রাজশাহীতে নদীর পানিতে শত শত চামড়া
jugantor
রাজশাহীতে নদীর পানিতে শত শত চামড়া

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর কোথাও বিক্রি হয়েছে পানির দরে, আবার কোথাও দাম না পেয়ে নদীর পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে হাজার হাজার চামড়া। অনেকেই মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন শত শত চামড়া। কোরবানির চামড়া নিয়ে এ বিপর্যয় ঘটেছে সর্বত্রই। আশপাশের জেলাগুলোতে কোরবানির চামড়া নিয়ে ঘটেছে একই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি। এবার কোরবানির পশুর ১০ শতাংশ চামড়াও বিক্রি করতে পারেননি লোকজন। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনুপস্থিতি ও আড়তে চামড়া না নেয়াসহ বিভিন্ন কারণে চামড়া বিক্রিতে এ বিপর্যয় ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এবার একটি খাসির চামড়া তারা বিক্রি করেছেন পাঁচ টাকায়। কেউ বিক্রি করেছেন ১০ টাকায়। আর বড় গরুর একটি চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকায়। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার বলছিলেন, চামড়া নিয়ে এ এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। মূল্যবান সম্পদ চামড়া নিয়ে এমন অবহেলা তার জন্মেও তিনি আর দেখেননি। এমন নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ চামড়াই নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের হিসাব মতে, এবারের কোরবানিতে জেলায় দুই লাখ ৬০ হাজার গরু খাসি কোরবানি হয়। তবে ক্রেতা বা ব্যবসায়ী না থাকায় এক লাখ চামড়াও সংগৃহীত হয়নি বলে তারা প্রাথমিক হিসাবে জানতে পেরেছেন। বাকি বিপুল সংখ্যক চামড়া লোকজন নিজেরাই নদীতে ফেলে দিয়েছে অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এমনিতেই করোনা পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে গ্রামে যায়নি। আবার শহর এলাকায় তারা কিছু চামড়া কিনলেও আড়তে বিক্রি হয়নি দাম না থাকায়। মৌগাছি গ্রামের তসলিম উদ্দিন প্রামাণিক বলছিলেন, তার গ্রামে শতাধিক গরু খাসি কোরবানি হয়েছে। ক্রেতা না থাকায় একটি চামড়াও তারা বিক্রি করতে পারেননি। রাতের বেলা সেসব চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন। কাকনহাট বাজারের আবদুল রশিদ সরকার বলেন, তাদের এলাকায় খাসির একটি চামড়া বিক্রি করেছেন পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকায়। আর বড় গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ২০০ টাকা করে, তাও বাকিতে। গ্রামের ক’জন মৌসুমি ব্যবসায়ীকে তারা চামড়া গছিয়ে দিয়েছেন প্রায় জোর করে। গোদাগাড়ীর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু চামড়ার বাজারে দাম না ওঠায় রাজশাহী ও নাটোরের আড়তদাররা নিতে চাননি। ফলে সেসব চামড়া বাধ্য হয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তারা। এতে তাদের কিছু আর্থিক ক্ষতি হলেও চামড়ার মতো দ্রুত পচনশীল জিনিস নিয়ে তাদের আর কিছু করার ছিল না। তাদের মতো অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী কিছু কিছু চামড়া কিনলেও শেষে তারা চামড়া ফেলে দিয়েছেন। কুমরপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবরসহ সাতজন ব্যক্তি একসঙ্গে একটি গরু কোরবানি দেন। আলী আকবর বলেন, আমাদের গরুর দাম ছিল ৯০ হাজার টাকা। মাংস হয়েছে ৪ মণ। চামড়ার দাম পেয়েছি ২০০ টাকা। একরকম জোর করেই চামড়াটা দেয়া হয়েছে। এলাকায় পাঁচ টাকায় খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে।

রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের বিপুল বকেয়া টাকা পড়ে আছে। করোনার কারণে হাতেও টাকা নেই। সরকার কমিয়ে দাম নির্ধারণ করে দিলেও টাকার অভাবে তারা চামড়া কিনতে পারেননি। আবার যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কিনে তাদের আড়তে দেন, তাদের চামড়াও কেনা যায়নি টাকা না থাকায়। ফলে গ্রামগঞ্জের বিপুল পরিমাণ চামড়া মানুষ ফেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও কেনা চামড়া আড়তে বেচতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মকর্তা অন্তিম কুমার দাস জানিয়েছেন, কোরবানির আগে জেলায় গরু ও মহিষ ছিল প্রায় এক লাখ আর ছাগল ছিল দুই লাখ ২৮ হাজার। অন্যান্য পশু ছিল ৪২ হাজার। সব মিলে কোরবানি জন্য পশু মজুদ ছিল তিন লাখ ৭০ হাজার। জেলায় দুই লাখ ৬০ হাজার পশু কোরবানি হওয়ার কথা। সেই হিসাবে আড়াই লাখ চামড়া থাকার কথা। তারা জানার চেষ্টা করছেন কত ভাগ চামড়া সংগৃহীত হয়েছে আর কত ভাগ নষ্ট হয়েছে।

রাজশাহীতে নদীর পানিতে শত শত চামড়া

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর কোথাও বিক্রি হয়েছে পানির দরে, আবার কোথাও দাম না পেয়ে নদীর পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে হাজার হাজার চামড়া। অনেকেই মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন শত শত চামড়া। কোরবানির চামড়া নিয়ে এ বিপর্যয় ঘটেছে সর্বত্রই। আশপাশের জেলাগুলোতে কোরবানির চামড়া নিয়ে ঘটেছে একই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি। এবার কোরবানির পশুর ১০ শতাংশ চামড়াও বিক্রি করতে পারেননি লোকজন। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনুপস্থিতি ও আড়তে চামড়া না নেয়াসহ বিভিন্ন কারণে চামড়া বিক্রিতে এ বিপর্যয় ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এবার একটি খাসির চামড়া তারা বিক্রি করেছেন পাঁচ টাকায়। কেউ বিক্রি করেছেন ১০ টাকায়। আর বড় গরুর একটি চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকায়। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার বলছিলেন, চামড়া নিয়ে এ এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। মূল্যবান সম্পদ চামড়া নিয়ে এমন অবহেলা তার জন্মেও তিনি আর দেখেননি। এমন নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ চামড়াই নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের হিসাব মতে, এবারের কোরবানিতে জেলায় দুই লাখ ৬০ হাজার গরু খাসি কোরবানি হয়। তবে ক্রেতা বা ব্যবসায়ী না থাকায় এক লাখ চামড়াও সংগৃহীত হয়নি বলে তারা প্রাথমিক হিসাবে জানতে পেরেছেন। বাকি বিপুল সংখ্যক চামড়া লোকজন নিজেরাই নদীতে ফেলে দিয়েছে অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এমনিতেই করোনা পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে গ্রামে যায়নি। আবার শহর এলাকায় তারা কিছু চামড়া কিনলেও আড়তে বিক্রি হয়নি দাম না থাকায়। মৌগাছি গ্রামের তসলিম উদ্দিন প্রামাণিক বলছিলেন, তার গ্রামে শতাধিক গরু খাসি কোরবানি হয়েছে। ক্রেতা না থাকায় একটি চামড়াও তারা বিক্রি করতে পারেননি। রাতের বেলা সেসব চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন। কাকনহাট বাজারের আবদুল রশিদ সরকার বলেন, তাদের এলাকায় খাসির একটি চামড়া বিক্রি করেছেন পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকায়। আর বড় গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ২০০ টাকা করে, তাও বাকিতে। গ্রামের ক’জন মৌসুমি ব্যবসায়ীকে তারা চামড়া গছিয়ে দিয়েছেন প্রায় জোর করে। গোদাগাড়ীর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু চামড়ার বাজারে দাম না ওঠায় রাজশাহী ও নাটোরের আড়তদাররা নিতে চাননি। ফলে সেসব চামড়া বাধ্য হয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তারা। এতে তাদের কিছু আর্থিক ক্ষতি হলেও চামড়ার মতো দ্রুত পচনশীল জিনিস নিয়ে তাদের আর কিছু করার ছিল না। তাদের মতো অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী কিছু কিছু চামড়া কিনলেও শেষে তারা চামড়া ফেলে দিয়েছেন। কুমরপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবরসহ সাতজন ব্যক্তি একসঙ্গে একটি গরু কোরবানি দেন। আলী আকবর বলেন, আমাদের গরুর দাম ছিল ৯০ হাজার টাকা। মাংস হয়েছে ৪ মণ। চামড়ার দাম পেয়েছি ২০০ টাকা। একরকম জোর করেই চামড়াটা দেয়া হয়েছে। এলাকায় পাঁচ টাকায় খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে।

রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের বিপুল বকেয়া টাকা পড়ে আছে। করোনার কারণে হাতেও টাকা নেই। সরকার কমিয়ে দাম নির্ধারণ করে দিলেও টাকার অভাবে তারা চামড়া কিনতে পারেননি। আবার যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কিনে তাদের আড়তে দেন, তাদের চামড়াও কেনা যায়নি টাকা না থাকায়। ফলে গ্রামগঞ্জের বিপুল পরিমাণ চামড়া মানুষ ফেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও কেনা চামড়া আড়তে বেচতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মকর্তা অন্তিম কুমার দাস জানিয়েছেন, কোরবানির আগে জেলায় গরু ও মহিষ ছিল প্রায় এক লাখ আর ছাগল ছিল দুই লাখ ২৮ হাজার। অন্যান্য পশু ছিল ৪২ হাজার। সব মিলে কোরবানি জন্য পশু মজুদ ছিল তিন লাখ ৭০ হাজার। জেলায় দুই লাখ ৬০ হাজার পশু কোরবানি হওয়ার কথা। সেই হিসাবে আড়াই লাখ চামড়া থাকার কথা। তারা জানার চেষ্টা করছেন কত ভাগ চামড়া সংগৃহীত হয়েছে আর কত ভাগ নষ্ট হয়েছে।