কর্ণফুলীর ভাঙনে রাউজান রাঙ্গুনিয়ার জনপদ
jugantor
কর্ণফুলীর ভাঙনে রাউজান রাঙ্গুনিয়ার জনপদ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কবলে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অসংখ্য ঘরবাড়ি, মসজিদ, বাজার ও দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। গত এক যুগে এ দুই উপজেলার শত শত স্থাপনাসহ বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অসংখ্য পরিবার এখন ভূমিহীন। এখন ভাঙনের কাছাকাছি চলে এসেছে ঘরবাড়িসহ আরও বেশকিছু স্থাপনা। ভাঙন রোধে কর্ণফুলী নদীর কিছু কিছু অংশে বসানো হলেও এখনও বিশাল অংশে বসানো হয়নি ব্লক। এসব স্থাপনা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা হারুন-উর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত বেতাগী ইউনিয়ন। গত এক যুগে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গোলাম বেপারিহাটটি যে স্থানে বসত সেটি পুরোপুরি নদীতে চলে গেছে। সে সঙ্গে অসংখ্য দোকানপাট, ঘরবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের শেষ ভিটেমাটিও হারিয়েছে।’

তিনি জানান, ‘কর্ণফুলী নদী আবারও রাক্ষুসীতে পরিণত হয়েছে। গত মঙ্গলবার আসরের নামাজের সময় বেতাগী গোলাম বেপারিহাট জামে মসজিদের অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে নদীতে। ২০০১ সালে এ স্থানে নদীতে ভাঙন রোধে ব্লক বসানো হলেও কয়েক বছর আগে সেগুলো নদীতেই বিলীন হয়ে যায়। যার কারণে বেতাগীর কিছু অংশ ভাঙছেই।’

গোলাম বেপারিহাট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, ২০ বছর ধরে এ জামে মসজিদের দায়িত্বে রয়েছি। এক সময় মসজিদ থেকে নদী অনেক দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার মসজিদটিও নিয়ে গেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে মসজিদ ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই; স্থানীয় চেয়ারম্যানও বিষয়টি আমাকে জানায়নি। তবে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীর বেশকিছু স্থানে ব্লক বসানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়টি তদারকি করছে।’

শুধু বেতাগী ইউনিয়ন নয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা, মরিয়মনগর, গোছরা, কোদলা, চন্দ্রঘোনাসহ অসংখ্য এলাকা কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কিছু কিছু স্থানে ব্লক বসানো হলেও অধিকাংশ স্থানেই বসানো হয়নি। ফলে প্রতিবছর ভাঙছে নদী।

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট, বাগোয়ান, খেলারঘাটসহ বেশকিছু এলাকা কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাকোর্দা গ্রাম নদীগর্ভে পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মাস্টার দ্য সূর্যসেনের গ্রামের বাড়ি সূর্যসেন গ্রামটিও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। গত এক যুগে এ সূর্যসেন গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কর্ণফুলীর ভাঙনে রাউজান রাঙ্গুনিয়ার জনপদ

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
০৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কবলে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অসংখ্য ঘরবাড়ি, মসজিদ, বাজার ও দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। গত এক যুগে এ দুই উপজেলার শত শত স্থাপনাসহ বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অসংখ্য পরিবার এখন ভূমিহীন। এখন ভাঙনের কাছাকাছি চলে এসেছে ঘরবাড়িসহ আরও বেশকিছু স্থাপনা। ভাঙন রোধে কর্ণফুলী নদীর কিছু কিছু অংশে বসানো হলেও এখনও বিশাল অংশে বসানো হয়নি ব্লক। এসব স্থাপনা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা হারুন-উর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত বেতাগী ইউনিয়ন। গত এক যুগে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গোলাম বেপারিহাটটি যে স্থানে বসত সেটি পুরোপুরি নদীতে চলে গেছে। সে সঙ্গে অসংখ্য দোকানপাট, ঘরবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের শেষ ভিটেমাটিও হারিয়েছে।’

তিনি জানান, ‘কর্ণফুলী নদী আবারও রাক্ষুসীতে পরিণত হয়েছে। গত মঙ্গলবার আসরের নামাজের সময় বেতাগী গোলাম বেপারিহাট জামে মসজিদের অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে নদীতে। ২০০১ সালে এ স্থানে নদীতে ভাঙন রোধে ব্লক বসানো হলেও কয়েক বছর আগে সেগুলো নদীতেই বিলীন হয়ে যায়। যার কারণে বেতাগীর কিছু অংশ ভাঙছেই।’

গোলাম বেপারিহাট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, ২০ বছর ধরে এ জামে মসজিদের দায়িত্বে রয়েছি। এক সময় মসজিদ থেকে নদী অনেক দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার মসজিদটিও নিয়ে গেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে মসজিদ ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই; স্থানীয় চেয়ারম্যানও বিষয়টি আমাকে জানায়নি। তবে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীর বেশকিছু স্থানে ব্লক বসানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়টি তদারকি করছে।’

শুধু বেতাগী ইউনিয়ন নয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা, মরিয়মনগর, গোছরা, কোদলা, চন্দ্রঘোনাসহ অসংখ্য এলাকা কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কিছু কিছু স্থানে ব্লক বসানো হলেও অধিকাংশ স্থানেই বসানো হয়নি। ফলে প্রতিবছর ভাঙছে নদী।

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট, বাগোয়ান, খেলারঘাটসহ বেশকিছু এলাকা কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাকোর্দা গ্রাম নদীগর্ভে পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মাস্টার দ্য সূর্যসেনের গ্রামের বাড়ি সূর্যসেন গ্রামটিও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। গত এক যুগে এ সূর্যসেন গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।