গোমতীর খনন ছাড়া মিলবে না সুফল
jugantor
কুমিল্লা-ত্রিপুরা নৌপথে বাণিজ্য
গোমতীর খনন ছাড়া মিলবে না সুফল

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা-ত্রিপুরা নৌপথে কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচলে বড় অন্তরায় নদীর নাব্য সংকট। এক সময়ের খড়স্রোতা গোমতী নদী দিয়ে বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করলেও সময়ের পরিক্রমায় নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সরকার স্রোত এবং গতিহীন এ নদীপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মাঝে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনারমুড়া এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একটি সিমেন্টবাহী কার্গো পাঠানো হয়েছে।

তবে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, ছোট আকৃতির এ কার্গো দাউদকান্দি থেকে ১০ টন সিমেন্ট নিয়ে সোনামুড়া পৌঁছাতে দু’দিন সময় লেগেছে। আর প্রায় ৮৫ কিলোমিটারের এ নদীপথে ১৪টি স্পটে নাব্য সংকট এবং নদীর ওপর ২০টি সেতুর কারণে কার্গোটি বাধার সম্মুখীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি ভরপুর থাকা অবস্থায়ই ছোট আকারের কার্গো আটকে যাচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে এ নদীপথে পণ্যবাহী কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ত্রিপুরার সঙ্গে কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য চলত খরস্রোতা গোমতী নদীর নৌপথেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সীমান্ত আইনের ফলে তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি দু’দেশের সরকার গোমতী নদীপথে আবার আমদানি-রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। কুমিল্লা এবং ত্রিপুরার মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রফতানির রুট হিসেবে নৌপথ কেমন হবে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য পরীক্ষামূলক ১০ টন সিমেন্ট বোঝাই একটি কার্গো পাঠানো হয়েছে। জেলার দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া এলাকায় এ সিমেন্ট পাঠানো হয়। কার্গোটি পৌঁছতে সময় লেগেছে ২ দিন। আর নদীপথে নাব্য সংকটে নৌযানটি আটকে গেছে প্রায় ১৪টি স্থানে। ৫ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দি থেকে সিমেন্ট বোঝাই এ কার্গো ভারতের ত্রিপুরার সোনামুড়ায় প্রবেশ করে। সরু নদীতে নাব্য সংকটের ফলে ভারি পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন কার্গো সংশ্লিষ্টরা। এ নৌপথে রয়েছে কম উচ্চতার ১৮টি সড়ক সেতু ও ২টি রেল সেতু, যা বড় নৌযান চলাচলে বাধার কারণ হতে পারে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল আর নদীতে জোয়ার থাকার পরও ছোট একটি নৌযান ১৪টি স্পটে আটকে গেছে। আর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে যখন পানি থাকে না তখন কীভাবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে-এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নদীর নাব্য সংকটই সবকিছুর অন্তরায় বলে মনে করছে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, গোমতী নদীর পানিপ্রবাহ সারা বছর একরকম থাকে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নদীকে যদি সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী করতে হয়, তাহলে নদী পুনর্খনন করতে হবে।

কুমিল্লার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল বলেন, এ নৌপথে আমদানি-রফতানি শুরু হলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে, এখানকার ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। কারণ, বিদেশে পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি হবে, আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। তবে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নৌপথে সম্প্রসারিত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, তেমনি গোমতীর পানিতে নির্ভরশীল কৃষিতে আসবে আমূল পরিবর্তন। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক বলেন, ভারত সরকার এ নৌপথে বাণিজ্যের জন্য বেশ আগ্রহী। কারণ, বিবিরবাজার স্থলবন্দরের পাশে নৌবন্দর হলে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে বিশেষ সহায়ক হবে। ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা হলে নদীর পানিপ্রবাহ বাড়বে। গোমতী নদীতে পণ্য রফতানির সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হবেন।

কুমিল্লা-ত্রিপুরা নৌপথে বাণিজ্য

গোমতীর খনন ছাড়া মিলবে না সুফল

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা-ত্রিপুরা নৌপথে কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচলে বড় অন্তরায় নদীর নাব্য সংকট। এক সময়ের খড়স্রোতা গোমতী নদী দিয়ে বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করলেও সময়ের পরিক্রমায় নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সরকার স্রোত এবং গতিহীন এ নদীপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মাঝে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনারমুড়া এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একটি সিমেন্টবাহী কার্গো পাঠানো হয়েছে।

তবে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, ছোট আকৃতির এ কার্গো দাউদকান্দি থেকে ১০ টন সিমেন্ট নিয়ে সোনামুড়া পৌঁছাতে দু’দিন সময় লেগেছে। আর প্রায় ৮৫ কিলোমিটারের এ নদীপথে ১৪টি স্পটে নাব্য সংকট এবং নদীর ওপর ২০টি সেতুর কারণে কার্গোটি বাধার সম্মুখীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি ভরপুর থাকা অবস্থায়ই ছোট আকারের কার্গো আটকে যাচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে এ নদীপথে পণ্যবাহী কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ত্রিপুরার সঙ্গে কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য চলত খরস্রোতা গোমতী নদীর নৌপথেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সীমান্ত আইনের ফলে তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি দু’দেশের সরকার গোমতী নদীপথে আবার আমদানি-রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। কুমিল্লা এবং ত্রিপুরার মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রফতানির রুট হিসেবে নৌপথ কেমন হবে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য পরীক্ষামূলক ১০ টন সিমেন্ট বোঝাই একটি কার্গো পাঠানো হয়েছে। জেলার দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া এলাকায় এ সিমেন্ট পাঠানো হয়। কার্গোটি পৌঁছতে সময় লেগেছে ২ দিন। আর নদীপথে নাব্য সংকটে নৌযানটি আটকে গেছে প্রায় ১৪টি স্থানে। ৫ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দি থেকে সিমেন্ট বোঝাই এ কার্গো ভারতের ত্রিপুরার সোনামুড়ায় প্রবেশ করে। সরু নদীতে নাব্য সংকটের ফলে ভারি পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন কার্গো সংশ্লিষ্টরা। এ নৌপথে রয়েছে কম উচ্চতার ১৮টি সড়ক সেতু ও ২টি রেল সেতু, যা বড় নৌযান চলাচলে বাধার কারণ হতে পারে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল আর নদীতে জোয়ার থাকার পরও ছোট একটি নৌযান ১৪টি স্পটে আটকে গেছে। আর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে যখন পানি থাকে না তখন কীভাবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে-এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নদীর নাব্য সংকটই সবকিছুর অন্তরায় বলে মনে করছে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, গোমতী নদীর পানিপ্রবাহ সারা বছর একরকম থাকে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নদীকে যদি সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী করতে হয়, তাহলে নদী পুনর্খনন করতে হবে।

কুমিল্লার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল বলেন, এ নৌপথে আমদানি-রফতানি শুরু হলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে, এখানকার ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। কারণ, বিদেশে পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি হবে, আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। তবে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নৌপথে সম্প্রসারিত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, তেমনি গোমতীর পানিতে নির্ভরশীল কৃষিতে আসবে আমূল পরিবর্তন। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক বলেন, ভারত সরকার এ নৌপথে বাণিজ্যের জন্য বেশ আগ্রহী। কারণ, বিবিরবাজার স্থলবন্দরের পাশে নৌবন্দর হলে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে বিশেষ সহায়ক হবে। ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা হলে নদীর পানিপ্রবাহ বাড়বে। গোমতী নদীতে পণ্য রফতানির সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হবেন।