চট্টগ্রামে করোনা সনদ পেতে বিদেশগামীদের চরম ভোগান্তি
jugantor
চট্টগ্রামে করোনা সনদ পেতে বিদেশগামীদের চরম ভোগান্তি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে করোনা সনদ পেতে প্রবাসীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাতভর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অবস্থান করেও সনদ মিলছে না। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নানা কৌশলে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভার জটিলতার কারণে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে সময় লাগছে। এছাড়া লোকবল সংকট রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৩ জুলাই থেকে আকাশপথে বিদেশ গমনকারীদের জন্য কোভিড পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বিদেশগামী যাত্রী যে জেলার, সে জেলার সিভিল সার্জন অফিসে স্থাপিত বুথে নমুনা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার জন্য টাকা জমা এবং নাম নিবন্ধন করতে হয় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। প্রবাসীদের সেবা দেয়ার জন্য সেখানে ‘প্রবাসী ডেস্ক’ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়। বিদেশগামী প্রায় সব ফ্লাইটই এখন ঢাকা থেকে ছাড়ছে। ফলে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা নিজ শহর থেকে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে নিয়েই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। রোববার তিনশ’ বিদেশগামীর করোনা সনদ দেয়ার কথা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে। সকাল থেকে বিকাল পার হয়। কিন্তু মেলেনা সনদ। এভাবে রাত ১১টা পর্যন্ত রিপোর্ট ডেলিভারি দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরে বলা হয়, সোমবার ভোর ৪টায় রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হবে। সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় রাতে খোলা আকাশের নিচে চেয়ার পেতে অপেক্ষা করেন অনেকে। একইভাবে সোমবারও ২৬৩ জনের রিপোর্ট দেয়ার কথা। সনদ নিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভিড় করলেও সন্ধ্যায় ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ সনদ পায়নি।

জানতে চাইলে বিআইটিআইডি হাসপাতালের ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, আমরা বিকেল ৪টার মধ্যেই প্রবাসীদের করোনা রিপোর্ট তৈরির কাজ শেষ করি। কিন্তু সার্ভার জটিলতায় কিউআর কোড সংবলিত রিপোর্ট তৈরি করতে দীর্ঘসময় লেগে যাচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি, কোনোটাই নেই। বলা যায়, ‘ঢাল নেই, তালোয়ার নেই নিধিরাম সরদার’।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সার্ভার সমস্যা, লোকবল সংকট ও পর্যাপ্ত আইটি এক্সপার্ট না থাকায় কোভিড সনদ পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা। বর্তমানে দিনরাত শিফটিং করে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে ঈদের পর প্রবাসীদের চাপ আরও বাড়বে। তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

পরিস্থিতি সামাল দেয়া প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, ঈদের পর প্রবাসীদের জন্য আরও একটি কেন্দ্র বাড়াতে হবে। তা না হলে চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। এছাড়া সার্ভারের পূর্ণ সক্ষমতা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে করোনা সনদ পেতে বিদেশগামীদের চরম ভোগান্তি

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে করোনা সনদ পেতে প্রবাসীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাতভর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অবস্থান করেও সনদ মিলছে না। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নানা কৌশলে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভার জটিলতার কারণে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে সময় লাগছে। এছাড়া লোকবল সংকট রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৩ জুলাই থেকে আকাশপথে বিদেশ গমনকারীদের জন্য কোভিড পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বিদেশগামী যাত্রী যে জেলার, সে জেলার সিভিল সার্জন অফিসে স্থাপিত বুথে নমুনা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার জন্য টাকা জমা এবং নাম নিবন্ধন করতে হয় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। প্রবাসীদের সেবা দেয়ার জন্য সেখানে ‘প্রবাসী ডেস্ক’ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়। বিদেশগামী প্রায় সব ফ্লাইটই এখন ঢাকা থেকে ছাড়ছে। ফলে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা নিজ শহর থেকে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে নিয়েই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। রোববার তিনশ’ বিদেশগামীর করোনা সনদ দেয়ার কথা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে। সকাল থেকে বিকাল পার হয়। কিন্তু মেলেনা সনদ। এভাবে রাত ১১টা পর্যন্ত রিপোর্ট ডেলিভারি দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরে বলা হয়, সোমবার ভোর ৪টায় রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হবে। সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় রাতে খোলা আকাশের নিচে চেয়ার পেতে অপেক্ষা করেন অনেকে। একইভাবে সোমবারও ২৬৩ জনের রিপোর্ট দেয়ার কথা। সনদ নিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভিড় করলেও সন্ধ্যায় ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ সনদ পায়নি।

জানতে চাইলে বিআইটিআইডি হাসপাতালের ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, আমরা বিকেল ৪টার মধ্যেই প্রবাসীদের করোনা রিপোর্ট তৈরির কাজ শেষ করি। কিন্তু সার্ভার জটিলতায় কিউআর কোড সংবলিত রিপোর্ট তৈরি করতে দীর্ঘসময় লেগে যাচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি, কোনোটাই নেই। বলা যায়, ‘ঢাল নেই, তালোয়ার নেই নিধিরাম সরদার’।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সার্ভার সমস্যা, লোকবল সংকট ও পর্যাপ্ত আইটি এক্সপার্ট না থাকায় কোভিড সনদ পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা। বর্তমানে দিনরাত শিফটিং করে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে ঈদের পর প্রবাসীদের চাপ আরও বাড়বে। তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

পরিস্থিতি সামাল দেয়া প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, ঈদের পর প্রবাসীদের জন্য আরও একটি কেন্দ্র বাড়াতে হবে। তা না হলে চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। এছাড়া সার্ভারের পূর্ণ সক্ষমতা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।