কুষ্টিয়ায় ৫শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে নিয়েছে চক্র
jugantor
কুষ্টিয়ায় ৫শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে নিয়েছে চক্র

  এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় নানা কায়দায় সরকারি-বেসরকারি খাল-বিল, নদী, জলাশয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখলে নিচ্ছে একটি চক্র। কুষ্টিয়া শহরের প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রের বিরুদ্ধে। আর এর পেছনে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা।

জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে নিজেরাই ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে অন্যের জায়গা-জমি রেজিস্ট্রি করে জোরপূর্বক দখল করে আসছিল। তারা কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় মহিবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রি করে দেয়। একইভাবে চক্রটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ ভূসম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিল।

এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদ চক্রের ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এ মামলায পুলিশের হাতে গ্রেফতার হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলাম স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, জালিয়াত চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। মহিবুল আরও জানান, জমি আত্মসাতের পরিকল্পনায় চক্রের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করে। এর মধ্যে দুটি বৈঠকে হাজী রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাজী রবিউল আমাকে এ মর্মে নিশ্চিত করেন যে, জমি রেজিস্ট্রির পর ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার পাশাপাশি আরও ১ কোটি টাকা দেয়া হবে। এই লোভে আমি অর্থ বিনিয়োগ করি।

গত বছর ১০ জুন সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মালিকানা স্বত্ব দখলীয় ও রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর নির্মিত ২২ দোকান বিশিষ্ট দ্বি-তলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। জমির প্রকৃত মালিকের অভিযোগ, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের যোগসাজশে তার জমি জবরদখল করেছে ‘কেএনবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লি.’ নামক কারখানার মালিক কামরুজ্জামান। তবে ওই শিল্পপতির দাবি, জমিটি তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে ইজারা সূত্রে পেয়েছেন। এ ঘটনায় রাকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে আড়াই কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শিল্পপতি কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের আরও তিন কর্মকর্তার নামে মামলা করেন। তবে জেলা পরিষদের দাবি, জমিটি তাদের মালিকানাভুক্ত। যদিও ভূমি অফিসের রেকর্ড সূত্রের বরাত দিয়ে ভূমি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৫০ বছরের রেকর্ড মতে ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে জমি থেকে রাজস্ব সংগৃহীত হচ্ছে। হঠাৎ করে জেলা পরিষদের দাবি করার তথ্যের কোনো সত্যতা তাদের কাছে নেই।

মার্কেট ভেঙে জমি জবরদখলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আজম বলেন, জেলা পরিষদ কর্তৃক কোনো উচ্ছেদের প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন করা হয়। তড়িঘড়ি করে ইজারা প্রাপ্ত শিল্পপতি কামরুজ্জামান নিজেই তার লোকজন নিয়ে মার্কেটটি ভেঙে অপসারণ করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ করা ২১২টি হাউজিং প্লট বিধিবহির্ভূতভাবে দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া জেলা পরিষদ নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মহা শ্মশানসংলগ্ন গড়াই নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ইকোপার্কের নামে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বিন্দুমাত্র এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি নিরপরাধ। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সঠিক তদন্ত হলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আমি জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ও জেলা পরিষদের পদ ছেড়ে দেব।

কুষ্টিয়ায় ৫শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে নিয়েছে চক্র

 এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় নানা কায়দায় সরকারি-বেসরকারি খাল-বিল, নদী, জলাশয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখলে নিচ্ছে একটি চক্র। কুষ্টিয়া শহরের প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রের বিরুদ্ধে। আর এর পেছনে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা।

জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে নিজেরাই ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে অন্যের জায়গা-জমি রেজিস্ট্রি করে জোরপূর্বক দখল করে আসছিল। তারা কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২২ শতক জমির ভুয়া মালিক সেজে মাত্র ৭৭ লাখ টাকায় মহিবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রি করে দেয়। একইভাবে চক্রটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ ভূসম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিল।

এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদ চক্রের ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এ মামলায পুলিশের হাতে গ্রেফতার হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলাম স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, জালিয়াত চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। মহিবুল আরও জানান, জমি আত্মসাতের পরিকল্পনায় চক্রের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করে। এর মধ্যে দুটি বৈঠকে হাজী রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাজী রবিউল আমাকে এ মর্মে নিশ্চিত করেন যে, জমি রেজিস্ট্রির পর ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার পাশাপাশি আরও ১ কোটি টাকা দেয়া হবে। এই লোভে আমি অর্থ বিনিয়োগ করি।

গত বছর ১০ জুন সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার রাকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মালিকানা স্বত্ব দখলীয় ও রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর নির্মিত ২২ দোকান বিশিষ্ট দ্বি-তলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। জমির প্রকৃত মালিকের অভিযোগ, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের যোগসাজশে তার জমি জবরদখল করেছে ‘কেএনবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লি.’ নামক কারখানার মালিক কামরুজ্জামান। তবে ওই শিল্পপতির দাবি, জমিটি তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে ইজারা সূত্রে পেয়েছেন। এ ঘটনায় রাকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে আড়াই কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শিল্পপতি কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের আরও তিন কর্মকর্তার নামে মামলা করেন। তবে জেলা পরিষদের দাবি, জমিটি তাদের মালিকানাভুক্ত। যদিও ভূমি অফিসের রেকর্ড সূত্রের বরাত দিয়ে ভূমি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৫০ বছরের রেকর্ড মতে ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে জমি থেকে রাজস্ব সংগৃহীত হচ্ছে। হঠাৎ করে জেলা পরিষদের দাবি করার তথ্যের কোনো সত্যতা তাদের কাছে নেই।

মার্কেট ভেঙে জমি জবরদখলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আজম বলেন, জেলা পরিষদ কর্তৃক কোনো উচ্ছেদের প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন করা হয়। তড়িঘড়ি করে ইজারা প্রাপ্ত শিল্পপতি কামরুজ্জামান নিজেই তার লোকজন নিয়ে মার্কেটটি ভেঙে অপসারণ করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ করা ২১২টি হাউজিং প্লট বিধিবহির্ভূতভাবে দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া জেলা পরিষদ নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মহা শ্মশানসংলগ্ন গড়াই নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ইকোপার্কের নামে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বিন্দুমাত্র এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি নিরপরাধ। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সঠিক তদন্ত হলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আমি জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ও জেলা পরিষদের পদ ছেড়ে দেব।