সিলেটে বোমাসদৃশ বস্তুটি গ্লান্ডার মেশিন
jugantor
বোমাতঙ্কে ২২ ঘণ্টার অভিযান
সিলেটে বোমাসদৃশ বস্তুটি গ্লান্ডার মেশিন

  সিলেট ব্যুরো  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে একটি মোটরবাইকে রাখা বোমা সদৃশ বস্তু নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেল। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর জানা গেল, সেটি আসলে একটি গ্লান্ডার মেশিন (টাইলস কাটার যন্ত্র)। প্রায় ২২ ঘণ্টার যৌথ অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এমনটি জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং অভিযানের দলনেতা লে. কর্নেল রাহাত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন- আপনারা জানেন, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় একজন পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলে একটি অবজেক্ট, একটা সাসপেক্ট (সন্দেহজনক বস্তু) পাওয়া যায়। পরে পুলিশ বাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এ অবজেক্টটা ইন্সপেকশন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে নির্দেশনা পেয়ে সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম এখানে আসে।

লে. কর্নেল রাহাত বলেন, আমরা এখানে এসে আমাদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা গ্লান্ডার মেশিন। কিন্তু অধিকতর তদন্তের জন্য এবং এখানে যাতে অন্য ধরনের সন্দেহজনক বস্তু না থাকে, এটা নিশ্চিত করতে আমাদের নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করেছি এবং আরও নিশ্চিত হতে আমরা এটাকে খুলেছি।

এসময় সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমরা দু’দিক থেকে চিন্তা করতে পারি। কেউ ভুলবশত গ্লান্ডার মেশিনটি এখানে রেখে যেতে পারেন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সেজন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বা জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য হয়তো কেউ রেখে থাকতে পারেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে এসএমপির ট্রাফিক সার্জেন্ট চয়ন নাইডু যুগান্তরকে বলেন, ডিউটি শেষে ফেরার পথে চৌহাট্টা মোড়ে মোটরবাইকটি রেখে চশমা কিনতে পাশের একটি দোকানে প্রবেশ করি। দোকান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে পা রাখার স্থানে গ্লান্ডার মেশিনের মতো বোমা সদৃশ বস্তু দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার, কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সেলিম মিঞাসহ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জায়গাটি ফিতা টেনে ঘিরে রাখেন। চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। এরপর র‌্যাব-৯ এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও ঘটনাস্থলে আসে। তবে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বোমা সদৃশ বস্তুটি অপসারণে রাজি না হওয়ায় ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়াটার্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। রাতভর ওই জায়গাটি ঘিরে রাখেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। মুহূর্তেই চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশের মোটরবাইকে বোমা রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেটজুড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। বেলা ৩টার দিকে মোটরবাইক থেকে ওই বস্তুটি অপসারণ করেন সেনা সদস্যরা। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টার দিকে লে. কর্নেল রাহাত জানান, অপসারণ করা বস্তুটি একটি টাইলস কাটার যন্ত্র। কোনো বিস্ফোরক নয়।

বোমাতঙ্কে ২২ ঘণ্টার অভিযান

সিলেটে বোমাসদৃশ বস্তুটি গ্লান্ডার মেশিন

 সিলেট ব্যুরো 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে একটি মোটরবাইকে রাখা বোমা সদৃশ বস্তু নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেল। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর জানা গেল, সেটি আসলে একটি গ্লান্ডার মেশিন (টাইলস কাটার যন্ত্র)। প্রায় ২২ ঘণ্টার যৌথ অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এমনটি জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং অভিযানের দলনেতা লে. কর্নেল রাহাত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন- আপনারা জানেন, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় একজন পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলে একটি অবজেক্ট, একটা সাসপেক্ট (সন্দেহজনক বস্তু) পাওয়া যায়। পরে পুলিশ বাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এ অবজেক্টটা ইন্সপেকশন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে নির্দেশনা পেয়ে সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম এখানে আসে।

লে. কর্নেল রাহাত বলেন, আমরা এখানে এসে আমাদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা গ্লান্ডার মেশিন। কিন্তু অধিকতর তদন্তের জন্য এবং এখানে যাতে অন্য ধরনের সন্দেহজনক বস্তু না থাকে, এটা নিশ্চিত করতে আমাদের নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করেছি এবং আরও নিশ্চিত হতে আমরা এটাকে খুলেছি।

এসময় সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমরা দু’দিক থেকে চিন্তা করতে পারি। কেউ ভুলবশত গ্লান্ডার মেশিনটি এখানে রেখে যেতে পারেন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সেজন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বা জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য হয়তো কেউ রেখে থাকতে পারেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে এসএমপির ট্রাফিক সার্জেন্ট চয়ন নাইডু যুগান্তরকে বলেন, ডিউটি শেষে ফেরার পথে চৌহাট্টা মোড়ে মোটরবাইকটি রেখে চশমা কিনতে পাশের একটি দোকানে প্রবেশ করি। দোকান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে পা রাখার স্থানে গ্লান্ডার মেশিনের মতো বোমা সদৃশ বস্তু দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার, কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সেলিম মিঞাসহ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জায়গাটি ফিতা টেনে ঘিরে রাখেন। চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। এরপর র‌্যাব-৯ এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও ঘটনাস্থলে আসে। তবে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বোমা সদৃশ বস্তুটি অপসারণে রাজি না হওয়ায় ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়াটার্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। রাতভর ওই জায়গাটি ঘিরে রাখেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। মুহূর্তেই চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশের মোটরবাইকে বোমা রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেটজুড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। বেলা ৩টার দিকে মোটরবাইক থেকে ওই বস্তুটি অপসারণ করেন সেনা সদস্যরা। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টার দিকে লে. কর্নেল রাহাত জানান, অপসারণ করা বস্তুটি একটি টাইলস কাটার যন্ত্র। কোনো বিস্ফোরক নয়।