জাতীয় পার্টিতে আসিফ ফেরায় তৃণমূলে উচ্ছ্বাস
jugantor
দেড় বছর পর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার
জাতীয় পার্টিতে আসিফ ফেরায় তৃণমূলে উচ্ছ্বাস

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

২০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্রাতুষ্পুত্র হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বহিষ্কারের আড়াই বছর পর আসিফকে ঘরে নেয়ায় রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আনন্দিত। তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এরশাদ পরিবারের কোনো সদস্য আসার যে আকাঙ্ক্ষা তৃণমূল নেতাকর্মীরা এতদিন মনে পুষে রেখেছিল-আনন্দ-উচ্ছ্বাস তারই বহিঃপ্রকাশ। এরশাদের অনুজ ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে আসিফ। তাকে এরশাদ খুব স্নেহ করতেন।

২০১৭ সালের রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন আসিফ। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের এক আদেশে আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আসিফকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। বহিষ্কারের দুই বছর সাত মাস ১০ দিন পর রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসিফকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়। আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় জিএম কাদেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ভক্ত ও সমর্থকরা। তাদের মধ্যে বিপুল আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

এ বিষয়ে রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির তৃণমূলের কর্মী বদিউজ্জামান রঞ্জু বলেন, আসিফ শাহরিয়ার হচ্ছেন এরশাদ পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি। এরশাদ তাকে ভাতিজা নয়, নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতেন। আসিফ তৃণমূলের নেতা। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আবার সুসংগঠিত হবে।

তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ে এরশাদ পরিবারের সন্তান হিসেবে আসিফের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কারণ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে তিনি তাদের পাশে থেকেছেন। পার্টিকে শক্তিশালী করতে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর এক প্রতিক্রিয়ায় আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার বড় আব্বা মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন ৬৮ হাজার গ্রামবাংলার নয়নমণি। তার (এরশাদ) সরকারের আমলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তার অনেক স্বপ্ন রয়ে গেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে হলে আগে দল গোছাতে হবে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূলে কমিটি গঠন করতে হবে।’

জানা গেছে, দলের নির্দেশ অমান্য করে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আসিফ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব আসিফকে বহিষ্কার করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় আসিফের দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ ও পদবি কেড়ে নেয়া হয়। এরপর অভিমানী আসিফ নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির মাঠে তাকে দেখা যায়নি। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই এরশাদ মারা গেলে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি) আসনটি শূন্য হয়। ওই আসনের উপনির্বাচনে শাদ এরশাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আফিস হেরে যান।

২০০৮ সালে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আসিফ। এ ছাড়া তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, রংপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও বিলুপ্ত রংপুর পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেড় বছর পর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

জাতীয় পার্টিতে আসিফ ফেরায় তৃণমূলে উচ্ছ্বাস

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
২০ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্রাতুষ্পুত্র হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বহিষ্কারের আড়াই বছর পর আসিফকে ঘরে নেয়ায় রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আনন্দিত। তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এরশাদ পরিবারের কোনো সদস্য আসার যে আকাঙ্ক্ষা তৃণমূল নেতাকর্মীরা এতদিন মনে পুষে রেখেছিল-আনন্দ-উচ্ছ্বাস তারই বহিঃপ্রকাশ। এরশাদের অনুজ ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে আসিফ। তাকে এরশাদ খুব স্নেহ করতেন।

২০১৭ সালের রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন আসিফ। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের এক আদেশে আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আসিফকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। বহিষ্কারের দুই বছর সাত মাস ১০ দিন পর রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসিফকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়। আসিফের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় জিএম কাদেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ভক্ত ও সমর্থকরা। তাদের মধ্যে বিপুল আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

এ বিষয়ে রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির তৃণমূলের কর্মী বদিউজ্জামান রঞ্জু বলেন, আসিফ শাহরিয়ার হচ্ছেন এরশাদ পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি। এরশাদ তাকে ভাতিজা নয়, নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতেন। আসিফ তৃণমূলের নেতা। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আবার সুসংগঠিত হবে।

তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ে এরশাদ পরিবারের সন্তান হিসেবে আসিফের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কারণ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে তিনি তাদের পাশে থেকেছেন। পার্টিকে শক্তিশালী করতে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর এক প্রতিক্রিয়ায় আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার বড় আব্বা মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন ৬৮ হাজার গ্রামবাংলার নয়নমণি। তার (এরশাদ) সরকারের আমলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তার অনেক স্বপ্ন রয়ে গেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে হলে আগে দল গোছাতে হবে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূলে কমিটি গঠন করতে হবে।’

জানা গেছে, দলের নির্দেশ অমান্য করে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আসিফ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব আসিফকে বহিষ্কার করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় আসিফের দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ ও পদবি কেড়ে নেয়া হয়। এরপর অভিমানী আসিফ নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির মাঠে তাকে দেখা যায়নি। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই এরশাদ মারা গেলে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি) আসনটি শূন্য হয়। ওই আসনের উপনির্বাচনে শাদ এরশাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আফিস হেরে যান।

২০০৮ সালে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আসিফ। এ ছাড়া তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, রংপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও বিলুপ্ত রংপুর পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন