স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে বন্ধ ২২টি
jugantor
যশোরে ২১১ অবৈধ ক্লিনিক-প্যাথলজি
স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে বন্ধ ২২টি

  যশোর ব্যুরো  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর শহরের ল্যাবজোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় ক্রিকেট কোচ সুরাইয়া জান্নাতি তিন্নির (৩০) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এরপর ওই হাসপাতালের লাইসেন্স না থাকায় ৩ আগস্ট বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালটি দিনের পর দিন পরিচালিত হয়ে আসছিল। ল্যাবজোন হাসপাতালের মতো যশোর জেলায় অন্তত ২১১টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্যাথলজি রয়েছে। যাদের লাইসেন্স নেই, থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ, আবার কেউ অনলাইনে আবেদন করেই চালিয়ে যাচ্ছেন কার্যক্রম। এতে সেবাগ্রহীতারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। অবৈধ এসব চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। দুই সপ্তাহে অন্তত ২২টি অবৈধ ক্লিনিক, প্যাথলজি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ২৬২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৫১টির হালনাগাদ লাইসেন্স আছে। বাকি ২১১টির মধ্যে ১০৫টির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর ১০৬টির কোনো দিন লাইসেন্স ছিলই না। করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর জেলায় এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সর্বশেষ ৮ আগস্ট যশোর ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর আগে ৬ আগস্ট অভিযান চালানো হয় চৌগাছার ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিকে। যাদের মধ্যে কপোতাক্ষ ক্লিনিক, মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক ও পল্লবী ক্লিনিককে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়।

৫ আগস্ট যশোর শহরের ল্যাবএইড, নোভা ডায়াগনস্টিক, জেনারেল হাসপাতালের সামনে অসীম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক, দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, পপুলার মেডিকেল ও স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্যাথলজি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ৩ আগস্ট যশোর শহরের ল্যাবজোন হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

২৭ জুলাই যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আধুনিক হাসপাতাল, মনিরামপুরে মুন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুটি শাখা, নিউ প্রগতি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। এর আগের দিন বাঘারপাড়ার খাজুরার মাতৃভাষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। আর ২১ জুলাই সিলগালা করা হয় সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার মহুয়া ক্লিনিক। ৩১ জুলাই অভিযান চালানো হয় শার্শা উপজেলায়। অভিযানে উপজেলার নাভারণের জহুরা ক্লিনিক ও পল্লবী ক্লিনিক সিলগালা করা হয়। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক সিভিল সার্জন, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মতো বিশিষ্ট চিকিৎসকরা যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন ল্যাব টেকনিশিয়ান, গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তাররাও। সাইনবোর্ড সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মনীতির বালাই নেই। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চালানো হয় রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা। দেয়া হয় মনগড়া রিপোর্ট। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, জেলায় বেশিরভাগ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে চলছে ব্যবসা। এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যশোরে ২১১ অবৈধ ক্লিনিক-প্যাথলজি

স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে বন্ধ ২২টি

 যশোর ব্যুরো 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর শহরের ল্যাবজোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় ক্রিকেট কোচ সুরাইয়া জান্নাতি তিন্নির (৩০) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এরপর ওই হাসপাতালের লাইসেন্স না থাকায় ৩ আগস্ট বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালটি দিনের পর দিন পরিচালিত হয়ে আসছিল। ল্যাবজোন হাসপাতালের মতো যশোর জেলায় অন্তত ২১১টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্যাথলজি রয়েছে। যাদের লাইসেন্স নেই, থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ, আবার কেউ অনলাইনে আবেদন করেই চালিয়ে যাচ্ছেন কার্যক্রম। এতে সেবাগ্রহীতারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। অবৈধ এসব চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। দুই সপ্তাহে অন্তত ২২টি অবৈধ ক্লিনিক, প্যাথলজি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ২৬২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৫১টির হালনাগাদ লাইসেন্স আছে। বাকি ২১১টির মধ্যে ১০৫টির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর ১০৬টির কোনো দিন লাইসেন্স ছিলই না। করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর জেলায় এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সর্বশেষ ৮ আগস্ট যশোর ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর আগে ৬ আগস্ট অভিযান চালানো হয় চৌগাছার ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিকে। যাদের মধ্যে কপোতাক্ষ ক্লিনিক, মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক ও পল্লবী ক্লিনিককে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়।

৫ আগস্ট যশোর শহরের ল্যাবএইড, নোভা ডায়াগনস্টিক, জেনারেল হাসপাতালের সামনে অসীম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক, দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, পপুলার মেডিকেল ও স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্যাথলজি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ৩ আগস্ট যশোর শহরের ল্যাবজোন হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

২৭ জুলাই যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আধুনিক হাসপাতাল, মনিরামপুরে মুন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুটি শাখা, নিউ প্রগতি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। এর আগের দিন বাঘারপাড়ার খাজুরার মাতৃভাষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। আর ২১ জুলাই সিলগালা করা হয় সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার মহুয়া ক্লিনিক। ৩১ জুলাই অভিযান চালানো হয় শার্শা উপজেলায়। অভিযানে উপজেলার নাভারণের জহুরা ক্লিনিক ও পল্লবী ক্লিনিক সিলগালা করা হয়। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক সিভিল সার্জন, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মতো বিশিষ্ট চিকিৎসকরা যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন ল্যাব টেকনিশিয়ান, গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তাররাও। সাইনবোর্ড সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মনীতির বালাই নেই। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চালানো হয় রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা। দেয়া হয় মনগড়া রিপোর্ট। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, জেলায় বেশিরভাগ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে চলছে ব্যবসা। এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।