চট্টগ্রামে সক্রিয় নিষিদ্ধ নব্য জেএমবি
jugantor
চট্টগ্রামে সক্রিয় নিষিদ্ধ নব্য জেএমবি

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি। যে কোনো সময় পুলিশ স্টেশন কিংবা সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে নগর ও জেলা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

চট্টগ্রামে এক মাসের ব্যবধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে ‘নব্য জেএমবির’ পাঁচ সদস্য। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনার গোপন ‘ছক’। মহানগরীতে পাঁচ মাস আগে পুলিশ বক্সে বোমা হামলার সঙ্গেও গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে চারজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে আগে থেকেই একাধিক জঙ্গি সংগঠনের গোপন কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), হিজবুত তাওহিদ ও শহীদ হামজা ব্রিগেড অন্যতম। এসব জঙ্গি সংগঠনের বেশ ক’জন সক্রিয় সদস্য বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছে।

সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ যুগান্তরকে বলেন, নাশকতার আশঙ্কা করে সতর্ক থাকার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে চিঠি পাঠিয়েছে। আমরা এর আলোকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা ও সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। যে কোনো নাশকতা প্রতিহত করতে পুলিশ প্রস্তুত।

৫ জুলাই রাতে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া এসিএম উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে গ্রেফতার করা হয় আবদুল কাইয়ুম নামে নব্য জেএমবির এক শীর্ষ নেতাকে। এ সময় তার কাছ থেকে জঙ্গি হামলার ছকসংক্রান্ত ৬টি মোবাইলের স্ক্রিনশর্ট কপি, ৪টি মোবাইল সেট, জিহাদি বই ও বেশকিছু প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এন্টি টেররিজম ইউনিট ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক সোলায়মান শেখ বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় আটক আবদুল কাইয়ুমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এন্টি টেররিজম ইউনিটের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার কাইয়ুম জানিয়েছে, নব্য জেএমবি চট্টগ্রামে ভেতরে ভেতরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য স্কুল মাঠে রাতের বেলায় গোপন বৈঠক করছিল। অভিযানের খবর পেয়ে ৮ থেকে ৯ জন জেএমবি সদস্য পালিয়ে গেলেও কাইয়ুমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর কাইয়ুম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ষোলশহর ২ নম্বর গেট ট্রাফিক বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও তিনজন পথচারীসহ পাঁচজন আহত হন। বিস্ফোরণে ট্রাফিক বক্সটিতে থাকা সিগন্যাল বাতি নিয়ন্ত্রণের সুইচ বোর্ড ধ্বংস হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল, সেটি তদন্ত করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ ২৯ ফেব্রুয়ারি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন আইএস চট্টগ্রামের ওই হামলার ‘দায় স্বীকার’ করেছে। এরপর ৩ মে নগরীর বাকলিয়া ডিসি রোডের একটি বাসা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

গ্রেফতারকৃতরা হল- সাইফুল্লাহ (২৪), এমরান (২৫) এবং আবু ছালেহ (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নব্য জেএমবি বোমা হামলা করে পুলিশ সদস্যদের হত্যার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চেয়েছিল। পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনাটি আইএস নয়, নব্য জেএমবিই ঘটিয়েছে। গ্রেফতার তিন নব্য জেএমবি সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে ৭ জন মিলে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। বাকি চার জঙ্গি সদস্য ছিল সেলিম, জহির, আকিব ও সাহেদ। এরমধ্যে সোমবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় সাহেদকে।

চট্টগ্রামে সক্রিয় নিষিদ্ধ নব্য জেএমবি

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
০৬ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি। যে কোনো সময় পুলিশ স্টেশন কিংবা সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে নগর ও জেলা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

চট্টগ্রামে এক মাসের ব্যবধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে ‘নব্য জেএমবির’ পাঁচ সদস্য। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনার গোপন ‘ছক’। মহানগরীতে পাঁচ মাস আগে পুলিশ বক্সে বোমা হামলার সঙ্গেও গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে চারজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে আগে থেকেই একাধিক জঙ্গি সংগঠনের গোপন কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), হিজবুত তাওহিদ ও শহীদ হামজা ব্রিগেড অন্যতম। এসব জঙ্গি সংগঠনের বেশ ক’জন সক্রিয় সদস্য বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছে।

সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ যুগান্তরকে বলেন, নাশকতার আশঙ্কা করে সতর্ক থাকার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে চিঠি পাঠিয়েছে। আমরা এর আলোকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা ও সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। যে কোনো নাশকতা প্রতিহত করতে পুলিশ প্রস্তুত।

৫ জুলাই রাতে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া এসিএম উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে গ্রেফতার করা হয় আবদুল কাইয়ুম নামে নব্য জেএমবির এক শীর্ষ নেতাকে। এ সময় তার কাছ থেকে জঙ্গি হামলার ছকসংক্রান্ত ৬টি মোবাইলের স্ক্রিনশর্ট কপি, ৪টি মোবাইল সেট, জিহাদি বই ও বেশকিছু প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এন্টি টেররিজম ইউনিট ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক সোলায়মান শেখ বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় আটক আবদুল কাইয়ুমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এন্টি টেররিজম ইউনিটের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার কাইয়ুম জানিয়েছে, নব্য জেএমবি চট্টগ্রামে ভেতরে ভেতরে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য স্কুল মাঠে রাতের বেলায় গোপন বৈঠক করছিল। অভিযানের খবর পেয়ে ৮ থেকে ৯ জন জেএমবি সদস্য পালিয়ে গেলেও কাইয়ুমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর কাইয়ুম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ষোলশহর ২ নম্বর গেট ট্রাফিক বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও তিনজন পথচারীসহ পাঁচজন আহত হন। বিস্ফোরণে ট্রাফিক বক্সটিতে থাকা সিগন্যাল বাতি নিয়ন্ত্রণের সুইচ বোর্ড ধ্বংস হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল, সেটি তদন্ত করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ ২৯ ফেব্রুয়ারি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন আইএস চট্টগ্রামের ওই হামলার ‘দায় স্বীকার’ করেছে। এরপর ৩ মে নগরীর বাকলিয়া ডিসি রোডের একটি বাসা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

গ্রেফতারকৃতরা হল- সাইফুল্লাহ (২৪), এমরান (২৫) এবং আবু ছালেহ (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নব্য জেএমবি বোমা হামলা করে পুলিশ সদস্যদের হত্যার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চেয়েছিল। পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনাটি আইএস নয়, নব্য জেএমবিই ঘটিয়েছে। গ্রেফতার তিন নব্য জেএমবি সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে ৭ জন মিলে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। বাকি চার জঙ্গি সদস্য ছিল সেলিম, জহির, আকিব ও সাহেদ। এরমধ্যে সোমবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় সাহেদকে।