চসিকে একযোগে ৩৯ কর্মকর্তা কর্মচারী রদবদলে তোলপাড়
jugantor
চসিকে একযোগে ৩৯ কর্মকর্তা কর্মচারী রদবদলে তোলপাড়
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেন এস্টেট অফিসার! * কাজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ও এস্টেট বিভাগে একযোগে ৩৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রদবদলের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। খোরশেদ আলম সুজন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় এমন রদবদলের ঘটনায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বুধবার চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে রাজস্ব বিভাগের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এস্টেট বিভাগের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রদবদল করা হয়।

এদিকে, ‘রাজস্ব প্রশাসনে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা আনয়নের স্বার্থে’ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে রদবদলের চিঠিতে উল্লেখ আছে। তবে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই বলছেন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নামে নতুন প্রশাসককে বিভ্রান্ত করে একটি পক্ষ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। গণহারে এ রদবদলে অসন্তোষ সৃষ্টির পাশাপাশি উল্টো কাজের গতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ রদবদলের ক্ষেত্রে কোনো কোনো কর্মকর্তার পদাবনতি হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে বসানো হয়েছে কর্মকর্তার চেয়ারে!

দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত এস্টেট অফিসার এখলাছ উদ্দিন (অতি. দায়িত্ব) নিজ পদে (এস্টেট অফিসার) স্থায়ী হওয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু পদোন্নতি তো দূরের কথা আইনি লড়াই (উচ্চ আদালতে মামলা চলমান) শেষ হওয়ার আগেই তাকে পদাবনতি দেয়া হয়। তার স্থলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তথা একই বিভাগের বাজার পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনকে এক লাফে ভারপ্রাপ্ত এস্টেট অফিসার হিসেবে ‘পদোন্নতি’ প্রদান বা পদায়ন করা হয়। একই বিভাগের বাজার ভাড়া আদায়কারী নুরুল ইসলামও স্থায়ী নিয়োগ পেতে উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাকেও এস্টেট বিভাগ থেকে রাজস্ব শাখায় অনুমতি পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কর্মরত কর্মকর্তাকে পদাবনতি দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে কিভাবে ভারপ্রাপ্ত এস্টেট অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল- এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মফিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা নেই তাই এটি করতে হয়েছে।’ তা ছাড়া যিনি বর্তমানে এস্টেট অফিসার (অতি. দায়িত্ব, এখলাছ উদ্দিন) হিসেবে আছেন তিনি অস্থায়ী। তিনি মামলা করলেও মামলায় বদলির বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।’

আরও অভিযোগ করেছে, রাজস্ব বিভাগে ট্যাক্স অফিসার (টিও) বদলির ক্ষেত্রেও সিনিয়র-জুনিয়র মর্যাদা রক্ষা করা হয়নি। রাজস্ব বিভাগে দুটি সেকশন রয়েছে। এর একটি হচ্ছে ট্যাক্স অফিসার (ট্যাক্স)। অপরটি ট্যাক্স অফিসার (ট্রেড লাইসেন্স)। এর মধ্যে টিও (ট্যাক্সকে) মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জুনিয়র টিওদের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় বদলির একটি অঘোষিত নিয়ম রয়েছে। সিনিয়রদের টিও (ট্যাক্স) সেকশনে বদলির একটি অঘোষিত প্রথা রয়েছে। কিন্তু বুধবার রাতে বদলির আদেশ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিবেচনা করে সেভাবে বদলি বা পদায়ন করা হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা গণহারে রদবদল প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, কর্তৃপক্ষ মনে করেছে রাজস্ব প্রশাসনে গতি ও শৃঙ্খলা আনতে এ রদবদল প্রয়োজন ছিল। তাই তা করা হয়েছে। রদবদলের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন বা কোনো মামলা-মোকদ্দমা থাকে সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

চসিকে একযোগে ৩৯ কর্মকর্তা কর্মচারী রদবদলে তোলপাড়

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেন এস্টেট অফিসার! * কাজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ও এস্টেট বিভাগে একযোগে ৩৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রদবদলের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। খোরশেদ আলম সুজন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় এমন রদবদলের ঘটনায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বুধবার চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে রাজস্ব বিভাগের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এস্টেট বিভাগের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রদবদল করা হয়।

এদিকে, ‘রাজস্ব প্রশাসনে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা আনয়নের স্বার্থে’ দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে রদবদলের চিঠিতে উল্লেখ আছে। তবে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই বলছেন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নামে নতুন প্রশাসককে বিভ্রান্ত করে একটি পক্ষ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। গণহারে এ রদবদলে অসন্তোষ সৃষ্টির পাশাপাশি উল্টো কাজের গতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ রদবদলের ক্ষেত্রে কোনো কোনো কর্মকর্তার পদাবনতি হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে বসানো হয়েছে কর্মকর্তার চেয়ারে!

দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত এস্টেট অফিসার এখলাছ উদ্দিন (অতি. দায়িত্ব) নিজ পদে (এস্টেট অফিসার) স্থায়ী হওয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু পদোন্নতি তো দূরের কথা আইনি লড়াই (উচ্চ আদালতে মামলা চলমান) শেষ হওয়ার আগেই তাকে পদাবনতি দেয়া হয়। তার স্থলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তথা একই বিভাগের বাজার পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনকে এক লাফে ভারপ্রাপ্ত এস্টেট অফিসার হিসেবে ‘পদোন্নতি’ প্রদান বা পদায়ন করা হয়। একই বিভাগের বাজার ভাড়া আদায়কারী নুরুল ইসলামও স্থায়ী নিয়োগ পেতে উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাকেও এস্টেট বিভাগ থেকে রাজস্ব শাখায় অনুমতি পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কর্মরত কর্মকর্তাকে পদাবনতি দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে কিভাবে ভারপ্রাপ্ত এস্টেট অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল- এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মফিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা নেই তাই এটি করতে হয়েছে।’ তা ছাড়া যিনি বর্তমানে এস্টেট অফিসার (অতি. দায়িত্ব, এখলাছ উদ্দিন) হিসেবে আছেন তিনি অস্থায়ী। তিনি মামলা করলেও মামলায় বদলির বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।’

আরও অভিযোগ করেছে, রাজস্ব বিভাগে ট্যাক্স অফিসার (টিও) বদলির ক্ষেত্রেও সিনিয়র-জুনিয়র মর্যাদা রক্ষা করা হয়নি। রাজস্ব বিভাগে দুটি সেকশন রয়েছে। এর একটি হচ্ছে ট্যাক্স অফিসার (ট্যাক্স)। অপরটি ট্যাক্স অফিসার (ট্রেড লাইসেন্স)। এর মধ্যে টিও (ট্যাক্সকে) মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জুনিয়র টিওদের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় বদলির একটি অঘোষিত নিয়ম রয়েছে। সিনিয়রদের টিও (ট্যাক্স) সেকশনে বদলির একটি অঘোষিত প্রথা রয়েছে। কিন্তু বুধবার রাতে বদলির আদেশ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিবেচনা করে সেভাবে বদলি বা পদায়ন করা হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা গণহারে রদবদল প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, কর্তৃপক্ষ মনে করেছে রাজস্ব প্রশাসনে গতি ও শৃঙ্খলা আনতে এ রদবদল প্রয়োজন ছিল। তাই তা করা হয়েছে। রদবদলের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন বা কোনো মামলা-মোকদ্দমা থাকে সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।