করোনার ধাক্কা

এটিএমে লেনদেন কমে অর্ধেকে নেমেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় এটিএম বুথে এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। যেখানে আগে স্বাভাবিক সময় গড়ে প্রতি মাসে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো। এপ্রিলে তা কমে আট হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে পয়েন্ট অব সেলসের (পিওএস) লেনদেনেও ধস নেমেছে। পিওএসের গড় মাসিক লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকা থেকে কমে মাত্র সাড়ে ৪০০ কোটি টাকায় নেমে আসে। এছাড়া মেশিনে টাকা জমা দেয়ার (সিআরএম) পরিমাণও কমেছে। তবে এই সময়ে ঘরে বসে কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ই-কমার্স লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে এটিএমে মোট এক কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭টি লেনদেন হয়েছিল। এতে ১৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যথাক্রমে ১৪ হাজার ৩২৭ ও ১৪ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা উত্তোলন হয়। কিন্তু এপ্রিলে উত্তোলন কমে দাঁড়ায় আট হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। লেনদেন সংখ্যাও কমে ৯৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪১২টিতে নেমে আসে। জানা গেছে, করোনার কারণে এপ্রিল মাসে ব্যাংকগুলো কোনো এটিএম বুথ, পিওএস, সিআরএম সংখ্যা বাড়ায়নি। তবে এ সময়ে ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে সাধারণ ছুটিতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় পিওএসে লেনদেনও অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, জানুয়ারিতে পিওএসের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। লেনদেন সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮টি। কিন্তু এপ্রিলে তা কমে নেমে আসে মাত্র ৪৫৪ কোটি টাকায়।

অন্যদিকে এপ্রিলে সাধারণ ছুটির মধ্যেও বিভিন্ন ব্যাংকের কিছু কিছু শাখায় পরিষেবা বিল দিতে ও বেতনভাতা উত্তোলনে গ্রাহকের ভিড় দেখা যায়। শাখায় ভিড় করলেও মেশিনে টাকা জমায় (সিআরএম) আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। এ কারণে জানুয়ারিতে যেখানে সিআরএমে জমা হয়েছিল ২৫৫ কোটি টাকা, এপ্রিলে তা কমে নেমে আসে মাত্র ৯১ কোটি টাকায়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে জমার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৪৬ কোটি ও ২৪৪ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলজুড়ে করোনার কারণে সবার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। মানুষ অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে ঘর থেকেও বের হয়নি। এ জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে এপ্রিলে ইন্টারনেটভিত্তিক বা ই-কমার্স লেনদেন বেড়েছে। ঘরে বসে কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৪৭ কোটি ও ২২৪ কোটি টাকা। এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ২৫৪ কোটি টাকা। তবে লেনদেন সংখ্যা আগের চেয়ে খুব বেশি বাড়েনি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত