বাঘারপাড়ার কৃষকের বাতিঘর কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র বেহাল
jugantor
বাঘারপাড়ার কৃষকের বাতিঘর কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র বেহাল

  যশোর ব্যুরো  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের বাঘারপাড়ার ৬০টি গ্রামের কৃষকের বাতিঘর গাইদঘাট কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র। এটিকে কেন্দ্র করে ৬৪টি কৃষি ক্লাব পরিচালিত হয়েছে। অন্তত ১০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষিত করেছে বিভিন্ন সময়ে। প্রশিক্ষিত কৃষকের জ্ঞান ও দক্ষতায় এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা।

জানা গেছে, ২০০১ সালে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে অবস্থিত কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবদুর রাজ্জাক কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এ কেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। এ কেন্দ্রের উদ্যোগে আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে এলাকায় ৬০টি গ্রামে ৬৪টি কৃষি ক্লাব গড়ে তোলা হয়। কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র এসব কৃষি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। আইয়ুব হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এলাকার কৃষকরা বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষিত হয়েছিল। এ কেন্দ্রের উদ্যোগে বাংলাদেশের মধ্যে গাইদঘাট গ্রামে প্রথম বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের কাজ শুরু হয়।

বৃহত্তর যশোর অঞ্চল সারা দেশের মধ্যে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেল এলাকা হিসাবে স্থান পাওয়ায় কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন ও তার সহযোগী বন্ধু সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডলকে ২০১০ সালে ঢাকার ফার্মগেটে কৃষি তথ্য সার্ভিস মিলনায়তনে পুরস্কৃত করেছিলেন তখনকার কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এ কেন্দ্রের উদ্যোগে তখন এলাকায় দেশের সব স্বনামধন্য কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ ও বিদেশি বিজ্ঞানীদের পদচারণা ঘটেছিল। সেই বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেলকে সামনে নিয়েই এখন সারা দেশেই চলছে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের আন্দোলন। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি কৃষক নেতা আইয়ুব হোসেনের মৃত্যুর পর এ কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বর্তমানে সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস এর বিভিন্ন কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় পুনরায় কিছুটা জীবন ফিরে পেয়েছে। তবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নানা সংকটে। কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রের সভাপতি লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডল জানান, কেন্দ্রের ঘর আম্পান ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আর্থিক সংকটে সংস্কার করা যায়নি। সরকারিভাবেও সহযোগিতা মেলেনি। ঘরটিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন পোস্টার, ফেস্টুন, গবেষণামূলক বই, পুস্তক ও আসবাবপত্র ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান জানান, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম জানান, সরকারি বরাদ্দ পেলে কেন্দ্রটি সংস্কারে সহযোগিতা করা হবে। আপাতত বিকল্প ব্যবস্থায় ঘর ভাড়া নিয়ে কেন্দ্রটি চালু রাখতে বলা হয়েছে।

বাঘারপাড়ার কৃষকের বাতিঘর কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র বেহাল

 যশোর ব্যুরো 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের বাঘারপাড়ার ৬০টি গ্রামের কৃষকের বাতিঘর গাইদঘাট কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র। এটিকে কেন্দ্র করে ৬৪টি কৃষি ক্লাব পরিচালিত হয়েছে। অন্তত ১০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষিত করেছে বিভিন্ন সময়ে। প্রশিক্ষিত কৃষকের জ্ঞান ও দক্ষতায় এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা।

জানা গেছে, ২০০১ সালে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে অবস্থিত কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবদুর রাজ্জাক কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এ কেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। এ কেন্দ্রের উদ্যোগে আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে এলাকায় ৬০টি গ্রামে ৬৪টি কৃষি ক্লাব গড়ে তোলা হয়। কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র এসব কৃষি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। আইয়ুব হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এলাকার কৃষকরা বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষিত হয়েছিল। এ কেন্দ্রের উদ্যোগে বাংলাদেশের মধ্যে গাইদঘাট গ্রামে প্রথম বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের কাজ শুরু হয়।

বৃহত্তর যশোর অঞ্চল সারা দেশের মধ্যে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেল এলাকা হিসাবে স্থান পাওয়ায় কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন ও তার সহযোগী বন্ধু সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডলকে ২০১০ সালে ঢাকার ফার্মগেটে কৃষি তথ্য সার্ভিস মিলনায়তনে পুরস্কৃত করেছিলেন তখনকার কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এ কেন্দ্রের উদ্যোগে তখন এলাকায় দেশের সব স্বনামধন্য কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ ও বিদেশি বিজ্ঞানীদের পদচারণা ঘটেছিল। সেই বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেলকে সামনে নিয়েই এখন সারা দেশেই চলছে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনের আন্দোলন। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি কৃষক নেতা আইয়ুব হোসেনের মৃত্যুর পর এ কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বর্তমানে সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস এর বিভিন্ন কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় পুনরায় কিছুটা জীবন ফিরে পেয়েছে। তবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নানা সংকটে। কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রের সভাপতি লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডল জানান, কেন্দ্রের ঘর আম্পান ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আর্থিক সংকটে সংস্কার করা যায়নি। সরকারিভাবেও সহযোগিতা মেলেনি। ঘরটিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন পোস্টার, ফেস্টুন, গবেষণামূলক বই, পুস্তক ও আসবাবপত্র ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান জানান, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম জানান, সরকারি বরাদ্দ পেলে কেন্দ্রটি সংস্কারে সহযোগিতা করা হবে। আপাতত বিকল্প ব্যবস্থায় ঘর ভাড়া নিয়ে কেন্দ্রটি চালু রাখতে বলা হয়েছে।