পর্ষদের অনৈতিক হস্তক্ষেপে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ
jugantor
সাক্ষাৎকারে আইডিএলসি’র এমডি আরিফ খান
পর্ষদের অনৈতিক হস্তক্ষেপে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ

  হামিদ বিশ্বাস  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ
ছবি: যুগান্তর

নন ব্যাংক আর্থিক খাতের হাতেগোনা কয়েকটি ভালো প্রতিষ্ঠানের একটি আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। যেখানে পিপলস লিজিংয়ের খেলাপি ঋণ ৬০ শতাংশের উপরে, বিআইএফসির ৯৫ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ; সেখানে আইডিএলসির খেলাপি ঋণ মাত্র ৩ শতাংশ।

আর্থিক খাতের বর্তমান, ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণসহ চলমান করোনা এবং করোনা-পরবর্তী করণীয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি আরিফ খান।

তিনি বলেন, ম্যানেজমেন্টের ওপর পরিচালনা পর্ষদের নিয়মবহির্ভূত এবং অনৈতিক হস্তক্ষেপই ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের মূল কারণ। পরিচালনা পর্ষদ এবং ম্যানেজমেন্টে সুশাসনের চর্চা, খেলাপি ঋণের হার কম এবং সিদ্ধান্তের বিকেন্দ্রীকরণ আইডিএলসি ফাইন্যান্সকে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুটা হলেও আলাদা করে দিয়েছে। সব সময় চেষ্টা করি সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে। তবে আইডিএলসি আসলে কতখানি আলাদা সে বিচারের ভার গ্রাহকের ওপর ছেড়ে দেব।

আইডিএলসি আমানতকারীদের বিশ্বাস ধরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের গ্রাহককে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি। অনেক যাচাই বাছাই করে ঋণ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কেউ প্রভাবিত করতে পারে না।

যখন পছন্দমতো ঋণ ও আমানতের সুদহার নির্ধারণ করা যায়, তখন আয়-ব্যয় ঠিক রেখে যেমন প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা যায় তেমনি খেলাপি ঋণও কম থাকে। আর খেলাপি ঋণ কম থাকলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে কোনো বাধা থাকে না। কোনো কারণে গ্রাহক আমানত ফেরত চাইলে সঙ্গে সঙ্গে তা ফেরত দিতে পারি। এতে গ্রাহকের আস্থা অনেকগুণ বেড়ে যায়। আইডিএলসি ফাইন্যান্স এটাই করে থাকে। সে কারণে ৩৫ বছরের দীর্ঘ এ সময়ে আইডিএলসি এবং গ্রাহক সম্পর্কে এতটুকু ফাটল ধরেনি। ফলে আমানতকারীদের বিশ্বাসের জায়গায় রয়েছে আইডিএলসি।’

ঋণদান পদ্ধতি এবং তদারকির বিষয়ে আরিফ খান বলেন, ঋণ বিতরণের সময় সতর্কতা, গ্রাহকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং নিজেদের অফিসে কাজ না করে গ্রাহকদের ব্যবসার কাজে সহায়তা করি। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্র্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট দিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করতে হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ কোনো অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। বোর্ড নীতিমালা তৈরির জন্য বৈঠক করতে পারে। কিন্তু বোর্ড কখনও ঋণ বিতরণে সুপারিশ করতে পারে না।

এছাড়া কর্মী নিয়োগের সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পরিচালনা পর্ষদের কোনো ব্যক্তি সুপারিশ বা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। যোগ্য লোককে কোম্পানিতে নিয়োগ দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ঋণ অনুমোদনের আগে একাধিক লোকের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। যাতে একজন কর্মকর্তা শুধু নিজের সিদ্ধান্তে ঋণ বিতরণ করতে না পারেন।

একজন এমডি কেমন হওয়া উচিত- এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফ খান বলেন, কোনো ব্যাংক বা নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাথা হল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এই ব্যক্তিটি যদি অসৎ হয় তাহলে বাকি সব নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং এমডিকে সততার সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থে কাজ করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ যদি কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত চাপ সৃষ্টি করে তাহলে আমি মনে করি এমডির চাকরিটা ছেড়ে দেয়া উচিত।

সদ্য বন্ধ ঘোষণা করা পিপলস লিজিংয়ের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণের ৬০ শতাংশ। কিন্তু সেখানে কি এমডি ছিল না? সেখানে কি বোর্ড ছিল না? সিএফও (প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা) ছিল না? তাদের মধ্যে কেউ চাকরি ছেড়েছেন? কেউ বলেছেন এসব কাজগুলো (অপকর্ম) ভেতরে ভেতরে হচ্ছে? ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের কথা কেউ কখনও বলেছেন?

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমন কি কোনো অন্যায় করা সম্ভব যেটা এমডি এবং সিএফও জানেন না? যখনই পরিচালনা পর্ষদ অবৈধ চাপ সৃষ্টি করবে তখনই তাদের চাকরিটা ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ একজন এমডি একপক্ষের চাকরি করেন না। পরিচালনা পর্ষদ, শেয়ারহোল্ডার, আমানতকারী, সরকার এবং সমাজ- এই পাঁচ পক্ষের চাকরি করেন এমডি। সুতরাং তাকে উল্লিখিত সব পক্ষের স্বার্থ দেখতে হবে।

তিনি বলেন, লিজ ফাইন্যান্স সবার আগে শুরু করেছি আমরা। ব্র্যাকের পরে সব চেয়ে বেশি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে আইডিএলসি। এটা কেউ চিন্তা করেনি যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। দেশে সিকিউরিটাইজড বন্ড প্রথম ইস্যু করেছে আইডিএলসি এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলারের ভেঞ্চার ফান্ড সবার আগে চালু করেছে আইডিএলসি। সব সময় নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করি। ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও বেশি ফাইন্যান্স করব।

করোনা-পরবর্তী সময়ে সবাইকে পরিচালনা ব্যয়ের দিকে কড়া নজর দিতে হবে। ব্যয় যাদের অনেক বেশি তারা ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। পরিচালনা ব্যয় বেড়ে গেলে সেটা চার্জ করা হয় গ্রাহকের ওপর। সুতরাং পরিচালনা ব্যয় কমাতে পারলে ঋণের সুদহার কমাতে পারব। একই সঙ্গে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ কমাতে পারলেও ঋণের সুদহার কমানো যায়। ব্যয় কমাতে হলে যত্রতত্র শাখা খোলা যাবে না। অনলাইন বিজনেস করতে হবে।

আইডিএলসি’র এমডি বলেন, যেসব নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খুবই খারাপ তাদের কঠোর মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখতে হবে। যে অনিয়ম ঘটে গেছে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আগামীতে আরও অনেকে এ ধরনের কাজ করবে। তার চেয়ে বড় বিষয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিকভাবে মনিটরিংয়ের প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংককে সবচেয়ে বেশি কঠোর হতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে পূর্বে দুর্নীতিগ্রস্তদের সঙ্গে সম্পর্কিত কাউকেই বোর্ডে রাখা যাবে না। যোগ্য লোক নির্বাচন করে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্বপাপের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। তাদের যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ছোট ফান্ড নিয়ে ব্যবসা করেন, তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করব। এটার মাধ্যমে অনেক নারী উদ্যোক্তাকে ঋণ দিতে পারব।

ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২০ হাজার, ৫০ হাজার এবং এক লাখ টাকার ছোট ঋণ দেবে আইডিএলসি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে আইডিএলসির। অনেকেই বলে থাকেন মহিলাদের ঋণ দিয়ে ফেরত পাওয়া যায় না। কিন্তু আইডিএলসি’র এই প্রকল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক শতাংশেরও নিচে।

সাক্ষাৎকারে আইডিএলসি’র এমডি আরিফ খান

পর্ষদের অনৈতিক হস্তক্ষেপে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ

 হামিদ বিশ্বাস 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঋণ
ছবি: যুগান্তর

নন ব্যাংক আর্থিক খাতের হাতেগোনা কয়েকটি ভালো প্রতিষ্ঠানের একটি আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। যেখানে পিপলস লিজিংয়ের খেলাপি ঋণ ৬০ শতাংশের উপরে, বিআইএফসির ৯৫ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ; সেখানে আইডিএলসির খেলাপি ঋণ মাত্র ৩ শতাংশ।

আর্থিক খাতের বর্তমান, ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণসহ চলমান করোনা এবং করোনা-পরবর্তী করণীয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি আরিফ খান।

তিনি বলেন, ম্যানেজমেন্টের ওপর পরিচালনা পর্ষদের নিয়মবহির্ভূত এবং অনৈতিক হস্তক্ষেপই ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের মূল কারণ। পরিচালনা পর্ষদ এবং ম্যানেজমেন্টে সুশাসনের চর্চা, খেলাপি ঋণের হার কম এবং সিদ্ধান্তের বিকেন্দ্রীকরণ আইডিএলসি ফাইন্যান্সকে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুটা হলেও আলাদা করে দিয়েছে। সব সময় চেষ্টা করি সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে। তবে আইডিএলসি আসলে কতখানি আলাদা সে বিচারের ভার গ্রাহকের ওপর ছেড়ে দেব।

আইডিএলসি আমানতকারীদের বিশ্বাস ধরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের গ্রাহককে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি। অনেক যাচাই বাছাই করে ঋণ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কেউ প্রভাবিত করতে পারে না।

যখন পছন্দমতো ঋণ ও আমানতের সুদহার নির্ধারণ করা যায়, তখন আয়-ব্যয় ঠিক রেখে যেমন প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা যায় তেমনি খেলাপি ঋণও কম থাকে। আর খেলাপি ঋণ কম থাকলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে কোনো বাধা থাকে না। কোনো কারণে গ্রাহক আমানত ফেরত চাইলে সঙ্গে সঙ্গে তা ফেরত দিতে পারি। এতে গ্রাহকের আস্থা অনেকগুণ বেড়ে যায়। আইডিএলসি ফাইন্যান্স এটাই করে থাকে। সে কারণে ৩৫ বছরের দীর্ঘ এ সময়ে আইডিএলসি এবং গ্রাহক সম্পর্কে এতটুকু ফাটল ধরেনি। ফলে আমানতকারীদের বিশ্বাসের জায়গায় রয়েছে আইডিএলসি।’

ঋণদান পদ্ধতি এবং তদারকির বিষয়ে আরিফ খান বলেন, ঋণ বিতরণের সময় সতর্কতা, গ্রাহকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং নিজেদের অফিসে কাজ না করে গ্রাহকদের ব্যবসার কাজে সহায়তা করি। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্র্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট দিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করতে হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ কোনো অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। বোর্ড নীতিমালা তৈরির জন্য বৈঠক করতে পারে। কিন্তু বোর্ড কখনও ঋণ বিতরণে সুপারিশ করতে পারে না।

এছাড়া কর্মী নিয়োগের সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পরিচালনা পর্ষদের কোনো ব্যক্তি সুপারিশ বা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। যোগ্য লোককে কোম্পানিতে নিয়োগ দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ঋণ অনুমোদনের আগে একাধিক লোকের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। যাতে একজন কর্মকর্তা শুধু নিজের সিদ্ধান্তে ঋণ বিতরণ করতে না পারেন।

একজন এমডি কেমন হওয়া উচিত- এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফ খান বলেন, কোনো ব্যাংক বা নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাথা হল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এই ব্যক্তিটি যদি অসৎ হয় তাহলে বাকি সব নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং এমডিকে সততার সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থে কাজ করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ যদি কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত চাপ সৃষ্টি করে তাহলে আমি মনে করি এমডির চাকরিটা ছেড়ে দেয়া উচিত।

সদ্য বন্ধ ঘোষণা করা পিপলস লিজিংয়ের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণের ৬০ শতাংশ। কিন্তু সেখানে কি এমডি ছিল না? সেখানে কি বোর্ড ছিল না? সিএফও (প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা) ছিল না? তাদের মধ্যে কেউ চাকরি ছেড়েছেন? কেউ বলেছেন এসব কাজগুলো (অপকর্ম) ভেতরে ভেতরে হচ্ছে? ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের কথা কেউ কখনও বলেছেন?

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমন কি কোনো অন্যায় করা সম্ভব যেটা এমডি এবং সিএফও জানেন না? যখনই পরিচালনা পর্ষদ অবৈধ চাপ সৃষ্টি করবে তখনই তাদের চাকরিটা ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ একজন এমডি একপক্ষের চাকরি করেন না। পরিচালনা পর্ষদ, শেয়ারহোল্ডার, আমানতকারী, সরকার এবং সমাজ- এই পাঁচ পক্ষের চাকরি করেন এমডি। সুতরাং তাকে উল্লিখিত সব পক্ষের স্বার্থ দেখতে হবে।

তিনি বলেন, লিজ ফাইন্যান্স সবার আগে শুরু করেছি আমরা। ব্র্যাকের পরে সব চেয়ে বেশি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে আইডিএলসি। এটা কেউ চিন্তা করেনি যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। দেশে সিকিউরিটাইজড বন্ড প্রথম ইস্যু করেছে আইডিএলসি এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলারের ভেঞ্চার ফান্ড সবার আগে চালু করেছে আইডিএলসি। সব সময় নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করি। ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও বেশি ফাইন্যান্স করব।

করোনা-পরবর্তী সময়ে সবাইকে পরিচালনা ব্যয়ের দিকে কড়া নজর দিতে হবে। ব্যয় যাদের অনেক বেশি তারা ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। পরিচালনা ব্যয় বেড়ে গেলে সেটা চার্জ করা হয় গ্রাহকের ওপর। সুতরাং পরিচালনা ব্যয় কমাতে পারলে ঋণের সুদহার কমাতে পারব। একই সঙ্গে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ কমাতে পারলেও ঋণের সুদহার কমানো যায়। ব্যয় কমাতে হলে যত্রতত্র শাখা খোলা যাবে না। অনলাইন বিজনেস করতে হবে।

আইডিএলসি’র এমডি বলেন, যেসব নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খুবই খারাপ তাদের কঠোর মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখতে হবে। যে অনিয়ম ঘটে গেছে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আগামীতে আরও অনেকে এ ধরনের কাজ করবে। তার চেয়ে বড় বিষয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিকভাবে মনিটরিংয়ের প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংককে সবচেয়ে বেশি কঠোর হতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে পূর্বে দুর্নীতিগ্রস্তদের সঙ্গে সম্পর্কিত কাউকেই বোর্ডে রাখা যাবে না। যোগ্য লোক নির্বাচন করে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্বপাপের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। তাদের যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ছোট ফান্ড নিয়ে ব্যবসা করেন, তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করব। এটার মাধ্যমে অনেক নারী উদ্যোক্তাকে ঋণ দিতে পারব।

ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২০ হাজার, ৫০ হাজার এবং এক লাখ টাকার ছোট ঋণ দেবে আইডিএলসি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে আইডিএলসির। অনেকেই বলে থাকেন মহিলাদের ঋণ দিয়ে ফেরত পাওয়া যায় না। কিন্তু আইডিএলসি’র এই প্রকল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক শতাংশেরও নিচে।