বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা দেড় কোটি টাকা

  বরিশাল ব্যুরো ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ট্যানারি মালিকদের কাছে দেড় কোটি টাকা পাওনা থাকায় এবারেও কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়ে অনীহা দেখা দিয়েছে বরিশালের ব্যবসায়ীদের। আর এ কারণে পশুর চামড়া সংগ্রহকারীরা পড়েছেন বিপাকে। বরিশালে ৩ ভাগের ১ ভাগ পশুর চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। আর শেষ পর্যন্ত হিসেবে কষে এ বছর চামড়া ক্রয় গত বছরের অর্ধেক হবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতি।

বরিশাল নগরীর পদ্মাবতী এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, ট্যানারি মালিকরা আমাদের ব্লক করে দিছেন। তাদের কাছে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা পাবেন। আমরা পাব আড়তদারদের কাছে আর আড়তদাররা পাবেন ট্যানারি মালিকদের কাছে। সেই টাকা না পেয়ে অনেকেই ব্যবসা ছেড়েছেন। এবার ৫৪ ব্যবসায়ীর মধ্যে দু’জনে চামড়া সংগ্রহ করছেন।

তিনি জানান, এ বছর সরকার সাড়ে ৫ থেকে ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। সে ঋণ কাকে দিয়েছে কাকে দেয়নি সেটা আমরা জানি না। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা কেউ কেউ বলছেন তাদের ঋণ হয়নি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে ট্যানারি মালিকরা আড়তদারদের ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচার টাকা দিয়েছেন। এককথায় আমরা কিছুই পাইনি। আমাদের ঢাকায় দেড় কোটি টাকা পাওনা, পেয়েছি ১ লাখ। আর এ কারণে আমাদের মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ী বিশেষ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ খারাপ অবস্থায় আছে। তারাও আমাদের কাছেও টাকা পাবে, বকেয়া বেঁধে গেছে।

বাচ্চু মিয়া আরও বলেন, গত বছর ১৩ হাজার পিস পশুর চামড়া বরিশালে আমরা সংগ্রহ করেছি। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে এ বছর এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের মতো চামড়া সংগ্রহ দু’জন ব্যবসায়ী মিলে করেছেন। সর্বোচ্চ ৬ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।

বিগত বছরের তুলনায় ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে গরুর প্রতি পিস চামড়ায়। ছাগলের চামড়া কেনা হচ্ছে সামান্য দামে কিংবা ফ্রিতে। বরিশাল নগরীর পদ্মাবতী ট্যানারি শিল্প এলাকা ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকেই মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে আসা চামড়া কেনা শুরু করেন ওখানকার পাইকাররা।

বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শাহিন বলেন, নতুন করে দেনাগ্রস্ত হতে রাজি হননি অনেকেই। এজন্য তিনিসহ বহু ব্যবসায়ী এবার চামড়া কেনা থেকে বিরত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বরিশালে ২০-২২ জন চামড়ার পাইকার ব্যবসায়ী ছিলেন। যারা স্থানীয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতেন। কিন্তু দিনে দিনে চামড়ার দর পতন অব্যাহত থাকায় বর্তমানে চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা পাঁচের নিচে। এবার দু-তিনজন চামড়া সংগ্রহ করেছেন। ফলে সব দিক দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে আমাদের চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত