বরিশাল শ্রমিক লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ
jugantor
বরিশাল শ্রমিক লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ

  আকতার ফারুক শাহিন ও তন্ময় তপু, বরিশাল ব্যুরো  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদের এক শ্রমিক নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে নগরীর উপকণ্ঠের কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ওরফে লিটন মোল্লা নামে এ শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ।

এরই মধ্যে এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। চাঁদা না দেয়ায় এক পরিবহন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা ও চাঁদা তোলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া এসব মামলার প্রতিটিতেই প্রধান আসামি এ লিটন মোল্লা। মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার খায়রুল আলম বলেন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে বদ্ধপরিকর সরকার। এ রকম একটি সময়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় বিব্রত আমরা। তাই যে কোনো মূল্যে তাকে (লিটন মোল্লা) গ্রেফতার করে টার্মিনালে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা। তখন তিনি ছিলেন থ্রি-হুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার চোখ পড়ে বাস টার্মিনালের দিকে। গত বছরের জানুয়ারিতে বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিক নেতা হিসেবে ঢোকেন তিনি। শুরুতে কেবল শ্রমিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকলেও একপর্যায়ে নামেন পুরো টার্মিনাল দখলের টার্গেটে। ওই বছরের মার্চ মাসে কেনেন লাইনসহ একটি পুরনো বাস। এর পরপরই টার্মিনালে আগে থেকেই থাকা শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের সমান্তরালে তৈরি করেন নতুন সংগঠন ‘চালক-শ্রমিক একতা কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি’। সমবায় অধিদফতরের কোনো নিবন্ধন না থাকলেও এ সংগঠনটিকেই ব্যবহার করতে শুরু করেন হাতিয়ার হিসেবে।

জানা যায়, বরিশাল-মাওয়া রুটে প্রতিদিন ৩৪ থেকে ৩৬টি বাস চলাচল করে। এসব বাস থেকে ২ হাজার ২২শ’ করে টাকা চাঁদা বাবদ নেয় লিটন মোল্লা। কেবল এ একটি খাতেই গত পৌনে ২ বছরে তার আয় ছিল ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাসের কাউন্টারগুলো ধরলে এ অংক ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের শ্রমিক-মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও লিটন মোল্লার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারত না। তবে এসব কিছুতেই গোল বাধে চলতি বছরের ২৩ জুলাই। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার থেকে লিটন মোল্লার লোকজনকে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বেদম মারধর করা হয় কাউন্টারের ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে অন্যরা। মারধরের সময় কাউন্টার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুটে নেয় লিটনের লোকজন। আহত শহিদুল জানান, ‘প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা চাঁদা বাবদ নিত লিটন। অন্য কাউন্টার থেকেও প্রায় একই হারে চাঁদা আদায় করত তার লোকজন।

চাঁদাবাজি প্রশ্নে চলতি মাসের গোড়ার দিকে দ্বিতীয় দফা প্রতিরোধের মুখে পড়েন লিটন মোল্লা। এবার জটিলতা বাধে বরিশাল-মাওয়া রুটে চলাচলকারী ‘বিএমএফ’ পরিবহনের বাস থেকে লিটন বাহিনীর চাঁদা আদায় নিয়ে। এ পরিবহনের আওতায় বরিশাল-মাওয়া রুটে দৈনিক প্রায় ৪০টি বাস চলাচল করে। বরিশাল ছাড়াও মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর মালিকদের বাস চলে এ পরিবহনে।

বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাসরেক বাবলু জানান, ‘বিএমএফ কাউন্টার নিয়ে ঝামেলা চলছে। সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা। সেখানে তিনি কী করেন বা না করেন তা আমাদের জানা নেই।’

বরিশালের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. খায়রুল আলম বলেন, বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলারই প্রধান আসামি লিটন মোল্লা। এ পর্যন্ত মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করেছি আমরা। প্রধান আসামি লিটনসহ অন্য আসামিদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টার্মিনালে কোনো রকম চাঁদাবাজি সহ্য করব না। চাঁদাবাজদেরও ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিক ফোন দেয়া হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় পলাতক লিটন মোল্লার। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি।

