চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

মেয়াদপূর্তির একদিন আগে বাজেট ঘোষণা মেয়রের

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়াদপূর্তির একদিন আগে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাব হল রুমে ২০২০-২১ অর্থবছরের ২ হাজার ৪৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেট পেশ করেন। এটি ছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের শেষ বাজেট। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৯৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট সাধারণ সভায় পাস করা হয়।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি মেগা সিটি, স্মার্ট সিটি, নির্মল শহর, নির্মল পরিবেশবান্ধব শহর নগরবাসীর প্রত্যাশা। সামর্থ্যরে মধ্যে সেই প্রত্যাশা পূরণে চসিক নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যতটুকু সদিচ্ছা আছে ততটুকু আর্থিক সক্ষমতা নেই। তাই আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া নগরবাসীর শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ করা যায় না। আর্থিক সক্ষমতা না থাকাতে পৌরকরের ওপর নির্ভর করে সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটা করতে হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যে সুযোগ আছে সেটা গ্রহণের বিকল্প নেই। কিন্তু এটা করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছি এবং প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। এতে চট্টগ্রামই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি আমি সফল হতাম, তাহলে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে তা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়ে যেত- ফলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন সহজ হতো। মেয়র আরও বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ উৎসব ভাতা এবং নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। তা কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসনিক ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তার ওপর পূর্বসূরির ২৯৫ কোটি ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৭৪ টাকা দেনা ছিল। পৌরকর পরিশোধে যারা অক্ষম তাদের রিভিউ বোর্ড গঠন করে কমিয়ে দিয়েছি। চসিকে শিক্ষা খাতে প্রতি বছর ৪২ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। এখন দিতে হচ্ছে ৩৬ কোটি টাকা। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি ছিল না, অনেক সমস্যা ছিল, সমাধান করেছি। পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় ১ হাজার ৩৩৯টি ডাস্টবিন ও ডাম্পিং স্টেশন ছিল। সেটা ২৫০-এ কমিয়ে এনেছি। নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য ২ হাজার ডোর-টু-ডোর সেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ডাস্টবিনমুক্ত নগর ও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে চসিক।

নগরীর জলাবদ্ধতা সম্পর্কে মেয়র বলেন, এ সমস্যা নিরসনে বিগত ৪ বছরে নগরীর প্রতিটি সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার ১টি মেগা প্রকল্প সিডিএকে অনুমোদন দিয়েছেন, যার বাস্তবায়ন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চলমান রয়েছে।

বাজেট অধিবেশন পরিচালনা করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। উপস্থিত ছিলেন- চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জোবাইরা নার্গিস খান, প্রফেসর ড. নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, অর্থ ও সংস্থাপন কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন, চসিক কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলমসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত