রাজশাহীর সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
jugantor
রাজশাহীর সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিক্রি করতে না পেরে পদ্মায় চামড়া ভাসিয়ে দেয়া রাজশাহীর সেই মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে পদ্মার ঘটনাস্থল থেকে কয়েক বোতল পানি নমুনা হিসেবে পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে পরিবেশ অধিদফতর।

জানা গেছে, ঈদের পরদিন রোববার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন ভ্যানে করে কয়েক হাজার চামড়া নিয়ে নগরীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মায় ভাসিয়ে দেন। তার দাবি, কিছু লাভের আশায় ঈদের দিন নগরীর বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে কিছু ছাগলের চামড়া কিনেছিলেন তিনি। আশা ছিল সেসব চামড়া রাজশাহী ও নাটোরের আড়তে বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ পাবেন। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও তিনি একটি চামড়াও বিক্রি করতে পারেননি। এদিকে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ায় চামড়ায় পচন শুরু হয়। তার কাছে কোনো টাকাও ছিল না যে লবণ কিনে চামড়া কিছু সময় সংরক্ষণ করবেন। আর চামড়া সংরক্ষণের আলাদা জায়গাও তার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঝামেলা এড়াতে পদ্মায় ভাসিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাখাওয়াতের মতো আরও অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী লোকজন বিক্রি করতে না পেরে চামড়া নদীতে ফেলে দেন অথবা মাটিতে পুঁতে দেন।

পদ্মায় চামড়া ভাসিয়ে দেয়ার ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঘটনা তদন্তে জরুরিভাবে নির্দেশ দেয়া হয় রাজশাহীর জেলা প্রশাসনকে। দায়িত্ব পেয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল হক ঘটনাটি তদন্ত করেন। মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান মন্ত্রণালয়ে। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, তাদের কাছে মনে হয়েছে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। চামড়া বিক্রি করতে না পারলে ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। তা তিনি করেননি। প্রতিবেদনে চামড়া পদ্মায় ভাসিয়ে দেয়ায় পরিবেশ দূষণ তথা পানি দূষণ ঘটেছে বলে মন্তব্য করে- এ বিষয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে চামড়া ব্যবসায়ী সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয় পরিবেশ অধিদফতরকে। নির্দেশ মোতাবেক রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতর ঘটনাস্থল পদ্মার টি-বাঁধ এলাকা থেকে কয়েক বোতল পানি নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করেন রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য। পরে তা অধিদফতরের বগুড়ার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, চামড়া পদ্মায় ভাসিয়ে দেয়ার ঘটনায় পরিবেশ বা পানি দূষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক বোতল পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে। পরীক্ষায় পানি দূষণের প্রমাণ পেলে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করবে পরিবেশ অধিদফতর।

প্রবাহমান পদ্মার তীব্র স্রোতের মধ্যে ঘটনার তিন দিন পর পানি পরীক্ষায় কী ফল মিলবে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক বলেন, ফলাফল পাওয়া না গেলে কোনো ব্যবস্থা নয়। এটি আমাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া।

রাজশাহীর সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিক্রি করতে না পেরে পদ্মায় চামড়া ভাসিয়ে দেয়া রাজশাহীর সেই মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে পদ্মার ঘটনাস্থল থেকে কয়েক বোতল পানি নমুনা হিসেবে পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে পরিবেশ অধিদফতর।

জানা গেছে, ঈদের পরদিন রোববার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন ভ্যানে করে কয়েক হাজার চামড়া নিয়ে নগরীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মায় ভাসিয়ে দেন। তার দাবি, কিছু লাভের আশায় ঈদের দিন নগরীর বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে কিছু ছাগলের চামড়া কিনেছিলেন তিনি। আশা ছিল সেসব চামড়া রাজশাহী ও নাটোরের আড়তে বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ পাবেন। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও তিনি একটি চামড়াও বিক্রি করতে পারেননি। এদিকে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ায় চামড়ায় পচন শুরু হয়। তার কাছে কোনো টাকাও ছিল না যে লবণ কিনে চামড়া কিছু সময় সংরক্ষণ করবেন। আর চামড়া সংরক্ষণের আলাদা জায়গাও তার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঝামেলা এড়াতে পদ্মায় ভাসিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাখাওয়াতের মতো আরও অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী লোকজন বিক্রি করতে না পেরে চামড়া নদীতে ফেলে দেন অথবা মাটিতে পুঁতে দেন।

পদ্মায় চামড়া ভাসিয়ে দেয়ার ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঘটনা তদন্তে জরুরিভাবে নির্দেশ দেয়া হয় রাজশাহীর জেলা প্রশাসনকে। দায়িত্ব পেয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল হক ঘটনাটি তদন্ত করেন। মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান মন্ত্রণালয়ে। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, তাদের কাছে মনে হয়েছে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। চামড়া বিক্রি করতে না পারলে ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। তা তিনি করেননি। প্রতিবেদনে চামড়া পদ্মায় ভাসিয়ে দেয়ায় পরিবেশ দূষণ তথা পানি দূষণ ঘটেছে বলে মন্তব্য করে- এ বিষয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে চামড়া ব্যবসায়ী সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয় পরিবেশ অধিদফতরকে। নির্দেশ মোতাবেক রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতর ঘটনাস্থল পদ্মার টি-বাঁধ এলাকা থেকে কয়েক বোতল পানি নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করেন রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য। পরে তা অধিদফতরের বগুড়ার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, চামড়া পদ্মায় ভাসিয়ে দেয়ার ঘটনায় পরিবেশ বা পানি দূষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক বোতল পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে। পরীক্ষায় পানি দূষণের প্রমাণ পেলে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করবে পরিবেশ অধিদফতর।

প্রবাহমান পদ্মার তীব্র স্রোতের মধ্যে ঘটনার তিন দিন পর পানি পরীক্ষায় কী ফল মিলবে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক বলেন, ফলাফল পাওয়া না গেলে কোনো ব্যবস্থা নয়। এটি আমাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া।