বরিশাল শ্রমিক লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে খুঁজছে পুলিশ

 আকতার ফারুক শাহিন ও তন্ময় তপু, বরিশাল ব্যুরো 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদের এক শ্রমিক নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে নগরীর উপকণ্ঠের কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ওরফে লিটন মোল্লা নামে এ শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ।

এরই মধ্যে এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। চাঁদা না দেয়ায় এক পরিবহন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা ও চাঁদা তোলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া এসব মামলার প্রতিটিতেই প্রধান আসামি এ লিটন মোল্লা। মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার খায়রুল আলম বলেন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে বদ্ধপরিকর সরকার। এ রকম একটি সময়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় বিব্রত আমরা। তাই যে কোনো মূল্যে তাকে (লিটন মোল্লা) গ্রেফতার করে টার্মিনালে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা। তখন তিনি ছিলেন থ্রি-হুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার চোখ পড়ে বাস টার্মিনালের দিকে। গত বছরের জানুয়ারিতে বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিক নেতা হিসেবে ঢোকেন তিনি। শুরুতে কেবল শ্রমিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকলেও একপর্যায়ে নামেন পুরো টার্মিনাল দখলের টার্গেটে। ওই বছরের মার্চ মাসে কেনেন লাইনসহ একটি পুরনো বাস। এর পরপরই টার্মিনালে আগে থেকেই থাকা শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের সমান্তরালে তৈরি করেন নতুন সংগঠন ‘চালক-শ্রমিক একতা কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি’। সমবায় অধিদফতরের কোনো নিবন্ধন না থাকলেও এ সংগঠনটিকেই ব্যবহার করতে শুরু করেন হাতিয়ার হিসেবে।

জানা যায়, বরিশাল-মাওয়া রুটে প্রতিদিন ৩৪ থেকে ৩৬টি বাস চলাচল করে। এসব বাস থেকে ২ হাজার ২২শ’ করে টাকা চাঁদা বাবদ নেয় লিটন মোল্লা। কেবল এ একটি খাতেই গত পৌনে ২ বছরে তার আয় ছিল ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাসের কাউন্টারগুলো ধরলে এ অংক ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের শ্রমিক-মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও লিটন মোল্লার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারত না। তবে এসব কিছুতেই গোল বাধে চলতি বছরের ২৩ জুলাই। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার থেকে লিটন মোল্লার লোকজনকে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বেদম মারধর করা হয় কাউন্টারের ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে অন্যরা। মারধরের সময় কাউন্টার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুটে নেয় লিটনের লোকজন। আহত শহিদুল জানান, ‘প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা চাঁদা বাবদ নিত লিটন। অন্য কাউন্টার থেকেও প্রায় একই হারে চাঁদা আদায় করত তার লোকজন।

চাঁদাবাজি প্রশ্নে চলতি মাসের গোড়ার দিকে দ্বিতীয় দফা প্রতিরোধের মুখে পড়েন লিটন মোল্লা। এবার জটিলতা বাধে বরিশাল-মাওয়া রুটে চলাচলকারী ‘বিএমএফ’ পরিবহনের বাস থেকে লিটন বাহিনীর চাঁদা আদায় নিয়ে। এ পরিবহনের আওতায় বরিশাল-মাওয়া রুটে দৈনিক প্রায় ৪০টি বাস চলাচল করে। বরিশাল ছাড়াও মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর মালিকদের বাস চলে এ পরিবহনে।

বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাসরেক বাবলু জানান, ‘বিএমএফ কাউন্টার নিয়ে ঝামেলা চলছে। সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা। সেখানে তিনি কী করেন বা না করেন তা আমাদের জানা নেই।’

বরিশালের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. খায়রুল আলম বলেন, বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলারই প্রধান আসামি লিটন মোল্লা। এ পর্যন্ত মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করেছি আমরা। প্রধান আসামি লিটনসহ অন্য আসামিদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টার্মিনালে কোনো রকম চাঁদাবাজি সহ্য করব না। চাঁদাবাজদেরও ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিক ফোন দেয়া হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় পলাতক লিটন মোল্লার। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি।