বরিশালে বন্যা ও নদীভাঙনে নিঃস্ব শত শত গ্রামের মানুষ

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি মৌসুমের বন্যার পানিতে বরিশালের হিজলার ডিক্রির চর গ্রাম তলিয়ে গেছে। নিুাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, বাসা-বাড়ি, দোকান ও স্কুলে পানি প্রবেশ করেছে। পুকুর ও ঘেরের মাছসহ কয়েকশ’ হেক্টর ফসলি জমির বীজতলা তলিয়ে গেছে। বন্যার পানির তোড়ে নদী ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে। ফসলসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে গ্রামের অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। শুধু হিজলা উপজেলা নয়, বানারীপাড়া. বাবুগঞ্জ ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদেরও একই অবস্থা।

জানা গেছে, মেঘনা নদীর পানি ১১৪ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রবল স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে। একদিকে করোনার প্রকোপ, অন্যদিকে মেঘনার ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে মেঘনাপাড়ের রহিমা বেগমের চোখে এখন শুধুই পানি। কে দেবে সাহায্য, সেই চাওয়াটাও যেন তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে ফসলের। শুধু রহিমাই নন, এমন দুঃসহ জীবনের গল্প এখন ডিক্রিরচরসহ তার মেঘনার কোল ঘেঁষে আবুপুর গ্রামের অনেক ঘরেই। ৭০ বছর বয়সী আবদুর রহমান জানান, বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে। কোথাও থাকার জায়গা নেই। অনেক কষ্টে দিন পার করছি। তিনি জানান, ১৯৯৮ সালের পর এমন বন্যা আর দেখিনি, সব পানিতে ভাইসা গেছে। অতিরিক্ত স্রোতের কাছে অসহায় জেলেরাও। এমন অবস্থা থেকে কবে মিলবে মুক্তি সেদিকে চেয়ে সবাই।

উপজেলার শুধু ডিক্রিরচরই নয়, বাউশিয়া, মহিষখোলা, টুনচর, ঘংঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও কোথাও পানি নেমে গেলেও অনেক স্থানেই সপ্তাহ ধরে রয়েছে। শুধু হিজলা উপজেলায় চার হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ শতাধিক পুকুর, প্রায় দুই হাজার একর পানের বরজ ও দেড় শতাধিক গবাদি পশু ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অবস্থাও হিজলা উপজেলার মতোই। এখানকার উলানিয়া, গোবিন্দপুর, চানপুর, মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারও মানুষ। বন্যায় এখানকার ৯১০টি ঘরবাড়ি পুরো ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শুধু ঘরবাড়িই নয়- এখানকার ফসলি জমি, পানের বরজ ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের রামকাঠি, সিকান্দারপুর, কান্ডারিয়া, জগতবলসহ বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে এখানকার ঘরবাড়ি ফসলের মাঠ।

ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ। রামকাঠি গ্রামের মাছের ঘেরের মালিক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, বন্যার পানিতে আমাদের স্বপ্ন ভেসে গেছে। শুধু আমারই নয়, অনেকের ঘেরের মাছ চলে গেছে। যদিও এ জন্য সরকারিভাবে আমরা কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভুতুরদিয়া, আগরপুর ইউনিয়নের চরজাহাপুর, সিলন্দিয়া, রহমতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বন্যার কারণে আড়িয়ালখাঁ নদীর ভাঙন বেড়ে গেছে। এ কারণে ছোট মীরগঞ্জ বাজার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বানারীপাড়া উপজেলার বিশরকান্দি ইউনিয়ন, উদয়পুর, সৈয়দকাঠি, ইলুহার, বাইশারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিুাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, এখন আর তেমন পানিবন্দি মানুষ নেই। জোয়ারে পানি ওঠে, আবার নেমে যায়। বিভিন্ন উপজেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। জেলার ১০ উপজেলায় ১০ টন করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত