পূর্বাচলের লেকপাড় ও ২৬ প্লট বেদখল
jugantor
পূর্বাচলের লেকপাড় ও ২৬ প্লট বেদখল
পাকা স্থাপনা নির্মাণ

  রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজউকের অধীনে থাকা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি লেকপাড় ও ২৬টি প্লট অবৈধ দখলের পর মিনি পার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, এ পার্কে প্রকাশ্যে মাদক সেবনসহ দিন-দুপুরেই চলে অসামাজিক কাজ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্বাচল প্রকল্পের ১ ও ২নং সেক্টরের মাঝে একটি লেকপাড় ও ৭০ বিঘার অধিক জমির প্রায় ২৬টি প্লট অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মিনি পার্ক। আর তা দখলে রেখেছে বাড়িয়া ছনি এলাকার আবেদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম লিটন ও তার বাহিনী। তা নিয়ন্ত্রণ করছে তার ভাই কসাই সিরাজ ও ছেলে রানা, ভাতিজা সরফরাজ, যুবরাজ। এদের মাদক সরবরাহের অভিযোগে ২৩ জুলাই মাদকসহ আটক করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। সূত্র জানায়, রাজউকের উচ্ছেদ নজর এড়াতে সাইনবোর্ড বিহিন এ পার্কে দম্পতি, কপোত-কপোতী ছাড়াও রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে মাদকসেবীরা বেড়াতে আসে নিয়মিত। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অবাধে মাদক সরবরাহ করেন পার্কটির মালিক ও ম্যানেজার। আর পার্কের নামে অবৈধ দখলকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ ১৯টির বেশি মামলা। এছাড়া একাধিক বিয়ে করায় ১৯৮৫ সালে বাবাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগও রয়েছে সিরাজ ও লিটনের বিরুদ্ধে। সূত্র আরও জানায়, এ পার্কটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব থাকা তোফাজ্জল মীর রূপগঞ্জের বাড়িয়া ছনি এলাকার কিসমতের ছেলে নবী হোসেন ঢালু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। জামিনে থেকে এ পার্কটি পরিচালনা করছেন তিনি। লিটন তার মাধ্যমে পূর্বাচলের কোনো স্থানে প্লটের উন্নয়ন কাজ হলে প্রথমে কাজ চান। না দিলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে হামলা, ভাংচুরের ঘটনা ঘটান। এমন এক ভুক্তভোগী রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম জানান, তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তার কেনা জমিতে জোর করে প্রবেশ করে বসতঘর ভেঙে দিয়েছে লিটনের বাহিনী। সে ঘটনায় থানায় ও নারায়ণগঞ্জ আদালতে পৃথক মামলা রয়েছে।

একইভাবে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা নাজিমউদ্দিন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আনোয়ারুজ্জামানের ছেলে আ স ম রকিবুজ্জামানসহ ৩০ জনের অধিক ভুক্তভোগীর করা ১৯টির বেশি মামলাসহ মাদক, নারী নির্যাতন, ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের প্রকৌশল সহকারী হিসেবে দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ৫ মাস আগে বাড়িয়া ছনির লিটনের ছেলে রানা বাহিনী বউড়ার টেক এলাকায় পূর্বাচলের রাস্তার কাজ ও ১নং সেক্টরের একটি নির্মাণাধীন প্লটে চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে রাজউক অবগত হলে একাধিকবার তাদের গড়া অবৈধ পার্ক ভেঙে দেয়।

পরে আবার এ পার্কটি গড়ে তোলে লিটন ও তার বাহিনী।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, পূর্বাচলে এমন বহু রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। আমিও করেছি। কোনো পার্ক গড়ে তুলিনি। অসামাজিক কাজ ও মাদকের সঙ্গে আমার পরিবার জড়িত নয়। আর আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো জমিসংক্রান্ত ও রাজনৈতিক বেশি।

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) উজ্জ্বল মল্লিক মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, পূর্বাচলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদার রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করা হয়েছে। পার্ক বিষয়ে জেনেছি, রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শিগগিরই অবৈধ দখলদারদের পুনরায় উচ্ছেদ করা হবে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, পূর্বাচলের রিসোর্ট বা পার্ক নামে অবৈধ ও অস্থায়ী প্রতিষ্ঠানে কি হচ্ছে তা জানতে থানা পুলিশ সজাগ রয়েছে। কোনো প্রকার বেআইনি কাজ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ বা খোঁজ পেলে ত্বরিত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্বাচলের লেকপাড় ও ২৬ প্লট বেদখল

পাকা স্থাপনা নির্মাণ
 রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজউকের অধীনে থাকা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি লেকপাড় ও ২৬টি প্লট অবৈধ দখলের পর মিনি পার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, এ পার্কে প্রকাশ্যে মাদক সেবনসহ দিন-দুপুরেই চলে অসামাজিক কাজ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্বাচল প্রকল্পের ১ ও ২নং সেক্টরের মাঝে একটি লেকপাড় ও ৭০ বিঘার অধিক জমির প্রায় ২৬টি প্লট অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মিনি পার্ক। আর তা দখলে রেখেছে বাড়িয়া ছনি এলাকার আবেদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম লিটন ও তার বাহিনী। তা নিয়ন্ত্রণ করছে তার ভাই কসাই সিরাজ ও ছেলে রানা, ভাতিজা সরফরাজ, যুবরাজ। এদের মাদক সরবরাহের অভিযোগে ২৩ জুলাই মাদকসহ আটক করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। সূত্র জানায়, রাজউকের উচ্ছেদ নজর এড়াতে সাইনবোর্ড বিহিন এ পার্কে দম্পতি, কপোত-কপোতী ছাড়াও রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে মাদকসেবীরা বেড়াতে আসে নিয়মিত। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অবাধে মাদক সরবরাহ করেন পার্কটির মালিক ও ম্যানেজার। আর পার্কের নামে অবৈধ দখলকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ ১৯টির বেশি মামলা। এছাড়া একাধিক বিয়ে করায় ১৯৮৫ সালে বাবাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগও রয়েছে সিরাজ ও লিটনের বিরুদ্ধে। সূত্র আরও জানায়, এ পার্কটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব থাকা তোফাজ্জল মীর রূপগঞ্জের বাড়িয়া ছনি এলাকার কিসমতের ছেলে নবী হোসেন ঢালু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। জামিনে থেকে এ পার্কটি পরিচালনা করছেন তিনি। লিটন তার মাধ্যমে পূর্বাচলের কোনো স্থানে প্লটের উন্নয়ন কাজ হলে প্রথমে কাজ চান। না দিলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে হামলা, ভাংচুরের ঘটনা ঘটান। এমন এক ভুক্তভোগী রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম জানান, তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তার কেনা জমিতে জোর করে প্রবেশ করে বসতঘর ভেঙে দিয়েছে লিটনের বাহিনী। সে ঘটনায় থানায় ও নারায়ণগঞ্জ আদালতে পৃথক মামলা রয়েছে।

একইভাবে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা নাজিমউদ্দিন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আনোয়ারুজ্জামানের ছেলে আ স ম রকিবুজ্জামানসহ ৩০ জনের অধিক ভুক্তভোগীর করা ১৯টির বেশি মামলাসহ মাদক, নারী নির্যাতন, ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের প্রকৌশল সহকারী হিসেবে দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ৫ মাস আগে বাড়িয়া ছনির লিটনের ছেলে রানা বাহিনী বউড়ার টেক এলাকায় পূর্বাচলের রাস্তার কাজ ও ১নং সেক্টরের একটি নির্মাণাধীন প্লটে চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে রাজউক অবগত হলে একাধিকবার তাদের গড়া অবৈধ পার্ক ভেঙে দেয়।

পরে আবার এ পার্কটি গড়ে তোলে লিটন ও তার বাহিনী।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, পূর্বাচলে এমন বহু রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। আমিও করেছি। কোনো পার্ক গড়ে তুলিনি। অসামাজিক কাজ ও মাদকের সঙ্গে আমার পরিবার জড়িত নয়। আর আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো জমিসংক্রান্ত ও রাজনৈতিক বেশি।

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) উজ্জ্বল মল্লিক মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, পূর্বাচলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদার রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করা হয়েছে। পার্ক বিষয়ে জেনেছি, রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শিগগিরই অবৈধ দখলদারদের পুনরায় উচ্ছেদ করা হবে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, পূর্বাচলের রিসোর্ট বা পার্ক নামে অবৈধ ও অস্থায়ী প্রতিষ্ঠানে কি হচ্ছে তা জানতে থানা পুলিশ সজাগ রয়েছে। কোনো প্রকার বেআইনি কাজ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ বা খোঁজ পেলে ত্বরিত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।