কুষ্টিয়ায় একদিনে চিকিৎসকসহ ৪ জনের মৃত্যু
jugantor
করোনার ছোবল
কুষ্টিয়ায় একদিনে চিকিৎসকসহ ৪ জনের মৃত্যু

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

১৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪ জন। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন কলেজের অধ্যাপক রয়েছেন। অপর দু’জন হলেন আদালতের আইনজীবীর সহকারী ও এক কিশোর। করোনার নতুন হটস্পট কুষ্টিয়ায় শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ছয় উপজেলায় বর্তমানে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মক্ষেত্র কুষ্টিয়ার বিসিক নগরীর কারখানাগুলো করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এখানকার ৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে করোনার উপসর্গ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে করোনায় আক্রান্ত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম নুর উদ্দিন আবু আল বাকী রুমি (৪৮) মারা গেছেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নুর উদ্দিন ডায়বেটিস রোগী ছিলেন। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে। ৩ জুলাই তার করোনা ধরা পড়ে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও তাপস কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অপর দিকে করোনায় মারা গেছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হালসা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোজাহার আলী (৫৯)। বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকায়। তিনি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। এছাড়া কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবীর সহকারী (মহুরি) মোকসেদ আলী (৬৫) করোনায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চৌড়হাস কলোনিপাড়ার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ৩ জুলাই তিনি করোনা পজিটিভ হন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এএইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। করোনায় শিমুল বিশ্বাস (২০) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। শিমুল সদর উপজেলা হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মৃত আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে।

বিসিক শিল্পনগরীর ২০-৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর করোনা উপসর্গ : বিসিক শিল্পনগরী ও আশপাশে অবস্থিত শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ না করায় করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কয়েকটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হলেও কারখানা চত্বরে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়নি। ফলে কল-কারখানাগুলোতে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে।

বিআরবি ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত করোনা আক্রান্ত হিসাব বিভাগের সহব্যবস্থাপক আলী আহমদ লিটন, স্টোর অফিসার ফজলুল হক, আইটি অফিসার আমজাদ হোসেন জুয়েল ও ড্রাইভার জলিল জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যান। বিআরবির ওই তিন কর্মকর্তাসহ ৪ জনই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বিসিক শিল্পনগরীর কল-কারখানায় কর্মরত শতকরা ২০-৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর করোনা উপসর্গ রয়েছে।

চাকরি বাঁচাতে তারা করোনা উপসর্গ নিয়েই কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া বিসিক শিল্পনগরীর পার্শ্ববর্তী কুমারগাড়ায় অবস্থিত বিএটিবিতে কর্মরত একাধিক শ্রমিক-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অরক্ষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মচারীদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পলান বিশ্বাস বিবৃতি দিয়েছেন।

করোনার ছোবল

কুষ্টিয়ায় একদিনে চিকিৎসকসহ ৪ জনের মৃত্যু

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
১৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪ জন। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন কলেজের অধ্যাপক রয়েছেন। অপর দু’জন হলেন আদালতের আইনজীবীর সহকারী ও এক কিশোর। করোনার নতুন হটস্পট কুষ্টিয়ায় শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ছয় উপজেলায় বর্তমানে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মক্ষেত্র কুষ্টিয়ার বিসিক নগরীর কারখানাগুলো করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এখানকার ৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে করোনার উপসর্গ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে করোনায় আক্রান্ত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম নুর উদ্দিন আবু আল বাকী রুমি (৪৮) মারা গেছেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নুর উদ্দিন ডায়বেটিস রোগী ছিলেন। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে। ৩ জুলাই তার করোনা ধরা পড়ে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও তাপস কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অপর দিকে করোনায় মারা গেছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হালসা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোজাহার আলী (৫৯)। বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকায়। তিনি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। এছাড়া কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবীর সহকারী (মহুরি) মোকসেদ আলী (৬৫) করোনায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চৌড়হাস কলোনিপাড়ার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ৩ জুলাই তিনি করোনা পজিটিভ হন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এএইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। করোনায় শিমুল বিশ্বাস (২০) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান। শিমুল সদর উপজেলা হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মৃত আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে।

বিসিক শিল্পনগরীর ২০-৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর করোনা উপসর্গ : বিসিক শিল্পনগরী ও আশপাশে অবস্থিত শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ না করায় করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কয়েকটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হলেও কারখানা চত্বরে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়নি। ফলে কল-কারখানাগুলোতে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে।

বিআরবি ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত করোনা আক্রান্ত হিসাব বিভাগের সহব্যবস্থাপক আলী আহমদ লিটন, স্টোর অফিসার ফজলুল হক, আইটি অফিসার আমজাদ হোসেন জুয়েল ও ড্রাইভার জলিল জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যান। বিআরবির ওই তিন কর্মকর্তাসহ ৪ জনই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বিসিক শিল্পনগরীর কল-কারখানায় কর্মরত শতকরা ২০-৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর করোনা উপসর্গ রয়েছে।

চাকরি বাঁচাতে তারা করোনা উপসর্গ নিয়েই কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া বিসিক শিল্পনগরীর পার্শ্ববর্তী কুমারগাড়ায় অবস্থিত বিএটিবিতে কর্মরত একাধিক শ্রমিক-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অরক্ষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মচারীদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পলান বিশ্বাস বিবৃতি দিয়েছেন।