বন্ধ হওয়া খুলনা টেক্সটাইল মিল

পরিত্যক্ত জায়গা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় বিটিএমসি

  আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা টেক্সটাইল মিলের পরিত্যক্ত ৬৩ একর জায়গা নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি)। ওই জায়গায় টেক্সটাইল পল্লী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও সেখান থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। কারণ প্লট বরাদ্দের টেন্ডারে সাড়া মেলেনি। এ কারণে পাবলিক পার্টনারশিপ প্রকল্পের (পিপিপি) আওতায় এমিউজমেন্ট পার্ক, ফুড কোর্ট অথবা হাসপাতাল নির্মাণের কথা ভাবছে ঊর্ধ্বতন মহল।

জানা যায়, মহানগরীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ১৯৩১ সালে ২৫ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিল স্থাপিত হয়। সেটি ১৯৬০ সালে খুলনা টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড নামে নামকরণ করা হয়। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এটি আদমজীর অধীনে ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মিলটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯৩ সালের ১৯ জুন লে-অফ ঘোষণা করে প্রায় দেড় হাজার কর্মীকে বিদায় দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে ওই জায়গায় খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০০১ নতুন সরকার এলে প্রকল্প পরিত্যক্ত থাকে। ২০০৯ প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু স্বাধীনতার আগে নেয়া ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক মামলা করলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে মিলের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের সোলেনামা মূলে বিরোধ নিষ্পত্তির পর পুনরায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে পরিশোধও হয়েছে ব্যাংকের দুই কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঋণ। মামলা নিষ্পত্তি করে বিটিএমসি খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের জন্য ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন সাইজের ২৪টি শিল্প প্লট বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি দরপত্র বিক্রি হলেও কেউ জমা কেনেনি। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও শিল্প উদ্যোক্তারা কেউ সাড়া দেননি। উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় টেক্সটাইল পল্লী নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিটিএমসি। এখন উক্ত জমি নিয়ে কী করা হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

বিকল্প ভাবনা অনুযায়ী খুলনা টেক্সটাইল পল্লীর বদলে ডেভেলপিং কোম্পানির মাধ্যমে আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের বিষয়ে জোর দেয় বিটিএমসি। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়কে পাঠায় সংস্থাটি। ওই প্রস্তাবনা অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় তোলা হলে সেখানে সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমি বিক্রি না করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সরকারের উন্নয়নমূলক/জনহিতকর কার্যক্রমে জমি ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ বিবেচনা করতে পারে বলে মত দেয়। এরপর থেকে বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ ওই জায়গায় পিপির ভিত্তিতে এমিউজমেন্ট পার্ক, ফুড কোর্ট অথবা হাসপাতাল নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছে। বিটিএমসি’র সচিব কাজী ফিরোজ হোসেন বলেন, টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কোনো সাড়া না মেলায় কেডিএ’র সঙ্গে আলোচনা হয়। কেডিএ ওই স্থানটি টেক্সটাইল পল্লীর উপযুক্ত না বলে মতামত দেয়। যার ফলে পাবলিক-পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানে এমিউজমেন্ট পার্ক, ফুড কোর্ট অথবা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই অগ্রগণ্য হবে বলে তিনি জানান।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আশরাফ উজ্জামান বলেন, টেক্সটাইল পল্লী নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক প্রাণচঞ্চলতা বিরাজ করত। সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। এমিউজমেন্ট পার্ক, ফুড কোর্ট অথবা হাসপাতাল নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষ এতটা সুফল পাবে না।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত