কোভিড হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঝুঁকিতে ফেলবে
jugantor
সংসদে জিএম কাদের
কোভিড হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঝুঁকিতে ফেলবে

  সংসদ রিপোর্টার  

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে- এমন তথ্য তুলে ধরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, দেশে করোনার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। কবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে

করোনাভাইরাস চিকিৎসার হাসপাতাল বন্ধ করলে জনগণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হবে। তিনি সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশে করোনা আক্রান্তের হিসাব তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, ‘করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা এমনকি মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। এক কথায় করোনা রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে বা কমতে শুরু করেছে এমন কোনো লক্ষণ বাস্তবে দেখছি না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। এরই মাঝে হঠাৎ করে ঘোষণা দিয়ে কিছু সরকারি হাসপাতাল (যেগুলো কোভিড রোগীর চিকিৎসা করত) ননকোভিড চিকিৎসা করার কথা জানিয়েছে। এতে বেসরকারি হাসপাতলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে রোগীরা বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে সেখানেও অনেকে চিকিৎসা পাচ্ছে না। সিটের জন্য অনেকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ছাড়া গত্যন্তর থাকছে না। এটাই বাস্তবতা। কোভিড হাসপাতাল বন্ধ করে, ননকোভিডে রূপান্তর করার এই সিদ্ধান্ত রোগী, বিশেষ করে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আমরা চাই, সরকারি সব হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হোক। যেখানে নেই সেখানে নতুনভাবে তৈরি করা হোক। জানি না করোনা কতদিন থাকবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি সরকারের অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে উলে­খ করে জিএম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতির কথা প্রতিদিন খবরে আসছে, আলোচিত হচ্ছে। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা জনগণ জানছে না। দুর্নীতির জন্য সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেবেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না। এটা বন্ধ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রায়ই কোথাও না কোথাও গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার পরও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের মধ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখন শুরু হয়েছিল তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে একটি বাহিনী- ‘যৌথ বাহিনী’ বিএনপির আমলে সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আইন করে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। তারা এই কাজ করত। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হতেন, তারা সমাজবিরোধী ও আইনবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হতেন। মামলা জট, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দোষী ব্যক্তিরা বিচার এড়িয়ে যেতে পারত। সে কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দ্রুততার সঙ্গে বিচার হচ্ছে বলে গ্রহণযোগ্য হতো। সাধারণ মানুষ ততটা খারাপ মনে করত না।

সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, ক্রমান্বয়ে অনেক সরকারি বাহিনী দিয়ে নির্দোষ লোককে হত্যা করা হচ্ছে। ব্যক্তি স্বার্থে ভাড়াটিয়া বাহিনী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আসছে, মামলায় প্রমাণ হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান, চরমপন্থীদের দমন, সন্ত্রাসী দমন, ধর্মীয় উগ্রপন্থী দমনের নামে পরিচালিত কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হয়। এখন রাজনৈতিক কর্মী, বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রোষের শিকার হয়ে বন্দুকযুদ্ধ, গুমের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় বলা হয়, কোনো বাহিনী জড়িত নয়। সে ক্ষেত্রে তারা দায় এড়াতে পারে না। অপরাধীকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তাদের। বেআইনি কাজ বন্ধ করতে প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা। বেআইনি কাজ বেআইনিভাবে প্রতিরোধ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ ধরনের ব্যবস্থা সম্বলিত সমাজ সভ্য সমাজ কিনা সেটা বিবেচনা করা দরকার।

সংসদে জিএম কাদের

কোভিড হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঝুঁকিতে ফেলবে

 সংসদ রিপোর্টার 
১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে- এমন তথ্য তুলে ধরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, দেশে করোনার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। কবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে

করোনাভাইরাস চিকিৎসার হাসপাতাল বন্ধ করলে জনগণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হবে। তিনি সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশে করোনা আক্রান্তের হিসাব তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, ‘করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা এমনকি মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। এক কথায় করোনা রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে বা কমতে শুরু করেছে এমন কোনো লক্ষণ বাস্তবে দেখছি না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। এরই মাঝে হঠাৎ করে ঘোষণা দিয়ে কিছু সরকারি হাসপাতাল (যেগুলো কোভিড রোগীর চিকিৎসা করত) ননকোভিড চিকিৎসা করার কথা জানিয়েছে। এতে বেসরকারি হাসপাতলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে রোগীরা বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে সেখানেও অনেকে চিকিৎসা পাচ্ছে না। সিটের জন্য অনেকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ছাড়া গত্যন্তর থাকছে না। এটাই বাস্তবতা। কোভিড হাসপাতাল বন্ধ করে, ননকোভিডে রূপান্তর করার এই সিদ্ধান্ত রোগী, বিশেষ করে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আমরা চাই, সরকারি সব হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হোক। যেখানে নেই সেখানে নতুনভাবে তৈরি করা হোক। জানি না করোনা কতদিন থাকবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি সরকারের অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে উলে­খ করে জিএম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতির কথা প্রতিদিন খবরে আসছে, আলোচিত হচ্ছে। কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা জনগণ জানছে না। দুর্নীতির জন্য সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেবেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না। এটা বন্ধ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রায়ই কোথাও না কোথাও গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার পরও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের মধ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখন শুরু হয়েছিল তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে একটি বাহিনী- ‘যৌথ বাহিনী’ বিএনপির আমলে সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আইন করে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। তারা এই কাজ করত। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হতেন, তারা সমাজবিরোধী ও আইনবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হতেন। মামলা জট, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দোষী ব্যক্তিরা বিচার এড়িয়ে যেতে পারত। সে কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দ্রুততার সঙ্গে বিচার হচ্ছে বলে গ্রহণযোগ্য হতো। সাধারণ মানুষ ততটা খারাপ মনে করত না।

সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, ক্রমান্বয়ে অনেক সরকারি বাহিনী দিয়ে নির্দোষ লোককে হত্যা করা হচ্ছে। ব্যক্তি স্বার্থে ভাড়াটিয়া বাহিনী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আসছে, মামলায় প্রমাণ হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান, চরমপন্থীদের দমন, সন্ত্রাসী দমন, ধর্মীয় উগ্রপন্থী দমনের নামে পরিচালিত কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হয়। এখন রাজনৈতিক কর্মী, বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রোষের শিকার হয়ে বন্দুকযুদ্ধ, গুমের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় বলা হয়, কোনো বাহিনী জড়িত নয়। সে ক্ষেত্রে তারা দায় এড়াতে পারে না। অপরাধীকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তাদের। বেআইনি কাজ বন্ধ করতে প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা। বেআইনি কাজ বেআইনিভাবে প্রতিরোধ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ ধরনের ব্যবস্থা সম্বলিত সমাজ সভ্য সমাজ কিনা সেটা বিবেচনা করা দরকার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন