী সামছুর রহমান মৌলিক। দখলে বাধা দিতে গেলে বিলকিছ বেগম ও তার ছেলেকে গালাগাল, মারধর করে জীবননাশের হুমকি দেয় মিলন বাহিনী। শেষ সম্বল ধানের জমিটুকু হারিয়ে পথে বসা বিলকিছ বেগম জানান, জমি ফিরে পেতে গ্রামবাসী, বিভিন্ন দফতরে দ্বারস্ত হয়ে কোনো লাভ হয়নি। মিলন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জা মনিরুজ্জামনের ভাতিজা। তার সঙ্গে প্রশাসন ও থানা পুলিশের সখ্য রয়েছে। তাই মিলন বাহিনীর বিচার করতে কেউ সাহস পায় না।

সরেজমিন দেখা যায়, বিলকিছ বেগমের ইজারাকৃত জমি দখল করে সেখানে পুকুর কেটে বাঁশ পুঁতে নেট দিয়ে বেড়া দিয়েছেন মিলন। তার বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউই মুখ খুলতে সাহস পান না। মিলনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ছাড়াও আগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, বৈকুণ্ঠপুর সরকারি বাঁওড় দখলের অভিযোগ রয়েছে মিলন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, পুরান মধুখালী, ঘোষকান্দি, বৈকণ্ঠপুর, খোদাবাশপুর চার গ্রামের মধ্যে অবস্থিত ৪২ একর আয়তনের বৈকুণ্ঠপুর সরকারি উন্মুক্ত বাঁওড়টি স্থানীয় এক সমবায় সমিতির মাধ্যমে দখল করে মিলন বেশ কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করছেন। বাঁওড়ের কাছে গেলেই নির্যাতনের শিকার হন নিরীহ মানুষ। ছোট ছোট ছেলে গোসল করতে গেলেও তাদের মারধর করা হয়। জাল যার, জলা তার- এ আঙ্গিকে বাঁওড়ের চার পাশের সবাই এ সুবিধা ভোগ করার কথা থাকলেও তা দখলে রয়েছে মিলন বাহিনীর হাতে। সরকারি উন্মুক্ত এ বিশাল জলাশয়টি মুক্ত চায় আশপাশের চার গ্রামের মানুষ।

জানতে চাইলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিরিন শারমিন খান জানান, বাঁওড়টি সরকারি উন্মুক্ত জলাশয়। কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে মাছচাষ করায় আমি এ বাঁওড়ে কোনো মৎস্য অবমুক্ত করিনি। তবে আগের কর্মকর্তারা বৈকুণ্ঠপুর বাঁওড়ে মাছ অবমুক্ত করার কথা শুনেছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন যুগান্তরকে বলেন, সব অভিযোগই অসত্য ও ভিত্তিহীন। ওই বাঁওড়ে মৎস্যজীবী সমিতির নামে মাছচাষ করা হয়। আমি কোনো দখল নিইনি। আমি সমিতির একজন সাধারণ সদস্য। এক প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, আমরা ৪২ একরের বাঁওড়টি লিজ নিয়েছি ফরিদা ইয়াসমিনের কাছ থেকে প্রতিবছর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে। এ টাকা ফরিদা ইয়াসমিনের প্রতিনিধি সেলিমের কাছে দেয়া হয়। বিলকিছ বেগমের জমি জবরদখল করে পুকুর খনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমিটি কার আমি জানি না। বিলকিছ বেগমকে আমি চিনি না এবং সেখানে কোনো পুকুর কাটিনি। গত বছর মধুখালী পৌরসভার নির্বাচনে আমি মেয়রপ্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করার পর আমার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ একটি চক্র মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে। হত্যা মামলার আসামি কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোনো হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নই। আমাকে অতিরিক্তভাবে এ হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি কোনো চাঁদাবাজি কিংবা দখল করিনি। বিশাল এ বাঁওড়ের কী কাগজপত্র আছে দেখতে চাইলে তিনি একদিন সময় নিয়েও প্রতিবেদককে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কোরকদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেন জানান, ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি তবে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এক মহিলার অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তফা মনোয়ার বলেন, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত