করোনায় গতি বেড়েছে প্রকল্পে
jugantor
করোনায় গতি বেড়েছে প্রকল্পে

  কাজী জেবেল  

০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বেড়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের ৫৯টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৮৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জাতীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হার ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ। জাতীয় গড় থেকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি অগ্রগতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানায়।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ওই সময় পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এ হিসাবে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪ মাসে কাজের অগ্রগতি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং এ সময়ে ১ হাজার ৯০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া গত অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের ১৬টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও ১১টির কাজ শেষ হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণকালে একদিনের জন্যও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কাজ বন্ধ ছিল না। সরকারি ছুটির সময়েও চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরে পণ্য উঠানামা এবং সারা দেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখা হয়। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। নিজেই সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কাজ তদারকি করেছি। এ কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি অস্বাভাবিক নয়, বরং স্বাভাবিক। করোনার কারণে গত অর্থবছরের চেয়ে এবারে অগ্রগতি কম হয়েছে।

জানা গেছে, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৯টি প্রকল্পের কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২৩টি, চট্টগ্রাম বন্দরের নয়টি, মোংলা বন্দরের আটটি, স্থল বন্দরের সাতটি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) পাঁচটি প্রকল্প ছিল। বাকি প্রকল্পগুলো নৌ মন্ত্রণালয়সহ অন্য সংস্থা বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে ৩ হাজার ৬৪১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

জানা গেছে, শেষ ৪ মাসে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় বেশি ছিল। জুন পর্যন্ত বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৮৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে; যা মোট বরাদ্দের ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তখন পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতির হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। যদিও জাতীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন গড় অগ্রগতি ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ। ওই হিসাবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি অগ্রগতি হয়েছে। যদিও এর আগের অর্থবছর ২০১৮-১৯ সালে এ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অগ্রগতি ছিল শতভাগ।

সূত্র জানায়, অধীন সংস্থাগুলো ৪৭টি এডিপির আওতায় ও নিজস্ব অর্থায়নে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পে বরাদ্দ ৪৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার মধ্যে ৪৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তবায়ন হার ৯৯ দশমিক ৯৪ ভাগ। আর জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ থেকে বাকি ৪৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে ৩ হাজার ১৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ হাজার ৬২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তবায়ন হার ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। যদিও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নের ১২ প্রকল্পের ১৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও জাতীয় বাজেটের ৪৭টি প্রকল্পে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ অগ্রগতি ছিল।

একাধিক প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোয় সাধারণত বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত প্রকল্পই বেশি। এসব প্রকল্পের নির্ধারিত ধাপ পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারদের বিল দেয়া হয়। অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার কার্যক্রম ও শেষের দিকে মোটা অংকের টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। এ কারণে অর্থবছরের শেষ ৩-৪ মাসের এডিপি বাস্তবায়ন রিপোর্টে অগ্রগতি বেশি দেখা যায়।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন হার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এ বন্দরের ৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি ১০২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৪৪৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ বেশি ব্যয় করেছে। ২৩টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টি বাস্তবায়নে সংস্থাটি ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে; যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ। করোনার কারণে বাকি দুটি প্রকল্পে এক টাকাও অর্থছাড় হয়নি। পায়রা বন্দর দুটি প্রকল্পে ৮২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা বরাদ্দের ৯৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। স্থল বন্দর সাতটি প্রকল্পে ৭৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অগ্রগতির হার ৬৪.১০ শতাংশ। বিআইডব্লিউটিসি পাঁচটি প্রকল্পে ৭১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা খরচ করেছে; যা লক্ষ্যমাত্রার ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ এবং নৌ পরিবহন অধিদফতর দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা (৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ) ব্যয় করেছে। এছাড়া নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ৪৫ দশমিক ২৭ ভাগ, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের একটি প্রকল্পে ৭৮ দশমিক ৬৬ ভাগ ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের একটি প্রকল্পে ৮৫ দশমিক শূন্য ২ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে।

করোনার ৪ মাসে প্রকল্প ব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, অনেক প্রকল্পের ফিজিক্যাল কাজের অগ্রগতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তখন বিল দেয়া সম্ভব হয়নি। ওইসব প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় করার পর ঠিকাদারদের বিল দেয়া হয়েছে। এ কারণে শেষ দিকে আর্থিক অগ্রগতি বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। করোনার কারণে প্রকল্পের উপকরণ যাচাইয়ে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বন্ধ আছে। আমরা পোস্ট শিপমেন্ট ইন্সপেকশন টিমে বেশি সংখ্যক কারিগরি সদস্য রাখছি; যাতে তারা সঠিক মালামাল বুঝে নিতে পারেন।

করোনায় গতি বেড়েছে প্রকল্পে

 কাজী জেবেল 
০৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বেড়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের ৫৯টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৮৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জাতীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হার ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ। জাতীয় গড় থেকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি অগ্রগতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানায়।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ওই সময় পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এ হিসাবে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪ মাসে কাজের অগ্রগতি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং এ সময়ে ১ হাজার ৯০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া গত অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের ১৬টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও ১১টির কাজ শেষ হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণকালে একদিনের জন্যও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কাজ বন্ধ ছিল না। সরকারি ছুটির সময়েও চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরে পণ্য উঠানামা এবং সারা দেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখা হয়। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। নিজেই সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কাজ তদারকি করেছি। এ কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি অস্বাভাবিক নয়, বরং স্বাভাবিক। করোনার কারণে গত অর্থবছরের চেয়ে এবারে অগ্রগতি কম হয়েছে।

জানা গেছে, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৯টি প্রকল্পের কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২৩টি, চট্টগ্রাম বন্দরের নয়টি, মোংলা বন্দরের আটটি, স্থল বন্দরের সাতটি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) পাঁচটি প্রকল্প ছিল। বাকি প্রকল্পগুলো নৌ মন্ত্রণালয়সহ অন্য সংস্থা বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে ৩ হাজার ৬৪১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

জানা গেছে, শেষ ৪ মাসে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় বেশি ছিল। জুন পর্যন্ত বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৮৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে; যা মোট বরাদ্দের ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তখন পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতির হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। যদিও জাতীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন গড় অগ্রগতি ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ। ওই হিসাবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি অগ্রগতি হয়েছে। যদিও এর আগের অর্থবছর ২০১৮-১৯ সালে এ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অগ্রগতি ছিল শতভাগ।

সূত্র জানায়, অধীন সংস্থাগুলো ৪৭টি এডিপির আওতায় ও নিজস্ব অর্থায়নে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পে বরাদ্দ ৪৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার মধ্যে ৪৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তবায়ন হার ৯৯ দশমিক ৯৪ ভাগ। আর জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ থেকে বাকি ৪৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে ৩ হাজার ১৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ হাজার ৬২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস্তবায়ন হার ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। যদিও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নের ১২ প্রকল্পের ১৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও জাতীয় বাজেটের ৪৭টি প্রকল্পে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ অগ্রগতি ছিল।

একাধিক প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোয় সাধারণত বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত প্রকল্পই বেশি। এসব প্রকল্পের নির্ধারিত ধাপ পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারদের বিল দেয়া হয়। অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার কার্যক্রম ও শেষের দিকে মোটা অংকের টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। এ কারণে অর্থবছরের শেষ ৩-৪ মাসের এডিপি বাস্তবায়ন রিপোর্টে অগ্রগতি বেশি দেখা যায়।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন হার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এ বন্দরের ৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি ১০২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৪৪৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ বেশি ব্যয় করেছে। ২৩টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টি বাস্তবায়নে সংস্থাটি ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে; যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ। করোনার কারণে বাকি দুটি প্রকল্পে এক টাকাও অর্থছাড় হয়নি। পায়রা বন্দর দুটি প্রকল্পে ৮২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা বরাদ্দের ৯৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। স্থল বন্দর সাতটি প্রকল্পে ৭৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অগ্রগতির হার ৬৪.১০ শতাংশ। বিআইডব্লিউটিসি পাঁচটি প্রকল্পে ৭১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা খরচ করেছে; যা লক্ষ্যমাত্রার ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ এবং নৌ পরিবহন অধিদফতর দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা (৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ) ব্যয় করেছে। এছাড়া নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ৪৫ দশমিক ২৭ ভাগ, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের একটি প্রকল্পে ৭৮ দশমিক ৬৬ ভাগ ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের একটি প্রকল্পে ৮৫ দশমিক শূন্য ২ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে।

করোনার ৪ মাসে প্রকল্প ব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, অনেক প্রকল্পের ফিজিক্যাল কাজের অগ্রগতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তখন বিল দেয়া সম্ভব হয়নি। ওইসব প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় করার পর ঠিকাদারদের বিল দেয়া হয়েছে। এ কারণে শেষ দিকে আর্থিক অগ্রগতি বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। করোনার কারণে প্রকল্পের উপকরণ যাচাইয়ে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বন্ধ আছে। আমরা পোস্ট শিপমেন্ট ইন্সপেকশন টিমে বেশি সংখ্যক কারিগরি সদস্য রাখছি; যাতে তারা সঠিক মালামাল বুঝে নিতে পারেন।