মোংলা বন্দরে করোনার প্রভাব

টার্গেটে পৌঁছতে পারেনি কাস্টমস

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে মুনাফা অর্জনে

  আমির হোসেন আমু, মোংলা (বাগেরহাট) ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা টার্গেটের বিপরীতে ৩ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে মোংলা কাস্টমস হাউস। তবে আয়ের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এ দুটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় এবং মুনাফা নির্ভর করছে সমুদ্র পথে আমদানি ও রফতানি পণ্যের ওপর। কিন্তু করোনা মহামারীর কিছুটা প্রভাব পড়লেও আয়ের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় তেমন একটা তারতম্য হয়নি।

মোংলা কাস্টমস হাউস ও বন্দর সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে মোংলা কাস্টমস হাউস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেও করোনার কিছুটা প্রভাব পড়ে এ বন্দরে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এ বন্দরে ৯১২টি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এ বন্দরে আসে। হ্যান্ডলিং হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টন বাল্ক কার্গো এবং ৫৭ হাজার ৭৩২ টিইউএস কন্টেইনারজাত পণ্য। আর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৯০৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং ১ কোটি ১০ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়। একই সঙ্গে ৫৯ হাজার ৪৫৭ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বন্দরে আসা আমাদানি-রফতানি পণ্যে (বাল্ব কার্গো) সিমেন্ট, ক্লিংকার এলপিজি গ্যাসের কাঁচামাল ও রিকন্ডিশন গাড়ি এবং কন্টেইনারজাত পণ্যের ওপর নির্ভর করে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কাস্টমসের রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকায়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ২৩৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় গেল অর্থবছরে শতকরা ২ দশমিক ৪৭ ভাগ কমেছে রাজস্ব আয়। আর বছরের শুরুতে রাজস্ব আয়ের টার্গেট নির্ধারণ ছিল ৪ হাজার ৬৯২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বন্দরের আমদানি-রফতানি খাতের পণ্য হ্যান্ডলিং করে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ৩২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ২০৫ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার পরও (৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে) ১১৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৩২৯ কোটি ১২ লাখ টাকা আয় এবং ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার পরও বিগত ওই বছরে ১৩৩ কোটি টাকা বন্দরের মুনাফা অর্জন হয়। রাজস্ব আদায়ে মোংলা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মাদ সেলিম শেখ যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। যে কারণে চীননির্ভর আমদানি-রফতানি কমেছে। আমদানি করা রিকন্ডিশন গাড়ি রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত। গাড়ির এ খাতে ভাটা পড়ায় রাজস্ব কমেছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, গত বছরের তুলনায় বিদেশনির্ভর খাদ্যশস্য আমদানি হ্রাস এবং করোনায় বেশিরভাগ (অধিক ড্রাফটের) বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ঘুরে যথাসময়ে মোংলা পৌঁছতে পারেনি। তাই বন্দরের আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গেল অর্থবছরে বেশি মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামীতে প্রায় ১০ লাখ টিইউএস কন্টেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত