‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চলাচল এখনও
jugantor
পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ৬ বছর
‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চলাচল এখনও

  কাজী জেবেল  

০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাওয়া-শিবচর (বর্তমানে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী) রুটের পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে শতাধিক যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনার ছয় বছর পূর্ণ হয় মঙ্গলবার। ২০১৪ সালের এই দিনে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি আজও শনাক্ত বা উদ্ধার হয়নি।

ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ‘সানকেন ডেক’ (ছোট লঞ্চ যার ডেক সমতল নিচে থাকে) লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে তা বন্ধের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ এখনও কার্যকর করেনি নৌপরিবহন অধিদফতর। এ সংস্থাটির হিসাবে বর্তমানে ২৩২টি সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ চলাচল করছে। আর মালিকদের হিসাবে সারা দেশে প্রায় চারশ’ সানকেন ডেক লঞ্চযাত্রী বহন করছে। সর্বশেষ বুড়িগঙ্গায় এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এমএল মর্নিং বার্ড সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ছিল। ওই ঘটনায় ৩৪ জন মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ঘটনায় হতাহতদের পরিবার এখনও বিচার পায়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় মেরিন কোর্টের মামলাটিও দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত হয়ে আছে। ওই ঘটনায় পুলিশ ও নৌপরিবহন অধিদফতরের পৃথক প্রতিবেদনে মালিক-চালকসহ যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের কারও সাজা হয়নি। উল্টো কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি ওই ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করতে গঠিত রি-সার্ভে কমিটিও বাতিল করা হয়েছে। মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে এখনও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর নতুন কোনো সানকেন ডেক লঞ্চ অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। বর্তমানে যেসব লঞ্চ চলাচল করছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। যাত্রীদের স্বার্থে এটা করতে হবে। তিনি বলেন, কমিটির বেশির ভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।’

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট উত্তাল পদ্মা নদী আড়াআড়িভাবে পারি দিতে গিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ লঞ্চটি। বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, লঞ্চটি এখনও তোলা সম্ভব হয়নি। এর ধ্বংসাবশেষও শনাক্ত করা যায়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৪৯ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয় ও ৫৩ জন নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৩০টির বেশি সুপারিশ করা হয়। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে- তিন ধাপে ওইসব সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। কিন্তু বেশির ভাগ সুপারিশই বাস্তবায়ন হয়নি।

সুপারিশগুলোর অন্যতম হচ্ছে- সানকেন ডেকবিশিষ্ট নৌযানের নতুন নকশা অনুমোদন করা যাবে না। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্ক্র্যাপ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই স্থলে বড় আকৃতির ওয়েদার ডেকবিশিষ্ট যাত্রীবাহী নৌযান প্রতিস্থাপন করতে হবে।

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর থেকে সানকেন নৌযানের নতুন নকশা অনুমোদন বন্ধ আছে। তবে নৌপরিবহন অধিদফতরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৩২টিই সানকেন ডেকবিশিষ্ট নৌযান চলাচল করছে। এর মধ্যে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ৮৭টি, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ৩৪টি, ভৈরব অঞ্চলে ৪০টি, পটুয়াখালী অঞ্চলে ১২টি, বরিশাল অঞ্চলে ৩৫টি, পিরোজপুরে ২টি ও ঢাকা নদীবন্দরে ২২টি লঞ্চ যাত্রী বহন করছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১২ হাজার ৯৫৯টি বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে। এর মধ্যে ৮৩৯টি যাত্রীবাহী নৌযান। এছাড়া সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চগুলো সরিয়ে ওয়েদার ডেক লঞ্চ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব লঞ্চে যাত্রী চলাচল করছেন।

এ বিষয়ে বুয়েটের নেভার আর্ক্টিটেক্ট ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এনএম গোলাম জাকারিয়া বলেন, ‘সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সে াত আছে এমন নদীতে এসব লঞ্চ চলতে দেয়া উচিত নয়। সে াত বা কাত হয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে এ লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকে গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এ ধরনের লঞ্চ ডুবে যায়। কাঠামোগত কারণে এ লঞ্চের ভেতরে অবস্থান করা যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে না। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।’

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির কয়েক মাস পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের পদ্মা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এমভি মোস্তফা নামের একটি লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৭৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেটিও সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ছিল।

সর্বশেষ ২৯ জুন ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ নামের বড় লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামের সানকেনবিশিষ্ট লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৩৪ জন মারা যান। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ পর্যায়ক্রমে তুলে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ৬ বছরেও সাজা হয়নি : দুর্ঘটনার পর পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু, তার ছেলে ওমর ফারুক লিমন, চালক (সুকানি) গোলাম নবী বিশ্বাস, ইঞ্জিনচালক মো. ছবদের মোল্লাকে দায়ী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্ট ও মুন্সীগঞ্জে পৃথক দুটি মামলা হয়। কিন্তু লঞ্চের মালিক পক্ষের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত হয়ে আছে। এ বিষয়ে মেরিন কোর্টের প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেরিন কোর্টের মামলা স্থগিত হয়ে আছে। উচ্চ আদালতে আমাদের জবাব পাঠিয়েছি। মুন্সীগঞ্জে দায়ের হওয়া মামলা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানি না।

জানা যায়, ওই ঘটনায় লঞ্চের সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমান, নৌপরিবহন অধিদফতরের তৎকালীন চিফ ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফখরুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিট্রা বিভাগের তৎকালীন পরিচালক শফিকুল হক, যুগ্ম-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল হকসহ কয়েকজনকে দায়ী করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করার কমিটি বাতিল : পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চিহ্নিত করতে রি-সার্ভে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে চলাচলকারী প্রায় সব লঞ্চে ত্রুটি খুঁজে পায়। এতে মালিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওই কমিটি বাতিল করে দেয়। এর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চলাচলকারী ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চকে এখনও ফিটনেস সনদ দিয়ে যাচ্ছেন নৌপরিবহন অধিদফতরের সার্ভেয়াররা।

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ৬ বছর

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চলাচল এখনও

 কাজী জেবেল 
০৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাওয়া-শিবচর (বর্তমানে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী) রুটের পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে শতাধিক যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনার ছয় বছর পূর্ণ হয় মঙ্গলবার। ২০১৪ সালের এই দিনে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি আজও শনাক্ত বা উদ্ধার হয়নি।

ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ‘সানকেন ডেক’ (ছোট লঞ্চ যার ডেক সমতল নিচে থাকে) লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে তা বন্ধের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ এখনও কার্যকর করেনি নৌপরিবহন অধিদফতর। এ সংস্থাটির হিসাবে বর্তমানে ২৩২টি সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ চলাচল করছে। আর মালিকদের হিসাবে সারা দেশে প্রায় চারশ’ সানকেন ডেক লঞ্চযাত্রী বহন করছে। সর্বশেষ বুড়িগঙ্গায় এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এমএল মর্নিং বার্ড সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ছিল। ওই ঘটনায় ৩৪ জন মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ঘটনায় হতাহতদের পরিবার এখনও বিচার পায়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় মেরিন কোর্টের মামলাটিও দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত হয়ে আছে। ওই ঘটনায় পুলিশ ও নৌপরিবহন অধিদফতরের পৃথক প্রতিবেদনে মালিক-চালকসহ যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের কারও সাজা হয়নি। উল্টো কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি ওই ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করতে গঠিত রি-সার্ভে কমিটিও বাতিল করা হয়েছে। মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে এখনও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর নতুন কোনো সানকেন ডেক লঞ্চ অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। বর্তমানে যেসব লঞ্চ চলাচল করছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। যাত্রীদের স্বার্থে এটা করতে হবে। তিনি বলেন, কমিটির বেশির ভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।’

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট উত্তাল পদ্মা নদী আড়াআড়িভাবে পারি দিতে গিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ লঞ্চটি। বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, লঞ্চটি এখনও তোলা সম্ভব হয়নি। এর ধ্বংসাবশেষও শনাক্ত করা যায়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৪৯ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয় ও ৫৩ জন নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৩০টির বেশি সুপারিশ করা হয়। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে- তিন ধাপে ওইসব সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। কিন্তু বেশির ভাগ সুপারিশই বাস্তবায়ন হয়নি।

সুপারিশগুলোর অন্যতম হচ্ছে- সানকেন ডেকবিশিষ্ট নৌযানের নতুন নকশা অনুমোদন করা যাবে না। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্ক্র্যাপ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই স্থলে বড় আকৃতির ওয়েদার ডেকবিশিষ্ট যাত্রীবাহী নৌযান প্রতিস্থাপন করতে হবে।

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর থেকে সানকেন নৌযানের নতুন নকশা অনুমোদন বন্ধ আছে। তবে নৌপরিবহন অধিদফতরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৩২টিই সানকেন ডেকবিশিষ্ট নৌযান চলাচল করছে। এর মধ্যে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ৮৭টি, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ৩৪টি, ভৈরব অঞ্চলে ৪০টি, পটুয়াখালী অঞ্চলে ১২টি, বরিশাল অঞ্চলে ৩৫টি, পিরোজপুরে ২টি ও ঢাকা নদীবন্দরে ২২টি লঞ্চ যাত্রী বহন করছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১২ হাজার ৯৫৯টি বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে। এর মধ্যে ৮৩৯টি যাত্রীবাহী নৌযান। এছাড়া সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চগুলো সরিয়ে ওয়েদার ডেক লঞ্চ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব লঞ্চে যাত্রী চলাচল করছেন।

এ বিষয়ে বুয়েটের নেভার আর্ক্টিটেক্ট ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এনএম গোলাম জাকারিয়া বলেন, ‘সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সে াত আছে এমন নদীতে এসব লঞ্চ চলতে দেয়া উচিত নয়। সে াত বা কাত হয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে এ লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকে গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এ ধরনের লঞ্চ ডুবে যায়। কাঠামোগত কারণে এ লঞ্চের ভেতরে অবস্থান করা যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে না। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।’

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির কয়েক মাস পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের পদ্মা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এমভি মোস্তফা নামের একটি লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৭৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেটিও সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ছিল।

সর্বশেষ ২৯ জুন ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ নামের বড় লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামের সানকেনবিশিষ্ট লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৩৪ জন মারা যান। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ পর্যায়ক্রমে তুলে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ৬ বছরেও সাজা হয়নি : দুর্ঘটনার পর পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু, তার ছেলে ওমর ফারুক লিমন, চালক (সুকানি) গোলাম নবী বিশ্বাস, ইঞ্জিনচালক মো. ছবদের মোল্লাকে দায়ী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্ট ও মুন্সীগঞ্জে পৃথক দুটি মামলা হয়। কিন্তু লঞ্চের মালিক পক্ষের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত হয়ে আছে। এ বিষয়ে মেরিন কোর্টের প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেরিন কোর্টের মামলা স্থগিত হয়ে আছে। উচ্চ আদালতে আমাদের জবাব পাঠিয়েছি। মুন্সীগঞ্জে দায়ের হওয়া মামলা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানি না।

জানা যায়, ওই ঘটনায় লঞ্চের সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমান, নৌপরিবহন অধিদফতরের তৎকালীন চিফ ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফখরুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিট্রা বিভাগের তৎকালীন পরিচালক শফিকুল হক, যুগ্ম-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল হকসহ কয়েকজনকে দায়ী করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করার কমিটি বাতিল : পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চিহ্নিত করতে রি-সার্ভে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে চলাচলকারী প্রায় সব লঞ্চে ত্রুটি খুঁজে পায়। এতে মালিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওই কমিটি বাতিল করে দেয়। এর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চলাচলকারী ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চকে এখনও ফিটনেস সনদ দিয়ে যাচ্ছেন নৌপরিবহন অধিদফতরের সার্ভেয়াররা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন