ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন

মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে উত্তেজনা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর ও অপর গ্রুপের নেতৃত্বে কফিলউদ্দিন আহম্মেদ। এ আসনে নয়জন মনোনয়নপত্র কিনলেও মূলত মাঠে রয়েছেন এরা দু’জনই। শনিবার গুলশান কার্যালয়ে সংঘর্ষের পর এদের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিদিনই এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। হাইকমান্ড দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এদিকে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে শুরু করেছেন কাদা ছোড়াছুড়ি। হাইকমান্ডের কাছে দিচ্ছেন লিখিত অভিযোগ। মনোনয়ন পেতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকায় মতবিনিময় করছেন। নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর চেষ্টা করছেন তারা। সবমিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি এ আসনে বিএনপি অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে উপনির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার চলাকালে জাহাঙ্গীর ও কফিলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। মৌখিকভাবে কেন্দ্রীয় তিন নেতাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনও তারা তদন্তের কাজ শুরু করেননি। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করেনি বিএনপি। তফসিল ঘোষণার পর তা ঘোষণা করা হবে।

সূত্র জানায়, গুলশান কার্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করছেন জাহাঙ্গীর ও কফিল সমর্থকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাক্ষাৎকারের দিন দুপুরের পর তারা গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর কফিলের সমর্থকরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তাদের কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কফিল সমর্থকরা তাদের ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরে আমরাও তাদের ধাওয়া করি। এরপর কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কফিল সমর্থকরাই প্রথমে এ ঘটনার সূত্রপাত করে। তবে কফিল সমর্থকদের দাবি, জাহাঙ্গীর বহিরাগতদের দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এ আসনের অন্তর্গত সাতটি থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ-সংগঠনের একাংশ জাহাঙ্গীরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে থানা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের একাংশ কফিলের পক্ষে রয়েছে। স্থানীয় নেতাদের দিয়ে হাইকমান্ডের কাছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে। জাহাঙ্গীর ও কফিলকে মনোনয়ন দিতে নিজ নিজ সমর্থকরা আহ্বান জানাচ্ছেন। সর্বশেষ সাত থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা এসএম জাহাঙ্গীরকে এ আসনে মনোনয়ন দিতে কেন্দ্রে লিখিত আবেদন করেছেন। এর আগে গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির কয়েক কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে কেন্দ্রে লিখিত আবেদন করেন।

জানতে চাইলে এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দেড় যুগের বেশি এ এলাকার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছেও আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। এসব বিবেচনা করে হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, এ আসনের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী তাদের মধ্যেও কোনো বিভেদ নেই। যারা দলের ঐক্য চান না তারা নানাভাবে আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশী এম কফিল উদ্দিন বলেন, আমি এ এলাকার স্থানীয়। মামলা-নির্যাতন উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের পাশে আছি। আশা করি দল সবকিছু মূল্যায়ন করে স্থানীয় হিসেবে মনোনয়ন দেবে। কোনো বহিরাগতকে যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত