নারায়ণগঞ্জে নিহতদের ৪ জনই রাঙ্গাবালীর
jugantor
নারায়ণগঞ্জে নিহতদের ৪ জনই রাঙ্গাবালীর

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু জুবায়েরের লাশ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পৌঁছার পর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় খবর আসে, তার বাবা জুলহাসও না ফেরার দেশে চলে গেছেন। হৃদয়বিদারক এ খবরে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শোকের মাত্রা বেড়ে যায়। এদিকে, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন : ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বেলায়েত রাঢ়ীর ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক জামাল রাঢ়ী (৪০) ও সদর ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের সাজাহান প্যাদার ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক নিজাম প্যাদা (৩৫)। তাদের মধ্যে শিশু জুবায়ের, জামাল রাঢী ও নিজামের লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছানের পর জানাজা শেষে দাফন রোববার দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু জুবায়েরের বাবা জুলহাসের লাশ ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এক উপজেলায় চারজনের মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের শুক্রবার এশার নামাজ আদায় করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে যান। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা ও ছেলে অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেয়া হলে ওইদিন রাত ১টায় ৭ বছরের শিশু জুবায়ের মারা যায়।

এদিকে, জোবায়েরের লাশ তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার ভোরে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে এসে পৌঁছায়। লাশ দাফনের প্রস্তুতিকালে খবর আসে, তার বাবা সলেমান জুলহাসও (২৮) মারা গেছেন।

সরেজমিন রোববার দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মাটিতে লুটিয়ে বিলাপ করছেন স্বামী-সন্তানহারা রাহিমা বেগম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ও নাতির শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন জুলহাসের মা।

স্থানীয়রা জানান, অভাবের কারণে জুলহাস ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকের কাজ করতেন জুলহাস। নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রেণিতে এবার জুবায়েরকে ভর্তি করান।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, চারজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, এটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। জেলা প্রশাসককে নিহতদের তথ্য দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে নিহতদের ৪ জনই রাঙ্গাবালীর

 রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু জুবায়েরের লাশ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পৌঁছার পর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় খবর আসে, তার বাবা জুলহাসও না ফেরার দেশে চলে গেছেন। হৃদয়বিদারক এ খবরে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শোকের মাত্রা বেড়ে যায়। এদিকে, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন : ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বেলায়েত রাঢ়ীর ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক জামাল রাঢ়ী (৪০) ও সদর ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের সাজাহান প্যাদার ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক নিজাম প্যাদা (৩৫)। তাদের মধ্যে শিশু জুবায়ের, জামাল রাঢী ও নিজামের লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছানের পর জানাজা শেষে দাফন রোববার দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু জুবায়েরের বাবা জুলহাসের লাশ ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এক উপজেলায় চারজনের মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের শুক্রবার এশার নামাজ আদায় করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে যান। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা ও ছেলে অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেয়া হলে ওইদিন রাত ১টায় ৭ বছরের শিশু জুবায়ের মারা যায়।

এদিকে, জোবায়েরের লাশ তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার ভোরে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে এসে পৌঁছায়। লাশ দাফনের প্রস্তুতিকালে খবর আসে, তার বাবা সলেমান জুলহাসও (২৮) মারা গেছেন।

সরেজমিন রোববার দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মাটিতে লুটিয়ে বিলাপ করছেন স্বামী-সন্তানহারা রাহিমা বেগম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ও নাতির শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন জুলহাসের মা।

স্থানীয়রা জানান, অভাবের কারণে জুলহাস ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকের কাজ করতেন জুলহাস। নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রেণিতে এবার জুবায়েরকে ভর্তি করান।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, চারজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, এটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। জেলা প্রশাসককে নিহতদের তথ্য দেয়া হয়েছে।