দালালরা এখনও সক্রিয়

দৌলতদিয়ায় পশুবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে আসা ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলগামী পশুবাহী ট্রাকের চাপ ক্রমেই বাড়ছে দৌলতদিয়া ঘাটে। সেই সঙ্গে অন্য যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় শত শত যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ছে। গরুবাহী প্রতিটি গাড়ি ফেরির নাগাল পেতে অন্তত ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও গরু ব্যাপারীরা। প্রখর রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক গরু।

গরুবাহী গাড়িকে দালালমুক্ত রাখার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকায় এসব গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মহাসড়কে ২-৩ দিন ধরে আটকে থাকা কোনো কোনো যানবাহনচালক দালালদের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে ফেরিতে উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে পদ্মা-যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্রোতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানির সাধারণ লেভেল ৮.৬৫ মিটার। রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮ সেমি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১৮ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতদিয়ার ৩, ৪ ও ৬নং ফেরিঘাটে অ্যাপ্রোচ সড়কে পানি উঠে গেছে। তবে বালু ও খোয়া ফেলে কর্তৃপক্ষ ঘাট চালু রেখেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই গত কয়েকদিনের মতো সারাদিন বহু পশুবাহী ট্রাক নদী পারের জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে আসছে। পশুবাহী যানবাহনগুলোকে আলাদা একটি লেন করে ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দিচ্ছে পুলিশ ও ফেরি কর্তৃপক্ষ। তারপরও ফেরি সংকটে পশুবাহী গাড়িগুলো ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত মহাসড়কে আটকে থাকছে। এতে অনেক গরু প্রচণ্ড রোদে-গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাখালরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে গরুগুলোকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছে। এছাড়া দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কে ৩ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক নদী পারের অপেক্ষায় ছিল। অপরদিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আরও অন্তত ৩ শতাধিক অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান নদী পারের অপেক্ষায় আটকে থাকে। বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া অফিস জানায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই মারাত্মকভাবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচলে ৩০-৩৫ মিনিট সময় লাগত সেখানে বর্তমানে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। ফেরিগুলোকে ঘাটে পৌঁছাতে অন্তত ২-৩ কিমি. ভাটিতে ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে করে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাশাপাশি বেড়েছে যানবাহন। ফলে ঘাটে গাড়ি আটকা পড়ছে।

৫নং ঘাট এলাকায় ফরিদপুরের কানাইপুর থেকে আসা পটেটো চিপস বোঝাই পিকআপচালক শহীদ গাজী জানান, তিনি ২ দিন ধরে মহাসড়কে আটকে ছিলেন। রোববার বেলা ২টার দিকে জসিম নামের স্থানীয় এক দালাল তাকে দ্রুত ফেরিতে উঠিয়ে দেয়ার কথা বলে দেড় হাজার টাকা নেয়। তার পিকআপের জন্য ফেরির টিকিট মূল্য ৭৪০ টাকা। তিনি বলেন, দালালের সহায়তায় আমি সিরিয়াল ভেঙে ৫নং ঘাটে চলে এলেও আটকে দেন ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই শফিকুল ইসলাম। তিনি আমার কাছ থেকে ফেরির টিকিট নিয়ে নেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পর দালাল জসিম ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে আমার টিকিট এনে দিয়ে ফেরিতে তুলে দেন। তবে এসআই শফিকুল ইসলাম জসিম নামের কোনো দালালকে চেনেন না এবং কোনো চালকের কাছ থেকে নেয়া টিকিট দালালের হাতে ফেরত দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান জানান, তার কোনো সদস্য চাঁদাবাজি বা দালাল চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। তবে ট্রাফিক পুলিশের কথা বলে কোনো দালাল যদি চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র সে াতের কারণে নদীতে ফেরি চলাচল ও ঘাটে ভিড়তে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। নৌপথে চলমান ১৪টি ফেরির বহরে আরও দুটি ফেরি যুক্ত হবে। এতে আশা করা যায় ফেরি সংকট কেটে যাবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত