সিনহাসহ সব বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার চাই
jugantor
সিনহাসহ সব বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার চাই
-মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত এক দশকে তিন হাজার মানুষের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এসব ঘটনার বিচার দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এ সরকারের অধীনে এ দেশে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষ। এদের অধিকাংশই বিরোধী দলের নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১০ বছরে জেল কাস্টডিতে মারা গেছে ৭৯৫ জন মানুষ, গুম ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার ৭৮০৬ জন নারী, ১৯৩৪ জন শিশু নির্যাতিত এবং ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এক লাখের উপরে রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। সেখানে আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখের উপরে। এ চিত্র বলে দেয় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে, লাখো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতার স্বদেশ প্রিয় জন্মভূমি আজ মৃত্যু উপত্যকা, জল্লাদের রঙ্গমঞ্চ। আমরা অবশ্যই সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৯৬ জন এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং অথবা কাস্টোডিয়াল ডেথের শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালে হয়েছে ৩৮৮ জন, ২০১৮ সালে হয়েছে ৪৬৬ জন, ২০১৭ সালে হয়েছে ১৬২ জন, ২০১৬ সালে হয়েছে ১৯৫ জন।

কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাকে (সিনহা) পুলিশ হত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গণমাধ্যম অত্যন্ত পেশাগত দায়িত্বে থেকে এর সংবাদগুলো সংগ্রহ করে পরিবেশন করেছে। সাধারণ মানুষেরা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায় না। গর্বিত সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজরের এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্র্মকতারা, সমগ্র জাতি যেভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে তাতে মেজর সিনহার পরিবার সাহস পাচ্ছে, বিচারপ্রার্থী হতে পারছে। আমরা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। সব বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই চাই।

তিনি বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হবে না। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা বলতে চাই ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড ঘটানো বা না ঘটানো পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঠাণ্ডা মাথার সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা মহামারীতে কেউ কোথাও কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন বিখ্যাত মানুষ মিঠু। পত্রিকায় দেখলাম সে বহাল তবিয়তে দেশ ছেড়ে বাইরে চলে গেছে। কী চমৎকার! যারা লুণ্ঠন করেছে, যারা আমাদের জনগণের কষ্টার্জিত টাকার ট্যাক্স লুট করবে তারা চলে যাবে দেশ ছেড়ে সহজেই। আর সাধারণ মানুষ যারা এখানে লড়াই করবে বেঁচে থাকার জন্য, জীবিকার জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবে ক্রসফায়ারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রবাসীরা যারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করছে, দেশে অর্থ পাঠাচ্ছে, রেমিটেন্স বাড়াচ্ছে। তাদেরকে যত রকমের হেনস্থা করার আছে তারা করবে। কয়েকদিন আগে দেখলাম মালয়েশিয়াতে আমাদের কিছু প্রবাসী কর্মী ভাইদের আহাজারি। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের খোঁজ নেয়ার পর্যন্ত কেউ নেই।

সিনহাসহ সব বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার চাই

-মির্জা ফখরুল
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত এক দশকে তিন হাজার মানুষের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এসব ঘটনার বিচার দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এ সরকারের অধীনে এ দেশে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষ। এদের অধিকাংশই বিরোধী দলের নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১০ বছরে জেল কাস্টডিতে মারা গেছে ৭৯৫ জন মানুষ, গুম ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার ৭৮০৬ জন নারী, ১৯৩৪ জন শিশু নির্যাতিত এবং ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এক লাখের উপরে রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। সেখানে আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখের উপরে। এ চিত্র বলে দেয় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে, লাখো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতার স্বদেশ প্রিয় জন্মভূমি আজ মৃত্যু উপত্যকা, জল্লাদের রঙ্গমঞ্চ। আমরা অবশ্যই সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৯৬ জন এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং অথবা কাস্টোডিয়াল ডেথের শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালে হয়েছে ৩৮৮ জন, ২০১৮ সালে হয়েছে ৪৬৬ জন, ২০১৭ সালে হয়েছে ১৬২ জন, ২০১৬ সালে হয়েছে ১৯৫ জন।

কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাকে (সিনহা) পুলিশ হত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গণমাধ্যম অত্যন্ত পেশাগত দায়িত্বে থেকে এর সংবাদগুলো সংগ্রহ করে পরিবেশন করেছে। সাধারণ মানুষেরা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায় না। গর্বিত সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজরের এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্র্মকতারা, সমগ্র জাতি যেভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে তাতে মেজর সিনহার পরিবার সাহস পাচ্ছে, বিচারপ্রার্থী হতে পারছে। আমরা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। সব বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই চাই।

তিনি বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হবে না। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা বলতে চাই ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড ঘটানো বা না ঘটানো পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ঠাণ্ডা মাথার সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা মহামারীতে কেউ কোথাও কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন বিখ্যাত মানুষ মিঠু। পত্রিকায় দেখলাম সে বহাল তবিয়তে দেশ ছেড়ে বাইরে চলে গেছে। কী চমৎকার! যারা লুণ্ঠন করেছে, যারা আমাদের জনগণের কষ্টার্জিত টাকার ট্যাক্স লুট করবে তারা চলে যাবে দেশ ছেড়ে সহজেই। আর সাধারণ মানুষ যারা এখানে লড়াই করবে বেঁচে থাকার জন্য, জীবিকার জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবে ক্রসফায়ারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রবাসীরা যারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করছে, দেশে অর্থ পাঠাচ্ছে, রেমিটেন্স বাড়াচ্ছে। তাদেরকে যত রকমের হেনস্থা করার আছে তারা করবে। কয়েকদিন আগে দেখলাম মালয়েশিয়াতে আমাদের কিছু প্রবাসী কর্মী ভাইদের আহাজারি। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের খোঁজ নেয়ার পর্যন্ত কেউ নেই।