কুমিল্লায় ঘুষ দিয়েও ভাতা কার্ড মেলেনি প্রতিবন্ধীর
jugantor
কুমিল্লায় ঘুষ দিয়েও ভাতা কার্ড মেলেনি প্রতিবন্ধীর

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় ইউপি সদস্যকে ঘুষ দিয়ে আবদুল মোতালেব নামে এক প্রতিবন্ধী তিন বছরেও পাননি সরকারি ভাতার কার্ড। দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনকে কার্ড করে দেয়ার জন্য চার হাজার টাকা দিয়েছিলেন ওই প্রতিবন্ধী। পরে কার্ড না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

এদিকে ঘুষের টাকা ফেরত না পেয়ে প্রতিবন্ধী মোতালেব বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানান। কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। পরে সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ইউএনও রাকিব হাসান চার দিনের মধ্যে চার হাজার টাকার পরিবর্তে ওই প্রতিবন্ধীকে আট হাজার টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ইউএনও তাকে ভাতার কার্ডও করে দেন এবং চলাচলের জন্য একটি হুইল চেয়ার দেন।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী আবদুল মোতালেবের (৭০) বাড়ি জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুরে। দুটি পা নেই, হাতে ভর করেই চলাফেরা করেন তিনি। মানুষের দান খয়রাতে চলে তার দু’মুঠো আহার। প্রতিবন্ধী মোতালেব বলেন, চার হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তিন বছর ধরে ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনের পেছনে পেছনে ঘুরেছি, কিন্তু কার্ড পাইনি। শেষে টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমাকে প্রকাশ্যে মারধরের চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন।

ওই প্রতিবন্ধীর অভিযোগ, ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বয়স্ক, বিধবা, গর্ভবতী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ডের জন্য প্রতিজন থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা করে নেন। আবু মিয়া, মোতালেবের স্ত্রী, রশিদ মিয়াসহ অনেক অসহায়ের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েও দিচ্ছেন না ভাতার কার্ড। কিন্তু ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বলেন, আমি কোনো প্রতিবন্ধী কিংবা অসহায় লোকের কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে টাকা-পয়সা নেইনি। এলাকার একটি চক্র প্রতিবন্ধী মোতালেবকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তার কার্ডের দুই হাজার টাকা আমি দুই মাস আগে ফেরত দিয়েছি।

ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যার দুটি পা নেই তার কাছ থেকেও ঘুষ নেয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে একটি হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় ঘুষ দিয়েও ভাতা কার্ড মেলেনি প্রতিবন্ধীর

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় ইউপি সদস্যকে ঘুষ দিয়ে আবদুল মোতালেব নামে এক প্রতিবন্ধী তিন বছরেও পাননি সরকারি ভাতার কার্ড। দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনকে কার্ড করে দেয়ার জন্য চার হাজার টাকা দিয়েছিলেন ওই প্রতিবন্ধী। পরে কার্ড না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

এদিকে ঘুষের টাকা ফেরত না পেয়ে প্রতিবন্ধী মোতালেব বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানান। কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। পরে সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ইউএনও রাকিব হাসান চার দিনের মধ্যে চার হাজার টাকার পরিবর্তে ওই প্রতিবন্ধীকে আট হাজার টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ইউএনও তাকে ভাতার কার্ডও করে দেন এবং চলাচলের জন্য একটি হুইল চেয়ার দেন।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী আবদুল মোতালেবের (৭০) বাড়ি জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুরে। দুটি পা নেই, হাতে ভর করেই চলাফেরা করেন তিনি। মানুষের দান খয়রাতে চলে তার দু’মুঠো আহার। প্রতিবন্ধী মোতালেব বলেন, চার হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তিন বছর ধরে ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনের পেছনে পেছনে ঘুরেছি, কিন্তু কার্ড পাইনি। শেষে টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমাকে প্রকাশ্যে মারধরের চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন।

ওই প্রতিবন্ধীর অভিযোগ, ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বয়স্ক, বিধবা, গর্ভবতী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ডের জন্য প্রতিজন থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা করে নেন। আবু মিয়া, মোতালেবের স্ত্রী, রশিদ মিয়াসহ অনেক অসহায়ের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েও দিচ্ছেন না ভাতার কার্ড। কিন্তু ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বলেন, আমি কোনো প্রতিবন্ধী কিংবা অসহায় লোকের কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে টাকা-পয়সা নেইনি। এলাকার একটি চক্র প্রতিবন্ধী মোতালেবকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তার কার্ডের দুই হাজার টাকা আমি দুই মাস আগে ফেরত দিয়েছি।

ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যার দুটি পা নেই তার কাছ থেকেও ঘুষ নেয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে একটি হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন